২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা হলগুলোতে মুক্তি পেতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত অ্যাকশন-থ্রিলার চলচ্চিত্র ‘শেল্টার’ (Shelter)। এই ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বিশ্বখ্যাত অ্যাকশন তারকা জেসন স্ট্যাথাম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছবিটির প্রিমিয়ার নির্ধারিত হয়েছে ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে। অন্যদিকে, রাশিয়ার দর্শকরা ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে প্রেক্ষাগৃহে এই সিনেমাটি উপভোগ করতে পারবেন। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন রিক রোমান ওয়াহ, যিনি এর আগে ‘গ্রিনল্যান্ড’ এবং ‘অ্যাঞ্জেল হ্যাজ ফলেন’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমা পরিচালনা করে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। ছবিটির চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন ওয়ার্ড পেরি, যার পূর্ববর্তী কাজের মধ্যে রয়েছে ‘বাকুগান: ব্যাটল ব্রলার্স’। ব্ল্যাক বিয়ার পিকচার্স এবং পাঞ্চ প্যালেস প্রোডাকশনস এই চলচ্চিত্রটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছে, যেখানে স্ট্যাথাম নিজেও একজন অন্যতম প্রযোজক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ম্যাসন নামক এক রহস্যময় ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেসন স্ট্যাথাম। ম্যাসন একজন নিভৃতচারী মানুষ, যিনি স্কটল্যান্ডের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপের সমুদ্রতীরে একাকী জীবনযাপন করেন। তবে একটি ভয়াবহ ঝড়ের রাতে তার এই শান্ত জীবনে আমূল পরিবর্তন আসে, যখন তিনি উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ থেকে এক ডুবন্ত মেয়েকে উদ্ধার করেন। দয়ার বশবর্তী হয়ে করা এই মানবিক কাজটি ম্যাসনকে দ্রুত এক ভয়ংকর ও সহিংস পরিস্থিতির আবর্তে ফেলে দেয়। এর ফলে তাকে তার সেই অন্ধকার অতীতের মুখোমুখি হতে হয়, যা থেকে তিনি দীর্ঘকাল ধরে নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। চলচ্চিত্রের প্রচারণামূলক তথ্যে ম্যাসনকে একটি ‘প্রিসিশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ বা নিখুঁত হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে তিনি অতীতে একজন অত্যন্ত দক্ষ এবং উচ্চপদস্থ এলিট অপারেটিভ ছিলেন।
এই চলচ্চিত্রে জেসন স্ট্যাথামের পাশাপাশি আরও একঝাঁক প্রতিভাবান অভিনয়শিল্পীকে দেখা যাবে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ‘পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান’ ফ্র্যাঞ্চাইজি খ্যাত প্রবীণ অভিনেতা বিল নাই এবং ‘মিকি ১৭’ তারকা নাওমি অ্যাকি। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছেন বোধি রে ব্রেটনাক, ড্যানিয়েল মেস এবং হ্যারিয়েট ওয়াল্টার। গল্পের একটি বিশেষ দিক অনুযায়ী, ম্যাসন যে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন, সে মূলত একজন মৃত জেলের ভাগ্নি। এই মেয়েটিই ছিল একমাত্র ব্যক্তি, যে ম্যাসনের নির্জনবাসের সময় তার দেখাশোনা করত এবং তার সাথে মানবিক যোগাযোগ বজায় রাখত। এই সম্পর্কটিই গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দিতে এবং ম্যাসনের অতীতকে সামনে আনতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
ব্ল্যাক বিয়ারের ডিস্ট্রিবিউশন বিভাগের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন ক্রেমার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, জেসন স্ট্যাথাম এবং রিক রোমান ওয়াহর এই শক্তিশালী জুটি, সাথে একটি রোমাঞ্চকর কাহিনী এবং চমৎকার কাস্টিং ছবিটিকে একটি উল্লেখযোগ্য রিলিজে পরিণত করেছে। ব্ল্যাক বিয়ার পিকচার্স, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছবিটির পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে, তারা প্রতি বছর প্রায় ১২টি মানসম্মত চলচ্চিত্র মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং ‘শেল্টার’ তাদের সেই দীর্ঘমেয়াদী কৌশলেরই একটি অংশ। ছবিটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্য এবং আয়ারল্যান্ডে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে আয়ারল্যান্ডের এনিসকেরিতে এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের চিত্রায়ন সম্পন্ন হয়। সিনেমাটির সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্ব পালন করেছেন মার্টিন আলগ্রেন এবং এর আবহ সংগীত পরিচালনা করেছেন প্রখ্যাত সুরকার ডেভিড বাকলি।
‘শেল্টার’ ছাড়াও জেসন স্ট্যাথাম বর্তমানে তার ২০২৪ সালের সফল সিনেমা ‘দ্য বিপিপার’-এর সিক্যুয়েল নিয়ে কাজ করছেন, যদিও এর মুক্তির তারিখ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। একটি কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, পরিচালক রিক রোমান ওয়াহও তার অন্য একটি বড় প্রজেক্ট ‘গ্রিনল্যান্ড: মাইগ্রেশন’ মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ ‘শেল্টার’ মুক্তির মাত্র তিন সপ্তাহ আগেই তার অন্য একটি ছবি পর্দায় আসবে। এই প্রজেক্টে প্রযোজক হিসেবে স্ট্যাথামের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং ব্যক্তিগত আগ্রহ প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালে তার অভিনয় জীবনে এই চলচ্চিত্রটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে যাচ্ছে।



