মিচেল 'বুলি' হারবিগের পরিচালিত কমেডি ঘরানার নতুন চলচ্চিত্র 'ক্যানো অফ ম্যানিটু' (Kanu des Manitu) ২০২৫ সালের বাভারিয়ান ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডে 'সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র' হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মিউনিখের স্টেট চ্যান্সেলারি গত মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই খবরটি নিশ্চিত করেছে। ২০২৫ সাল জুড়ে সিনেমাটি বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে এবং এটিই একমাত্র জার্মান চলচ্চিত্র যা ৫০ লক্ষ বা ৫ মিলিয়নেরও বেশি টিকিট বিক্রির রেকর্ড গড়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৫.০৬ মিলিয়ন দর্শক প্রেক্ষাগৃহে এই সিনেমাটি উপভোগ করেছেন, যা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে একটি বিশাল অর্জন।
এই পুরস্কারটি মূলত হারবিগের সেই সৃজনশীল দক্ষতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন, যার মাধ্যমে তিনি তার ২০০১ সালের কালজয়ী ছবি 'শু অফ ম্যানিটু' (Der Schuh des Manitu)-র সাফল্যকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। উল্লেখ্য যে, প্রথম ছবিটি প্রায় ১১.৭ মিলিয়ন দর্শক টেনেছিল এবং যুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানির অন্যতম সফল চলচ্চিত্র হিসেবে ইতিহাস গড়েছিল। বিচারক মণ্ডলী এই নতুন কিস্তির বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরস, উন্নত মানের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা এবং গল্পের সাবলীলতার প্রশংসা করেছেন। হারবিগ এখানে একাধারে লেখক, পরিচালক এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে তার বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন, যা জার্মান চলচ্চিত্রকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
১৯৭৯ সাল থেকে বাভারিয়া সরকার এই সম্মানজনক চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করে আসছে, যা জার্মানির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এবং আর্থিকভাবে লাভজনক পুরস্কার হিসেবে স্বীকৃত। মোট ১১টি বিভাগে ৩০০,০০০ ইউরো পুরস্কার মূল্য হিসেবে বিজয়ীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। ২০২৫ সালের বিজয়ীদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়ার জন্য ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি মিউনিখের প্রিন্সরিজেন্টেন থিয়েটারে এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। হারবিগ, যিনি নিজে এই ছবিতে অ্যাপাচি প্রধান 'আবাহাচি' চরিত্রে অভিনয় করেছেন, এমন এক সাফল্য অর্জন করেছেন যা ২০১৯ সালের 'পারফেক্ট সিক্রেট' (Das perfekte Geheimnis) সিনেমার পর আর কোনো জার্মান চলচ্চিত্র করতে পারেনি। বিশেষ করে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের এই যুগে দর্শকদের সিনেমা হলে ফিরিয়ে আনা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
'ক্যানো অফ ম্যানিটু' মূলত কার্ল মে-র ওয়েস্টার্ন কাহিনীগুলোর একটি চমৎকার প্যারোডি বা ব্যঙ্গাত্মক রূপ, যা 'শু অফ ম্যানিটু' থেকে শুরু হয়েছিল। মূল কাহিনীতে প্রধান দুই চরিত্র আবাহাচি এবং তার ভাই রেঞ্জার (ক্রিশ্চিয়ান ট্রামিটস অভিনীত) একটি গুপ্তধনের মানচিত্র নিয়ে নানা নাটকীয়তায় জড়িয়ে পড়েন। এই সিক্যুয়েলে হারবিগ, ট্রামিটস এবং রিক কাভানিয়ান তাদের সেই চিরচেনা চরিত্রে ফিরে এসেছেন। ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি হার্বএক্স ফিল্ম (herbX film) এবং কনস্ট্যান্টিন ফিল্মের যৌথ প্রযোজনায় তৈরি হয়েছে। এই নির্মাণে আরটিএল (RTL), এফএফএফ (FFF), এফএফএ (FFA) এবং ডিএফএফএফ (DFFF)-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে। অস্ট্রিয়াতেও ছবিটি ৩ লক্ষাধিক দর্শক পেয়ে 'গোল্ডেন টিকিট' জিতেছে এবং পুরো জার্মান-ভাষী অঞ্চলে এর মোট দর্শক সংখ্যা ৬ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।
বাভারিয়ান ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো 'সেরা প্রযোজনা' (Produzentenpreis) পুরস্কার, যার আর্থিক মূল্য ২ লক্ষ ইউরো। এই পুরস্কারের ট্রফি হিসেবে মিউনিখের বিখ্যাত নিমফেনবার্গ পোরসেলিন কারখানায় তৈরি 'পিয়েরো' নামক একটি চীনামাটির মূর্তি প্রদান করা হয়, যা উচ্চমানের শৈল্পিক নিদর্শনের প্রতীক। হারবিগের এই বিশাল জয় তাকে সমসাময়িক জার্মান চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, দর্শকদের রুচি অনুযায়ী মানসম্মত কমেডি সিনেমা তৈরি করতে পারলে তা আজও বক্স অফিসে ঝড় তুলতে সক্ষম। এটি জার্মান চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা এবং বর্তমান বাজারে কমেডি ঘরানার প্রাণবন্ততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।



