মহাকাশ বর্জ্যের সম্ভাব্য আঘাতের কারণে শেনঝৌ-২০ প্রত্যাবর্তন স্থগিত: সম্মিলিত সতর্কতা প্রয়োজন

সম্পাদনা করেছেন: Tetiana Martynovska 17

Safety First: Shenzhou-20 Return postponed: The China Manned Space Agency has confirmed that the Shenzhou-20 spaceship may have been hit by a small orbital debris object. Officials are conducting impact assessments and risk analyses to evaluate the situation. Updates will follow.

Image
316
Reply

সুরক্ষা প্রথমে: Shenzhou-20 এর প্রত্যাবর্তন স্থগিত করা হয়েছে

মহাকাশের কক্ষপথে ভেসে থাকা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুর সম্ভাব্য আঘাতে চীনের শেনঝৌ-২০ মহাকাশযানের পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের নির্ধারিত সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। চীন ম্যানড স্পেস এজেন্সি (CMSA) বুধবার এই ঘোষণা করে, যার ফলে নভোচারীদের নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার জন্য নতুন কোনো সময়সূচি এখনো জানানো সম্ভব হয়নি। এই অপ্রত্যাশিত স্থগিতাদেশ মহাকাশ অভিযানের স্থিতিশীলতা এবং মানবজাতির মহাকাশযাত্রার প্রতি আমাদের সম্মিলিত মনোযোগের প্রয়োজনীয়তাকে জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

Shenzhou-20-এর প্রত্যাবর্তনটি মহাশূন্য বর্জ্যের সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে বিলম্বিত হয়েছে।

শেনঝৌ-২০ মিশনের তিন নভোচারী, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন কমান্ডার চেন ডং, এপ্রিল মাসে তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছিলেন এবং সেখানে প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত করেছেন। নভেম্বরের ৫ তারিখে তাদের পৃথিবীতে ফিরে আসার কথা থাকলেও, এই বিলম্ব মহাকাশের পরিবেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। মিশনের অংশ হিসেবে নভোচারীরা মহাকাশ স্টেশনে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন এবং চারবার সফল স্পেসওয়াকও করেছেন। তাদের স্থলাভিষিক্ত দল, শেনঝৌ-২১ এর নভোচারীরা ইতোমধ্যে শনিবার স্টেশনে পৌঁছে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্ষপথে থাকা বর্জ্য, যা মহাকাশ আবর্জনা নামেও পরিচিত, তা সক্রিয় মহাকাশ সম্পদের জন্য এক বিরাট বিপদ। সিনিয়র মহাকাশ বিশেষজ্ঞ পাং ঝিহাও-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পরিত্যক্ত মহাকাশযান এবং রকেটের অংশবিশেষ কক্ষপথের বর্জ্যের প্রধান উৎস, যা মোট বর্জ্যের ৪০ শতাংশেরও বেশি। উপরন্তু, মহাকাশ অভিযানের সময় ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে ফেলে দেওয়া ছোট ছোট বস্তু, যেমন নাট-বল্টু বা সোলার প্যানেলের টুকরো, মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। এই ক্ষুদ্র কণাগুলো যখন ঘণ্টায় সাত থেকে দশ কিলোমিটার বেগে ছোটে, তখন তাদের গতিশক্তি ভয়াবহ আকার ধারণ করে; এক সেন্টিমিটার আকারের একটি টুকরো একটি গ্রেনেডের শক্তির সমান আঘাত হানতে পারে, যা মহাকাশযানের কাঠামোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এই ঘটনাটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং মহাকাশের সীমিত সম্পদের প্রতি আমাদের সম্মিলিত দৃষ্টিভঙ্গির একটি আয়না। মহাকাশযানগুলোর ওপর এই ধরনের আঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধির অর্থ হলো, আমাদের গ্রহের চারপাশে বিদ্যমান পরিবেশের প্রতি আরও বেশি সচেতনতা প্রয়োজন। অতীতের ঘটনা, যেমন ২০২২ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার সয়ুজ এমএস-২২ মহাকাশযানে কুলিং সিস্টেম লিক হওয়া, যা একটি মাইক্রোমিটিওরয়েডের আঘাতের কারণে ঘটেছিল, তা দেখায় যে এই ধরনের ঝুঁকি নতুন নয়। এই পরিস্থিতিতে, কর্তৃপক্ষ ঝুঁকি এড়াতে 'প্ল্যান বি' সক্রিয় করতে পারে, যেখানে পৃথিবীতে অপেক্ষারত একটি ব্যাকআপ মহাকাশযান ব্যবহার করা হতে পারে। মহাকাশ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং নভোচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।

18 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Space.com

  • China's Shenzhou-20 return mission delayed due to space debris impact

  • Chinese astronauts face delayed return to Earth after spacecraft possibly hit by small debris

  • China's Shenzhou 21 docks with space station, sets the country's own speed record

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।