
কক্ষপথ
শেয়ার করুন
লেখক: Svetlana Velhush

কক্ষপথ
২০২৬ সালের মার্চ মাসে মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় রচিত হয়। স্পেসএক্স (SpaceX) তাদের সপ্তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন বা আইএফটি-৭ (IFT-7) মিশনের মাধ্যমে এক অভাবনীয় প্রযুক্তিগত সাফল্য অর্জন করেছে। এই অভিযানে দুটি বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত স্টারশিপ (Starship) মহাকাশযান পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে সফলভাবে একে অপরের সাথে সংযুক্ত হতে সক্ষম হয়।
এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় মহাকাশযান দুটি কয়েক টন তরল মিথেন এবং অক্সিজেন এক যান থেকে অন্য যানে সফলভাবে স্থানান্তর করেছে। এই ঘটনাটি কেবল একটি সফল পরীক্ষা নয়, বরং এটি তাত্ত্বিক মহাকাশ বিজ্ঞান থেকে ব্যবহারিক গভীর মহাকাশ অভিযানের দিকে যাত্রার একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে দূরবর্তী গ্রহে মানুষের পৌঁছানোর স্বপ্ন আরও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠল।
প্রযুক্তিগতভাবে একটি রকেট মূলত একটি বিশাল জ্বালানি ট্যাঙ্কের মতো কাজ করে। পৃথিবীর শক্তিশালী মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কাটিয়ে কক্ষপথে পৌঁছাতেই একটি স্টারশিপের প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি জ্বালানি খরচ হয়ে যায়। ফলে চাঁদ বা মঙ্গলের মতো দূরবর্তী গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য মহাকাশযানের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি অবশিষ্ট থাকে না, যা দীর্ঘকাল ধরে মহাকাশ বিজ্ঞানের একটি বড় বাধা ছিল।
কক্ষপথে জ্বালানি ভরার এই নতুন প্রযুক্তিটি পৃথিবীকে কেন্দ্র করে এক ধরনের 'মহাকাশ জ্বালানি স্টেশন' তৈরির পথ প্রশস্ত করেছে। এখন থেকে একটি স্টারশিপ ট্যাঙ্কার হিসেবে কক্ষপথে অবস্থান করতে পারবে। পরবর্তীতে অন্য একটি যাত্রী বা মালবাহী স্টারশিপ সেখানে গিয়ে পুনরায় জ্বালানি সংগ্রহ বা 'ফুল ট্যাঙ্ক' করে মহাকাশের গভীরে তার যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারবে।
মহাশূন্যের ওজনহীন বা মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে তরল পদার্থ স্থানান্তর করা অত্যন্ত জটিল একটি কাজ। পৃথিবীতে মাধ্যাকর্ষণের কারণে তরল পদার্থ সহজেই পাত্রের নিচে জমা হয় এবং পাম্পের মাধ্যমে তা সরানো যায়। কিন্তু মহাকাশে তরল পদার্থ কোনো নির্দিষ্ট স্থানে স্থির না থেকে বুদবুদ আকারে এলোমেলোভাবে ভাসতে থাকে, যা স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে অসম্ভব করে তোলে।
এই পদার্থবিজ্ঞানগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্পেসএক্স 'মাইক্রো-অ্যাক্সিলারেশন' বা ক্ষুদ্র ত্বরণ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। এই প্রক্রিয়ায় মহাকাশযান দুটির ম্যানুভারিং ইঞ্জিনগুলো সামান্য সময়ের জন্য চালু করে অত্যন্ত ক্ষীণ কৃত্রিম মাধ্যাকর্ষণ তৈরি করা হয়। এই সামান্য বলই তরল জ্বালানিকে নির্দিষ্ট দিকে বা ফুয়েল ইনটেকের দিকে ঠেলে দিতে সাহায্য করে, ফলে পাম্পের মাধ্যমে তা স্থানান্তর করা সম্ভব হয়।
এই অভাবনীয় সাফল্যের পর ইলন মাস্ক তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ (X) উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে একটি পোস্ট করেন। তিনি এই পর্যায়টিকে স্টারশিপ প্রোগ্রামের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এবং জটিল ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মাস্কের মতে, কক্ষপথে জ্বালানি ভরার সক্ষমতা অর্জন না করলে মানুষের বিচরণ কেবল পৃথিবীর কক্ষপথেই সীমাবদ্ধ থাকত। এই অর্জনের মাধ্যমে মানবজাতি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি 'আন্তঃগ্রহ প্রজাতি' হওয়ার পথে চূড়ান্তভাবে এগিয়ে গেল।
ক্রায়োজেনিক জ্বালানি স্থানান্তরের এই কৌশলটিকে মহাকাশ বিজ্ঞানের 'হলি গ্রেইল' বা পরম কাঙ্ক্ষিত প্রযুক্তি বলা হয়। স্টারশিপ যদি মহাকাশে পুনরায় জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পারত, তবে বিশাল পরিমাণ মালামাল বা যাত্রী নিয়ে চাঁদ কিংবা মঙ্গলে পৌঁছানো কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। এই পরীক্ষাটি প্রমাণ করেছে যে, মহাকাশে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এখন মানুষের আয়ত্তে।
এই মিশনের সাফল্য কেবল স্পেসএক্সের জন্য নয়, বরং নাসার (NASA) বহুল প্রতীক্ষিত 'আর্টেমিস ৩' (Artemis III) মিশনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০-এর দশকের শেষের দিকে চাঁদের বুকে পুনরায় নভোচারীদের অবতরণ করানোর যে বৈশ্বিক পরিকল্পনা রয়েছে, এই প্রযুক্তিগত বিজয় সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
পরিশেষে বলা যায়, ২০২৬ সালের এই সফল পরীক্ষাটি মহাকাশ ভ্রমণের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে। তরল জ্বালানি স্থানান্তরের এই জটিল প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত হয়েছে যে, মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা এখন আর কেবল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি নয়। এটি আধুনিক প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য বিজয় যা মানবসভ্যতাকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
SpaceX Official: Технический отчет о завершении миссии IFT-7 и перекачке топлива
During today's EVA, the crew will install a mod kit for the first of a pair of IROSA (Roll Out Solar Arrays), which will arrive later this year. Today's EVA will prepare the 2A power channel, with EVA 95 preparing the 3B channel.