হোয়াইট হাউস aliens.gov এবং alien.gov ডোমেইনগুলোর নিবন্ধনের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি Анна Келли বলেছিলেন: 'আপডেটের জন্য অপেক্ষা করুন!'
২০২৬ সালের ১৭ মার্চ, মঙ্গলবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নির্বাহী কার্যালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারা ফেডারেল স্তরের দুটি নতুন ডোমেইন নাম, 'aliens.gov' এবং 'alien.gov' নিবন্ধন করেছে। সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (CISA)-এর অবকাঠামোর মাধ্যমে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। এই পদক্ষেপটিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নির্দেশনার একটি প্রস্তুতিমূলক অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি আনআইডেন্টিফাইড অ্যানোমালাস ফেনোমেনা (UAP), ইউএফও (UFO) এবং ভিনগ্রহের জীবন সংক্রান্ত গোপন সরকারি নথি জনসমক্ষে প্রকাশের একটি নির্দেশ জারি করেছিলেন। তবে ১৮ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডোমেইন দুটি সক্রিয় হয়নি এবং সেখানে কেবল ফাঁকা পাতা প্রদর্শিত হচ্ছে।
এই ডোমেইন নিবন্ধনের ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জারি করা একটি নির্বাহী আদেশের প্রায় এক মাস পর ঘটল। সেই আদেশে তিনি বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে UAP এবং ভিনগ্রহের সভ্যতা সংক্রান্ত তথ্য ও উপকরণ শনাক্ত করে তা প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একটি বিশেষ দিক হলো, ফেডারেল অর্থায়নের সংকটের কারণে CISA সাময়িকভাবে নতুন .gov ডোমেইন অনুরোধ গ্রহণ বন্ধ রেখেছিল, কিন্তু এই ডোমেইনগুলোর ক্ষেত্রে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক, জানিয়েছেন যে 'Aliens.gov' ভবিষ্যতে UAP সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের জন্য একটি কেন্দ্রীয় হাব বা 'ওয়ান-স্টপ সেন্টার' হিসেবে কাজ করবে। এটি বর্তমানে বিদ্যমান AARO.mil রিসোর্স থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই তৎপরতা মূলত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কিছু মন্তব্যের পর শুরু হওয়া জনআগ্রহের ফল। ওবামা ভিনগ্রহের জীবনের অস্তিত্বের গাণিতিক বা পরিসংখ্যানগত সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছিলেন, যাকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গোপন তথ্য ফাঁস করার শামিল বলে সমালোচনা করেছিলেন। ওবামা পরবর্তীতে স্পষ্ট করেন যে তিনি কেবল পরিসংখ্যান নিয়ে আলোচনা করছিলেন, কিন্তু ট্রাম্প এই ঘটনাটিকে তার তথ্য প্রকাশের (declassification) আদেশের যৌক্তিকতা হিসেবে ব্যবহার করেন। যুদ্ধ সচিব (যিনি আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন) পিট হেগসেথ, যিনি সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ পেন্টাগনকে 'যুদ্ধ মন্ত্রণালয়' হিসেবে পুনর্নামকরণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন, নিশ্চিত করেছেন যে তার বিভাগ প্রেসিডেন্টের আদেশ পুরোপুরি মেনে চলছে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজোলিউশন অফিস (AARO) ২০২৬ সালের শুরু নাগাদ ২০০০-এর বেশি ঘটনার রিপোর্ট সংগ্রহ করেছে। যদিও ২০২৪ সালের পেন্টাগন রিপোর্টে ভিনগ্রহের প্রযুক্তির কোনো অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে সেখানে ২১টি অমীমাংসিত ঘটনার কথা উল্লেখ ছিল।
তবে এই নতুন পোর্টালটির চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো কিছু ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। যদিও পারিপার্শ্বিক প্রেক্ষাপট UAP সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে, কিন্তু 'alien' শব্দটি ট্রাম্প প্রশাসন প্রায়শই কঠোর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করে থাকে। ফলে এই ডোমেইনটির কোনো দ্বিমুখী ব্যবহার হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে প্রেডিকশন মার্কেট 'কালশি' (Kalshi)-তে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে ভিনগ্রহের জীবনের অস্তিত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিষয়ে বাজি ধরার পরিমাণ ইতিমধ্যে ১৭ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই বিশাল অঙ্কের লেনদেন প্রমাণ করে যে, আসন্ন তথ্য প্রকাশের ফলাফল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা প্রবল কৌতূহল কাজ করছে।
ডোমেইন সংক্রান্ত এই প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো মূলত নির্বাহী বিভাগের বৃহত্তর কাঠামোগত পরিবর্তনের একটি অংশ। বিশেষ করে, ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে 'যুদ্ধ মন্ত্রণালয়' (Ministry of War) হিসেবে নামকরণের একটি আদেশে স্বাক্ষর করেন। তিনি এই নামটিকে একটি 'আক্রমণাত্মক' ভাবমূর্তি তৈরির জন্য গৌণ নাম হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দেন। এই সামগ্রিক পরিবর্তনগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ফেডারেল প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে একটি নতুন ডিজিটাল এবং প্রশাসনিক স্থাপত্য তৈরি করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের তথ্য প্রকাশ ও জাতীয় নিরাপত্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।