২০২৬ সালের ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি জাপানে অনুষ্ঠিত সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলগুলির পারফরম্যান্সের ফলাফল ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। এই যৌথ পরীক্ষাটি জাপানের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড, যার স্কোর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অপরিহার্য। জাপানের প্রভাবশালী সংবাদপত্র নিক্কেই এবং জাপানি এআই স্টার্টআপ লাইফপ্রম্পট যৌথভাবে এই পরীক্ষা পরিচালনা করে, যা জাপানে এআই রূপান্তরে লাইফপ্রম্পটের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরে।
পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপেনএআই (OpenAI) দ্বারা উন্নত সর্বশেষ মডেল জিপিটি-৫.২ থিংকিং (GPT-5.2 Thinking) ১৫টি প্রধান বিষয়ের উপর ১০০-এর মধ্যে ৯৬.৯ সামগ্রিক স্কোর অর্জন করেছে। এই স্কোর মানব পরীক্ষার্থীদের আনুমানিক গড় স্কোর ৫৮.১-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মডেলটি পরীক্ষিত ১৫টি বিষয়ের মধ্যে নয়টিতেই পূর্ণাঙ্গ স্কোর লাভ করে, যা পরিমাণগত বিষয়ে এর অসাধারণ দক্ষতা প্রমাণ করে। তুলনামূলকভাবে, গুগল (Google)-এর জেমিনি ৩.০ প্রো (Gemini 3.0 Pro) মডেলটি সামগ্রিকভাবে ৯১.৪ স্কোর নথিভুক্ত করেছে, যা এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিকে নির্দেশ করে। ওপেনএআই-এর মডেলগুলি ২০২৪ সালে ৬৬ এবং ২০২৫ সালে ৯১ স্কোর করেছিল, যা বার্ষিক উন্নতির একটি শক্তিশালী ধারাকে প্রতিফলিত করে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে এআই মডেলগুলি গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞানের মতো পরিমাণগত ক্ষেত্রগুলিতে অত্যন্ত পারদর্শী, যেখানে তারা প্রায় নিখুঁত ফলাফল দেখিয়েছে। তবে, মানববিদ্যা এবং স্থানিক যুক্তির ক্ষেত্রে তাদের সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়, বিশেষত বিশ্ব মানচিত্রের মতো জটিল গ্রাফিকাল তথ্য শনাক্তকরণে তারা ভুল করেছে। এই ফলাফলগুলি ইঙ্গিত দেয় যে বৃহৎ ভাষা মডেলগুলি কাঠামোগত ডেটা এবং গাণিতিক যুক্তি প্রক্রিয়াকরণে অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও, সূক্ষ্ম ভিজ্যুয়াল ব্যাখ্যা বা জটিল সাংস্কৃতিক বোধগম্যতার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইনফরম্যাটিক্স (NII)-এর তো-রোবো-কুন (To-Robo-kun) প্রকল্পের ক্ষেত্রেও ২০১৫ সালে অনুরূপ দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল।
প্রায় ৫০০,০০০ পরীক্ষার্থী এই দুই দিনের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, যার ফলাফল ৮১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং জুনিয়র কলেজ তাদের স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার জন্য ব্যবহার করবে। লাইফপ্রম্পট, যার প্রতিষ্ঠাতা সাতোশি এন্ডো, উল্লেখ করেছেন যে জিপিটি-৫.২ থিংকিং জাপানি ভাষায় লেখা তথ্য সংগঠিত করার ক্ষেত্রে এখনও দুর্বলতা দেখিয়েছে, যা মানব ভাষার সূক্ষ্মতা বোঝার ক্ষেত্রে এআই-এর বর্তমান অবস্থানকে নির্দেশ করে। এই পরীক্ষাটি জাপানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে লাইফপ্রম্পটের মতো স্টার্টআপগুলি এআই রূপান্তর (AX) পরিষেবা প্রদান করে শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই নতুন ফলাফলগুলি ইঙ্গিত দেয় যে এআই এখন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ একাডেমিক পরিবেশে প্রায় ত্রুটিহীন পারফরম্যান্সের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।




