Pantanal JAM আধুনিক জাজ, প্রকৃতির শব্দ এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে একত্রিত করে।
পান্তানাল জ্যাম: যখন জ্যাজ সংগীত ও ব্রাজিলের জীববৈচিত্র্য মিলেমিশে একাকার
সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One
পান্তানাল জ্যাম (Pantanal Jam) নামক এই অনন্য মিউজিক্যাল-কনজারভেশন প্রকল্পটি আধুনিক জ্যাজ সংগীত এবং ব্রাজিলের পান্তানাল বায়োমের অকৃত্রিম ফিল্ড রেকর্ডিংয়ের এক বিস্ময়কর মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে এই প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে, যা বিশ্বজুড়ে সংগীতপ্রেমী ও পরিবেশবাদীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই প্রকল্পটি আমাদের প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গিকে আমূল বদলে দেয়; এখানে প্রকৃতি কেবল একটি নিষ্ক্রিয় পটভূমি নয়, বরং সংগীত সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় একজন সক্রিয় অংশীদার এবং সুরের সহ-রচয়িতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
কাদা | Pantanal Jam
এই সৃজনশীল উদ্যোগের মূলে রয়েছে ব্রাজিলের প্রখ্যাত মিউজিক্যাল এনসেম্বল 'আরবেম' (Urbem) এবং নিউ ইয়র্কের স্বনামধন্য ট্রোম্বোনিস্ট ও কম্পোজার রায়ান কেবারলে (Ryan Keberle)-এর এক অনন্য শৈল্পিক ঐক্য। তারা সম্মিলিতভাবে নয়টি মৌলিক সংগীত রচনা করেছেন, যেখানে বিশ্বের বৃহত্তম গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলাভূমি অঞ্চলের জলপ্রবাহের শব্দ, বাতাসের মন্দ্রধ্বনি, বিচিত্র পাখির ডাক এবং এই বিশাল বাস্তুসংস্থানের নিজস্ব 'নিঃশ্বাসের' বাস্তব রেকর্ডিংগুলো নিপুণভাবে গেঁথে দেওয়া হয়েছে। এই সুরগুলো শ্রোতাদের সরাসরি পান্তানালের গহীনে নিয়ে যায় এবং প্রকৃতির স্পন্দন অনুভব করতে সাহায্য করে।
রায়ান কেবারলে একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং বহুমুখী সংগীতশিল্পী, যাকে জ্যাজটাইমস (JazzTimes) তাদের সমালোচক জরিপে 'সেরা ট্রোম্বোনিস্ট' (Best Trombonist) হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। অন্যদিকে, আরবেম সরাসরি পান্তানাল অঞ্চলে গিয়ে মাঠপর্যায়ে দীর্ঘ সময় ধরে শব্দ সংগ্রহের কাজ পরিচালনা করেছে। এই সংগৃহীত প্রাকৃতিক শব্দগুলোই মূলত সংগীতের ছন্দ ও তালের মূল কাঠামো বা 'কঙ্কাল' হিসেবে কাজ করে, যার ওপর ভিত্তি করে শিল্পীরা তাদের সৃজনশীল ইম্প্রোভাইজেশন বা তাৎক্ষণিক সুরের খেলা পরিচালনা করেন। এই সমন্বয়টি সংগীতের এক নতুন ব্যাকরণ তৈরি করেছে।
এই মহৎ কর্মযজ্ঞের পেছনে একটি সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে। পান্তানাল জ্যাম এই অঞ্চলটিকে কেবল দূরবর্তী কোনো 'মনোরম প্রকৃতি' হিসেবে উপস্থাপন করে না, বরং এটিকে একটি জীবন্ত এবং সংবেদনশীল ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরে যা আমরা সরাসরি শুনতে পাই। যখন মানুষ এই শব্দগুলো শোনে, তখন তারা প্রকৃতির সাথে এক গভীর আত্মিক টান অনুভব করে। এর ফলে এই অমূল্য এবং সংকটাপন্ন বাস্তুসংস্থানকে আরও যত্ন সহকারে এবং গুরুত্বের সাথে রক্ষা করার একটি সামাজিক ও নৈতিক তাগিদ তৈরি হয়।
এই ইভেন্টটি পৃথিবীর সামগ্রিক ধ্বনিভাণ্ডারে এক নতুন এবং শক্তিশালী মাত্রা যোগ করেছে। এটি এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত যেখানে মানুষ প্রকৃতির 'বিষয়ে' গান লেখার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে প্রকৃতির 'সাথে' মিলে গান গাইতে শুরু করেছে এবং প্রকৃতির সৃজনশীলতাকে পূর্ণ মর্যাদা দিচ্ছে। পান্তানাল জ্যাম আমাদের নিরন্তর মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবী কখনো নীরব নয়, বরং এটি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সুরের ইম্প্রোভাইজেশন করে চলেছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রকৃতির এই সুরকে এমনভাবে শোনা এবং বোঝা, যাতে আমাদের এই শ্রবণ এক ঐক্যবদ্ধ এবং মহীয়ান সিম্ফনিতে রূপান্তরিত হয়।
এই প্রকল্পের সাফল্য কেবল সংগীতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পরিবেশ রক্ষায় শিল্পের ভূমিকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পান্তানাল জ্যাম প্রমাণ করে যে, যখন শিল্প এবং প্রকৃতি হাত মেলায়, তখন তা কেবল শ্রুতিমধুর সুরই তৈরি করে না, বরং তা আমাদের গ্রহের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধকেও জাগ্রত করে। এই সুরের মূর্ছনা বিশ্ববাসীকে প্রকৃতির সাথে এক নতুন এবং গভীরতর মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়।
উৎসসমূহ
FinanzNachrichten.de
Newsfile Corp.
ACCESS Newswire
PlanetaEXO
Global Vision Access
Newswire.com