জার্মান স্পাই থ্রিলার 'আনফ্যামিলিয়ার' নেটফ্লিক্সের বিশ্বব্যাপী তালিকার শীর্ষে
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী মুক্তির পর থেকেই জার্মান স্পাই থ্রিলার সিরিজ 'আনফ্যামিলিয়ার' (যা অনেক জায়গায় 'ডিক্লাসিফাইড' নামেও পরিচিত) নেটফ্লিক্সের ইংরেজি ভিন্ন অন্য ভাষার শো-গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে। পল কোটসের তৈরি এই ছয় পর্বের সিরিজটি টানটান উত্তেজনাপূর্ণ একটি আখ্যান, যেখানে গতিশীল অ্যাকশন এবং ব্যক্তিগত ড্রামার এক অনন্য সংমিশ্রণ দেখা যায়। এই গল্পের মূল কেন্দ্রে রয়েছে এক দম্পতি, যারা অতীতে গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করতেন এবং বর্তমানে এক জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন।
সিরিজের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে মেরেট এবং সাইমন শেফারকে ঘিরে, যাদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুজান উলফ এবং ফেলিক্স ক্রেমার। এই প্রাক্তন জার্মান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বর্তমানে লোকচক্ষুর অন্তরালে জীবনযাপন করেন এবং এমন ব্যক্তিদের জন্য একটি গোপন আস্তানা পরিচালনা করেন যাদের সমাজ থেকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া প্রয়োজন। তবে তাদের এই শান্ত জীবনে ছন্দপতন ঘটে যখন একজন আহত অপরিচিত ব্যক্তি সেখানে আকস্মিক উপস্থিত হয়। এই ঘটনাটি ১৬ বছর আগের একটি ব্যর্থ মিশনের সাথে সম্পর্কিত বিপজ্জনক পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটায় যা তাদের বর্তমান অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়। গল্পটি একদিকে যেমন ভাড়াটে খুনি এবং রাশিয়ান অপারেটিভদের বাহ্যিক হুমকির মোকাবিলা করে, অন্যদিকে গোপনীয়তা এবং মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি দাম্পত্য টিকিয়ে রাখার অভ্যন্তরীণ লড়াইকেও অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলে।
'আনফ্যামিলিয়ার' সিরিজের নির্মাতারা এর বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার জন্য অভূতপূর্ব কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। এটিই প্রথম কোনো ফিকশন প্রজেক্ট যা বার্লিনের শাউসেস্ট্রাসে ৯৬-এ অবস্থিত জার্মানির ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (BND)-এর প্রকৃত সদর দপ্তরের ভেতরে চিত্রগ্রহণের বিশেষ অনুমতি পেয়েছে। এই অনুমতির কারণে গোয়েন্দা সংস্থার কাজের পরিবেশ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে, যা সমালোচকদের মতে সংস্থার ভেতরে থাকা কোনো 'গুপ্তচর' বা 'মোল'-এর উপস্থিতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। এছাড়া বার্লিনের আধুনিক স্থাপত্য যেমন সেন্ট্রাল স্টেশনের পাশের 'কিউব বার্লিন' এবং ওবারশোনাওয়াইড এলাকার শিল্পাঞ্চল 'এনএজি বিল্ডিং'-কেও চমৎকারভাবে ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে যা সিরিজের দৃশ্যপটে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রথম সিজনের এই ছয়টি পর্বের মোট দৈর্ঘ্য ৫ ঘণ্টা ১২ মিনিট, যা মূলত আন্ডারকভার জীবনের মানসিক চাপের দিকটি গভীরভাবে অন্বেষণ করে। নির্মাতারা এখানে কেবল কারিগরি সরঞ্জামের ওপর নির্ভর না করে প্রধান চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, যেখানে একে অপরের কাছে সত্য বলাটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই সিরিজে আরও অভিনয় করেছেন হেনরি হুবচেন, স্যামুয়েল ফিনজি এবং আন্দ্রেয়াস পিটশম্যান। সমালোচকরা এই প্রজেক্টটিকে 'মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ'-এর একটি গভীর এবং আবেগপ্রবণ জার্মান সংস্করণ হিসেবে তুলনা করেছেন, যেখানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং হাতাহাতি লড়াইয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উপলব্ধির মুহূর্তগুলোর মধ্যে একটি চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে।
দর্শকদের বিপুল আগ্রহ এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় সিজন তৈরির বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। যদিও প্রথম সিজনের সমাপ্তি এমনভাবে করা হয়েছে যা গল্পের পরবর্তী অংশ বা সিক্যুয়েলের জন্য যথেষ্ট সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছে। টানটান উত্তেজনা এবং রহস্যময় প্লটের কারণে সিরিজটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে এবং এর জনপ্রিয়তা ক্রমাগত বাড়ছে।
3 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Deadline
Vertex AI Search
Tom's Guide
HELLOMagazine
Collider
DCM Stories
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
