প্রাইম ভিডিও ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল 'দ্য হাউস অফ দ্য স্পিরিটস' সিরিজের বিশ্বব্যাপী মুক্তির ঘোষণা করেছে

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

স্ট্রিমিং জায়ান্ট প্রাইম ভিডিও আনুষ্ঠানিকভাবে ইসাবেল আলেন্দের কালজয়ী উপন্যাস ‘দ্য হাউস অফ দ্য স্পিরিটস’ (La Casa de los Espíritus)-এর একটি অত্যন্ত প্রতীক্ষিত আট পর্বের টেলিভিশন অভিযোজনের বিশ্বব্যাপী মুক্তির তারিখ নিশ্চিত করেছে। ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল এই মহাকাব্যিক সিরিজটি বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেতে যাচ্ছে, যা সম্প্রতি ৭৬তম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (বার্লিনালে) এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছে। বার্লিনালের এই ঘোষণাটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে লাতিন আমেরিকান সাহিত্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এক নতুন প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দেয়। এই ঘোষণার ফলে লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকে ছোট পর্দায় দেখার জন্য দর্শকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে।

লাতিন আমেরিকায় অ্যামাজন প্ল্যাটফর্মের অন্যতম বৃহত্তম মূল স্প্যানিশ ভাষার প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত এই সিরিজটি ১৯৮২ সালে প্রথম প্রকাশিত মূল উপন্যাসের প্রকৃত নির্যাস এবং সাংস্কৃতিক গভীরতা তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই উপন্যাসটি বিশ্বজুড়ে ৭০ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে এবং এটি লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের একটি অবিচ্ছেদ্য মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত। সিরিজটি ট্রুয়েবা পরিবারের তিন প্রজন্মের নারী— ক্লারা, ব্ল্যাঙ্কা এবং আলবার জীবনকে কেন্দ্র করে প্রায় অর্ধশতাব্দীর এক বিস্তৃত ইতিহাস তুলে ধরবে। দক্ষিণ আমেরিকার একটি কাল্পনিক দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শ্রেণী সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে এই কাহিনী আবর্তিত হয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে চিলির রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ। উপন্যাসের এই দীর্ঘ পরিক্রমা কেবল একটি পরিবারের গল্প নয়, বরং এটি একটি জাতির বিবর্তন এবং সামাজিক পরিবর্তনের এক জীবন্ত দলিল হিসেবে কাজ করে।

এই পারিবারিক মহাকাব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কঠোর এবং প্রভাবশালী পুরুষ এস্তেবান ট্রুয়েবার চরিত্রে অভিনয় করবেন ‘রেবেল মুন’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা আলফনসো হেরেরা। ক্লারা দেল ভ্যালের রহস্যময় এবং শক্তিশালী চরিত্রটি তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ফুটিয়ে তুলবেন নিকোল ওয়ালেস এবং ডলোরেস ফনজি। এছাড়াও এই সমৃদ্ধ অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন ফেরুলা চরিত্রে ফার্নান্দা কাস্তিলো, নিভিয়া দেল ভ্যালে হিসেবে আলিন কুপেনহেইম এবং সেভেরো দেল ভ্যালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় এদুয়ার্দ ফার্নান্দেজ। এই শক্তিশালী কাস্টিং সিরিজটিকে একটি অনন্য শৈল্পিক মাত্রা প্রদান করবে বলে সমালোচকরা মনে করছেন, যা মূল উপন্যাসের চরিত্রগুলোর জটিলতা ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হবে।

সিরিজটির নির্মাণ ও কারিগরি দিক তদারকি করছে ‘অ্যানোরা’ এবং ‘কনক্লেভ’-এর মতো প্রশংসিত কাজের জন্য পরিচিত নির্মাণ সংস্থা ফিল্ম নেশন এন্টারটেইনমেন্ট। তাদের সাথে সহযোগী হিসেবে কাজ করছে অস্কার বিজয়ী চিলিয়ান স্টুডিও ফাবুলা, যারা তাদের শৈল্পিক শ্রেষ্ঠত্বের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। ফাবুলার অংশগ্রহণ সিরিজটিতে একটি স্থানীয় এবং নিখুঁত লাতিন আমেরিকান দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে, যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে এই কাহিনীকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। কাহিনীর সাহিত্যিক নির্ভুলতা এবং মূল উপন্যাসের প্রতি বিশ্বস্ততা নিশ্চিত করতে লেখিকা ইসাবেল আলেন্দে নিজেই ইভা লঙ্গোরিয়া এবং কোর্টনি সালাদিনোর সাথে নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে এই প্রকল্পের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। সাংস্কৃতিক সত্যতা বজায় রাখার জন্য পুরো সিরিজের চিত্রগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে চিলির বিভিন্ন মনোরম ও ঐতিহাসিক স্থানে, যা দর্শকদের এক বাস্তবসম্মত এবং নিমগ্ন অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।

উপন্যাসের গভীর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট চিলির বাস্তব ইতিহাসের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত, যার মধ্যে রয়েছে বিংশ শতাব্দীর সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের উত্থান এবং ১৯৭৩ সালের সেই ভয়াবহ সামরিক অভ্যুত্থান। এই অভ্যুত্থানে লেখিকার আপন চাচা এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্দের সরকারের পতন ঘটেছিল। এই ঐতিহাসিক পটভূমিতে যেখানে অলৌকিকতা এবং রূঢ় বাস্তবতা একে অপরের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, তাকেই ‘ম্যাজিকাল রিয়ালিজম’ বা জাদুবাস্তবতা বলা হয়। আলেন্দে এই বিশেষ সাহিত্যিক শৈলী ব্যবহার করে ক্ষমতা, প্রতিশোধ এবং মানুষের টিকে থাকার অদম্য স্পৃহার থিমগুলো অত্যন্ত নিপুণভাবে এই কাহিনীতে অন্বেষণ করেছেন, যা এই সিরিজটিকে কেবল একটি ড্রামা নয় বরং একটি ঐতিহাসিক দলিলে পরিণত করেছে।

‘দ্য হাউস অফ দ্য স্পিরিটস’ সিরিজটি একযোগে বিশ্বের ২৪০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে প্রিমিয়ার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটি মূলত ইংরেজি ভিন্ন অন্য ভাষার গল্পের প্রতি বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগানোর জন্য প্রাইম ভিডিওর একটি সুদূরপ্রসারী কৌশলগত পদক্ষেপ। প্ল্যাটফর্মটিতে স্প্যানিশ ভাষার কন্টেন্টের সাম্প্রতিক অভাবনীয় সাফল্য, বিশেষ করে ‘কুলপাবলস’ ফ্র্যাঞ্চাইজি যা ইতিমধ্যে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি দর্শক অর্জন করেছে, এই ধরনের উচ্চাভিলাষী এবং ব্যয়বহুল প্রকল্পের বিশাল বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্ভাবনাকেই নির্দেশ করে। এই সিরিজের মাধ্যমে প্রাইম ভিডিও তাদের গ্লোবাল অডিয়েন্সের কাছে লাতিন আমেরিকার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করার লক্ষ্য স্থির করেছে।

7 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • abc+ | abcmais.com

  • Nano Banana (Google Imagen)

  • A Crítica de Campo Grande

  • Gamer Point

  • Banda B

  • Folha

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।