অ্যামাজন কর্পোরেশন তাদের লজিস্টিকস কার্যক্রমের অবিরাম উন্নতির লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। এরই অংশ হিসেবে, তারা ডেলিভারি কর্মীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সম্পন্ন উদ্ভাবনী স্মার্ট চশমা চালু করেছে। এই পদক্ষেপটি কেবল রুট ব্যবস্থাপনার চেয়েও বেশি কিছু—এটি 'শেষ মাইল' (last mile) লজিস্টিকসের ক্ষেত্রে রিয়েল-টাইম জ্ঞানীয় সহায়তার দিকে একটি বড় পরিবর্তনকে নির্দেশ করে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকায় এই ডিভাইসগুলির পাইলট পরীক্ষা চলছে, যার মূল লক্ষ্য হলো কুরিয়ারদের সম্পূর্ণ হাত-মুক্ত (hands-free) কাজের স্বাধীনতা দেওয়া এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা।
এই চশমাগুলির প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নেভিগেশন সংক্রান্ত নির্দেশনা সরাসরি কর্মীর দৃষ্টিসীমার মধ্যে প্রজেক্ট করা। এই উন্নত ব্যবস্থাটি কর্মীদের হেঁটে প্রাপকের দরজার কাছে নির্ভুলভাবে নিয়ে যায়, ফলে ক্রমাগত স্মার্টফোনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দূর হয়। বর্তমান ট্রায়াল পর্যায়ে শত শত চালক অংশগ্রহণ করছেন, এবং তাদের মূল্যবান মতামত সিস্টেমটির আরও সূক্ষ্ম সমন্বয়ের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। অ্যামাজন সক্রিয়ভাবে এই প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করছে, কারণ তারা মনে করে প্রযুক্তির সঙ্গে বাস্তব কাজের পরিবেশের সামঞ্জস্যই এই উদ্ভাবনের সাফল্যের চাবিকাঠি।
এই স্মার্ট চশমাগুলির কার্যকারিতা কেবল পথ দেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একাধিক অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করে। এগুলি পার্সেল শনাক্তকরণের ক্ষমতা দিয়ে সজ্জিত; যেমন, কার্গো বগির মধ্যে সঠিক জিনিসটি হাইলাইট করে দেখায়, যা মূল্যবান খোঁজার সময়কে কমিয়ে আনে। এর পাশাপাশি, সিস্টেমটি সম্ভাব্য বিপদ শনাক্তকরণের মাধ্যমে নিরাপত্তার মান উন্নত করে—উদাহরণস্বরূপ, কোনো এলাকায় আক্রমণাত্মক প্রাণী (aggressive animals) উপস্থিত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করে। সমন্বিত ক্যামেরাগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেলিভারির ছবি-প্রমাণ তৈরি করতে সাহায্য করে, যা যাচাইকরণ প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ করে তোলে। ভবিষ্যতে অ্যামাজন এই ক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে চালানের ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং আরও নির্ভুল বিপদ সতর্কতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অ্যামাজনের এই উদ্যোগটি শিল্প জগতে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ। ডিএইচএল (DHL) এবং বিএমডব্লিউ (BMW)-এর মতো বড় সংস্থাগুলিও ওয়্যারহাউস এবং পরিবহন কার্যক্রমকে উন্নত করার জন্য অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR)-তে প্রচুর বিনিয়োগ করছে। তারা এটিকে পরিচালন ব্যয় কমানো এবং গ্রাহক পরিষেবার মান বাড়ানোর একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে দেখছে। গবেষণা থেকে জানা যায় যে এআর-এর সফল সমন্বয় লজিস্টিকস কেন্দ্রগুলির কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে, দীর্ঘমেয়াদে বাছাই (sorting) এবং লোডিংয়ের সময় ত্রুটির সংখ্যা প্রায় 40% পর্যন্ত কমাতে পারে।
প্রযুক্তির বিকাশের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই চশমাগুলি ডেলিভারির সবচেয়ে জটিল এবং ব্যয়বহুল পর্যায়—যাকে 'শেষ 100 গজ' (last 100 yards) বলা হয়—তার অপটিমাইজেশনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। যদিও বর্তমানে প্রকল্পটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে না, এর কার্যকারিতার সম্ভাবনা বিশাল: প্রতিদিন শত শত পার্সেল প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে, প্রতিটি ডেলিভারিতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড বাঁচানো সম্ভব হলে, তা দ্রুত আরও বেশি অর্ডার সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি করে। তবে, যেকোনো যুগান্তকারী প্রযুক্তির মতোই, এটিকে কিছু বাধা অতিক্রম করতে হবে: যেমন ডিভাইসের ওজন, দৃষ্টি আকর্ষক ভিজ্যুয়াল প্রভাব এবং কর্মীদের নতুন এই সরঞ্জামটিকে সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করার মানসিক প্রস্তুতি।

