স্মৃতির আঙিনায় আটলান্টিক: মারিও লুসিও প্রকাশ করলেন সংকলন ‘Mar e Terra’

সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One

Mario Lucio / Simentera - Tabankamor

কেপ ভার্দের সংগীতশিল্পী, সুরকার এবং লেখক মারিও লুসিও (Mário Lúcio) তার নতুন অ্যালবাম ‘Antologia Pessoal: Mar e Terra’ প্রকাশ করেছেন, যা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের জন্য পরিকল্পিত পাঁচটি অ্যালবামের সিরিজের শুভ সূচনা করল। ব্রাজিলের কোম্পানি নিকিতা মিউজিকের (Nikita Music) সহযোগিতায় এই প্রকল্পটি আটলান্টিক মহাসাগরকে ঘিরে আফ্রিকা ও ব্রাজিলের মধ্যে চলমান সংগীতের সেতুবন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করছে।

Mi Só - Teaser 1 - নতুন সঙ্গীত ভিডিও ১৯ এপ্রিল

এটি কেবল একটি অ্যালবাম নয়। এটি মূলত সমুদ্রঘেরা স্মৃতিপথের এক সংগীতের মানচিত্র।


আটলান্টিকের মিলনস্থল কেপ ভার্দে

এই সংকলনের সুরের মূর্ছনায় দ্বীপপুঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সংগীতের ধারাগুলো মিশে গেছে:

মর্ণা
ফুনানা
বাতুকে
কোলাডেইরা

সাথে রয়েছে:

জ্যাজ
লাতিন আমেরিকার সংগীত
এবং এমপিবি (MPB) — ব্রাজিলের জনপ্রিয় ধারার সেই সংগীত, যা ইউরোপীয় এবং আফ্রো-আটলান্টিক সংস্কৃতির মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে।

এভাবেই এমন এক সুরের সৃষ্টি হয়েছে যেখানে মহাসাগর কোনো দূরত্ব নয়, বরং দুই প্রান্তের যোগসূত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।


কণ্ঠস্বরের আটলান্টিক ভ্রাতৃত্ব

এই রেকর্ডিংয়ে ব্রাজিলের বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত শিল্পী অংশ নিয়েছেন:

Djavan
Milton Nascimento
Paulinho da Viola

বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলো জাভানের সাথে দ্বৈত কণ্ঠে গাওয়া গান ‘Hino a Gratidão’ — যা আটলান্টিকের দুই উপকূলকে সংযোগকারী সাংস্কৃতিক শিকড় ও যাত্রাপথের প্রতি এক সাঙ্গীতিক কৃতজ্ঞতা।

এই যৌথ প্রয়াসটি যেন দুই মহাদেশের মধ্যকার এক আলাপচারিতা।


শিকড়ে ফেরার সুর

মারিও লুসিও কেবল একজন শিল্পীই নন, তিনি আধুনিক কেপ ভার্দের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম কারিগরও বটে। তিনি ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এর আগে ‘সিমেন্তেরা’ (Simentera) নামক একটি ব্যান্ড গঠন করেছিলেন, যা আধুনিক মঞ্চে দেশীয় ঐতিহ্যের শাব্দিক সুরকে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

নতুন এই সংকলনটি সেই ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে চলেছে:

সংগীত যখন স্মৃতি
সংগীত যখন কৃতজ্ঞতা
সংগীত যখন সেতু

দ্বীপ এবং মহাদেশগুলোর মাঝে।

পরিচয়ের সূত্র হিসেবে ‘সাগর ও মাটি’

অ্যালবামের শিরোনাম — Mar e Terra (সাগর ও মাটি) — কেপ ভার্দের দ্বৈত সত্তাকে ফুটিয়ে তোলে:

সাগর যখন পথ
মাটি যখন শিকড়

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই সমন্বয়ই দ্বীপপুঞ্জটির সাংস্কৃতিক দৃঢ়তাকে রূপ দান করেছে।

এই প্রকল্পে কেবল একজন স্রষ্টার কণ্ঠস্বর নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক অঞ্চল হিসেবে আটলান্টিকের প্রতিধ্বনি শোনা যায়।

স্ট্রিমিং যুগে আটলান্টিক সংলাপ

২০২৫ সালে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম সংগীত বাজারের মর্যাদা পাওয়া ব্রাজিলের সংগীতের এক স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির সময়ে এই সংকলনটি মুক্তি পাচ্ছে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রসার আন্তঃসাগরীয় সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে এই ধরণের প্রকল্পগুলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একসাথে শোনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংগীত আবারও এক যাত্রাপথ হয়ে উঠেছে। তবে এবার তা ডিজিটাল মাধ্যমে।


বিশ্বের সুরে এই আয়োজন কী যোগ করল?

এটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, মহাসাগর ঠিক ততটাই স্বাভাবিকভাবে সংস্কৃতিকে সংযুক্ত করে, যতটা স্বাভাবিকভাবে তা উপকূলগুলোকে মেলায়।

কেপ ভার্দের সংগীত আজও আটলান্টিকের ভাষা হিসেবে ধ্বনিত হচ্ছে — যা মিলন, অভিবাসন এবং স্মৃতির এক মিলনমেলা।

আর এখানেই গিলবার্তো জিলের (Gilberto Gil) কথাগুলো বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে:

সংগীত হলো সেই শক্তি, যা মানুষকে একে অপরের সাথে যুক্ত করে।

আজ সেই শক্তি আবারও আটলান্টিক পাড়ি দিচ্ছে — কেপ ভার্দের দ্বীপগুলো থেকে ব্রাজিলের উপকূলে এবং তারপর সারা বিশ্বে।

4 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Tribuna do Sertão

  • Balai Kultural

  • Inforpress

  • Um Mar de Mar

  • Expresso das Ilhas

  • Educadora FM 107.5

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।