এবং তারা উড়ান শুরু করেছে! Shenzhou-21 মহাকাশযানটি Long March 2F Y21 রকেট দ্বারা চালিত, ঠিক এখন জিউচুয়ান থেকে উৎক্ষেপণ হয়েছে এবং এতে তিনজন নভোচারী ক্রু রয়েছে।
চীন মহাকাশ গবেষণায় তাদের অগ্রগতি আরও সুদৃঢ় করেছে শেনঝৌ-২১ মহাকাশযান সফলভাবে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে। এই অভিযানে তিনজন নভোচারী বা তাইকোনাটকে চীনের তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যেখানে তারা ছয় মাস অবস্থান করবেন। উৎক্ষেপণটি ২০২৫ সালের ৩১শে অক্টোবর চীনের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে সম্পন্ন হয়। মহাকাশযানটির ভর প্রায় ৮,১০০ কিলোগ্রাম এবং এটি লং মার্চ ২এফ/জি রকেটের সাহায্যে মহাকাশে যাত্রা করে। এটি চীনের ১৬তম মনুষ্যবাহী মহাকাশ অভিযান এবং শেনঝৌ কর্মসূচির অধীনে ২১তম মিশন হিসেবে চিহ্নিত।
Shenzhou-21 আজ Zhang Lu, Wu Fei এবং Zhang Hongzhang-এর সাথে লঞ্চ হচ্ছে।
এই মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন কমান্ডার ঝাং লু, যিনি পূর্বে শেনঝৌ-১৫ মিশনেও অংশ নিয়েছিলেন। তার সঙ্গে রয়েছেন ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার উ ফেই, যিনি ১৯৯৩ সালে জন্মগ্রহণ করে চীনের সর্বকনিষ্ঠ তাইকোনাট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন, এবং মিশন বিশেষজ্ঞ ঝাং হংঝাং। এই তিনজনের ছয় মাসের কক্ষপথে অবস্থানকালে মোট ২৭টি বৈজ্ঞানিক ও ফলিত গবেষণা প্রকল্প পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে। এই গবেষণাগুলির মধ্যে মহাকাশ জীবন বিজ্ঞান, জৈবপ্রযুক্তি, মহাকাশ চিকিৎসা, এবং মাইক্রোগ্র্যাভিটি ফ্লুইড ফিজিক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি অন্তর্ভুক্ত। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এই অভিযানে প্রথমবারের মতো চীন চারটি ইঁদুরকে মহাকাশে পাঠিয়েছে, যা মহাকর্ষের অভাব এবং সীমিত স্থানে স্তন্যপায়ী প্রাণীর আচরণগত পরিবর্তন অধ্যয়নের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এই অভিযানটি চীনের বৃহত্তর মহাকাশ কৌশলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মনুষ্যবাহী অবতরণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে পরিচালিত হচ্ছে। চীন ম্যানড স্পেস এজেন্সি (সিএমএসএ)-এর মুখপাত্র ঝাং জিংবো নিশ্চিত করেছেন যে চন্দ্রাভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা ও উন্নয়নের প্রতিটি ধাপ মসৃণভাবে এগোচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য লং মার্চ ১০ রকেট, চন্দ্র অবতরণ যান লানইউয়ে, এবং চন্দ্র রোভার তাংসুও সহ মূল হার্ডওয়্যারের প্রাথমিক প্রোটোটাইপিং সম্পন্ন হয়েছে।
এই ধারাবাহিক সাফল্য চীনের ক্রমবর্ধমান মহাকাশ সক্ষমতার প্রতিফলন ঘটায় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি তাদের অঙ্গীকারকেও তুলে ধরে। ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ স্বাক্ষরিত একটি সহযোগিতা চুক্তির ভিত্তিতে, সিএমএসএ ভবিষ্যতে পাকিস্তানি নাগরিকদেরও তিয়ানগং স্টেশনে প্রশিক্ষণের জন্য প্রস্তুত করছে, যা বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্বের পথ প্রশস্ত করছে। নভোচারীরা কেবল বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেই মনোযোগ দিচ্ছেন না, বরং মহাকাশ স্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তি যাচাইয়ের কাজও সম্পন্ন করবেন। প্রতিটি সফল কক্ষপথ ভ্রমণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে, চীন মহাকাশ অনুসন্ধানে নিজেদের এক অগ্রণী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পথে অবিচল রয়েছে।