মেগি ও'ফারেলের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ক্লোয়ি ঝাও পরিচালিত ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র 'হ্যামলেট' মর্যাদাপূর্ণ ৫০তম টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (টিআইএফএফ) দর্শকপ্রিয়তার পুরস্কার জিতে নিয়েছে, যা ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত হয়। এই পুরস্কারটি ১৯৭৮ সাল থেকে দর্শকদের ভোটের মাধ্যমে প্রদান করা হয়ে আসছে এবং এটিকে আসন্ন অস্কার সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস হিসেবে গণ্য করা হয়। এর আগে অনেক চলচ্চিত্র, যেমন 'ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড' (২০১৫) এবং '১২ ইয়ার্স আ স্লেভ' (২০১৩), এই পুরস্কার জেতার পর অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডে সর্বোচ্চ সম্মান লাভ করেছিল। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ঝাও এর আগে ২০২০ সালে 'নোম্যাডল্যান্ড'-এর জন্য এই সম্মান অর্জন করেছিলেন। এর ফলে তিনি প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে দু'বার এই দর্শকপ্রিয়তার পুরস্কার লাভ করার কৃতিত্ব অর্জন করলেন।
এই সিনেমাটি উইলিয়াম শেক্সপিয়ার এবং তাঁর স্ত্রী অ্যাগনেসের মর্মান্তিক জীবন কাহিনি তুলে ধরে। বিশেষত, তাঁদের পুত্র হারানোর গভীর প্রভাব নাট্যকারের ওপর কেমন পড়েছিল, তার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যা অনুমান করা হয় যে কিংবদন্তী ট্র্যাজেডি 'হ্যামলেট' রচনার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেসি বাকলি, যিনি অ্যাগনেসের ভূমিকায় এবং পল মেস্কাল উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁদের অভিনয় সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বাকলি তাঁর অভিনয়ে এক 'অধিকতর মানবিকতার' ছোঁয়া এনেছেন, অন্যদিকে মেস্কাল চরিত্রটিতে পুরোপুরি ডুবে যাওয়ার জন্য একাধিকবার শেক্সপিয়ারের নাটকগুলি পুনরায় পাঠ করেছিলেন। অভিনেতাদের মধ্যে 'গতিশীল বিশ্বাস' তৈরি করার লক্ষ্যে পরিচালক ঝাও তাঁদের জন্য একটি তান্ত্রিক কর্মশালার আয়োজন করেছিলেন।
চলচ্চিত্রটির চিত্রায়ণ অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে ১৫৮০-এর দশকের ইংল্যান্ডের পারিবারিক জীবন এবং পরবর্তীকালে বার্ডের সৃজনশীলতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করা শোকের চিত্র তুলে ধরে। সিনেমাটির দৃশ্যধারণের দায়িত্বে ছিলেন চিত্রগ্রাহক লুকাস জাল, এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন ম্যাক্স রিচটার। রিচটার এলিজাবেথীয় সঙ্গীতের ভিত্তি ব্যবহার করে গল্পের মনস্তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে সুরারোপ করেছেন। রিচটার এমন একটি কোরাল ভাষা তৈরি করেছেন যা সিনেমার কেন্দ্রবিন্দু অ্যাগনেসের অভ্যন্তরীণ যাত্রাকে বিশেষভাবে ফুটিয়ে তোলে। হেরা পিকচার্স, নীল স্ট্রিট প্রোডাকশনস, অ্যাম্বলিন এন্টারটেইনমেন্ট এবং বুক অফ শ্যাডোস এই সিনেমাটির প্রযোজনার দায়িত্বে ছিল, যেখানে স্টিভেন স্পিলবার্গের মতো প্রযোজকরাও যুক্ত ছিলেন।
টেলুরাইড চলচ্চিত্র উৎসব এবং টিআইএফএফ-এ সফল প্রদর্শনী এবং সমালোচকদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসার পর, 'হ্যামলেট' পুরস্কার মরসুমে অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ছবিটির মোট দৈর্ঘ্য ১২৬ মিনিট। মেটাক্রিটিকের মতো প্ল্যাটফর্মে ১৮টি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এটি ইতিমধ্যেই ৯২/১০০ স্কোর নিয়ে উচ্চ প্রশংসা লাভ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকরা আগামী ২০২৫ সালের ২৬শে নভেম্বর থেকে সীমিত পরিসরে এই ঐতিহাসিক নাটকটি দেখতে পাবেন এবং এরপরে ১২ই ডিসেম্বর এটি বৃহত্তর পরিসরে মুক্তি পাবে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে সিনেমাটি ২০২৬ সালের ৯ই জানুয়ারি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ৫০তম টিআইএফএফ-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে গিলিয়ের্মো দেল তোরোর 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' এবং তৃতীয় স্থান দখল করে রায়ান জনসনের 'নাইভস আউট: গ্লাস অনিয়ন'।



