সূর্যের আকস্মিক আঘাত: মহাকাশে শক্তিশালী এক্স-ক্লাস সৌর শিখা শনাক্ত

লেখক: Uliana S.

4366 অঞ্চলে X1.04 ফ্লেয়ার 2026-02-01 12:33 UTC

সূর্যের অস্বাভাবিক শান্ত অবস্থার অবসান ঘটিয়ে মহাকাশে এক শক্তিশালী আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র একদিন আগেই সূর্য একটি অস্বাভাবিক নিম্ন সক্রিয়তা বা মিনিমাম অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছিল। ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, ইউটিসি (UTC) সময় দুপুর ১২:৩৩ মিনিটে আমাদের নক্ষত্রটি একটি উচ্চ-মাত্রার 'এক্স-ক্লাস' (X-class) সৌর শিখা নির্গত করেছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা সত্য করে এই ঘটনাটি একটি নতুন সক্রিয় অঞ্চলের বিশাল ক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছে, যা মহাকাশ গবেষণায় নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

AR 4366 একটি X1.04 ফ্লেয়ার উৎপাদন করেছে। এটি X-ক্লাস-এর আগে ও পরে M6.75 ও M5.88‑র ফ্লেয়ারের সাথে একটি ছোট ক্রমের মধ্যে একটি ফ্লেয়ার ত্রয়ীর অংশ ছিল।

এই সৌর শিখাটিকে 'X1.04' হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে, যা সক্রিয় অঞ্চল নম্বর ৪৩৬৬-এর অত্যন্ত দ্রুত এবং নাটকীয় বিকাশের ফল। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে একটি সাধারণ এবং প্রায় অদৃশ্য বিন্দু থেকে এই অঞ্চলটি সৌর ঝড়ের একটি শক্তিশালী কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি সকালেও এখানে মাঝারি মাত্রার 'এম-লেভেল' (M-level) শিখা রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে এক্স-লেভেলে পৌঁছানো মানেই শক্তির এক গুণগত উল্লম্ফন; এই ধরনের শিখাগুলো বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত করে যা দীর্ঘস্থায়ী রেডিও যোগাযোগে বিঘ্ন এবং গুরুতর ভূ-চৌম্বকীয় প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে এই ঘটনার জ্যামিতিক অবস্থান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এটি পূর্বাভাসের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি করেছে। সূর্য এবং পৃথিবীর কেন্দ্রকে সংযোগকারী কাল্পনিক রেখা থেকে প্রায় ৫০ ডিগ্রি দূরে এই বিস্ফোরণটি ঘটেছে। বিভিন্ন মানমন্দিরের তথ্য অনুযায়ী, এই শিখার সাথে একটি বিশাল করোনাল মাস ইজেকশন (CME) বা সৌর পদার্থের নির্গমন ঘটেছে। তবে বর্তমান কৌণিক অবস্থানের কারণে পৃথিবীতে সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা আপাতত কম বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবস্থান থেকে পৃথিবীতে আঘাত হানতে হলে বিস্ফোরণটিকে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং প্রশস্ত হতে হবে, যার প্যারামিটারগুলো এখনো করোনাগ্রাফের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।

মহাকাশ আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাটিকে একটি 'পার্শ্বীয় ঘটনা' বা সাইড ইভেন্ট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, নির্গত শক্তির মূল অংশটি সম্ভবত পৃথিবীকে এড়িয়ে মহাকাশের অন্য দিকে চলে যাবে। তবে এর প্রান্তিক প্রভাব বা 'গ্ল্যান্সিং ব্লো' পড়ার সম্ভাবনা এখনো রয়ে গেছে। এই প্রান্তিক প্রভাব কতটা শক্তিশালী হতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য বর্তমানে উন্নত গাণিতিক মডেলের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এর সম্ভাব্য প্রভাবগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে।

সরাসরি হুমকির সম্ভাবনা মূলত আগামী কয়েক দিনের ওপর নির্ভর করছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সক্রিয় অঞ্চল ৪৩৬৬ আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) পর্যন্ত পৃথিবীর একদম মুখোমুখি বা কেন্দ্রীয় অবস্থানে অবস্থান করবে। এই সময়কালটিকে 'বিপজ্জনক অঞ্চল' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণ এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো নতুন বড় ধরনের সৌর শিখা উৎপন্ন হয়, তবে তার প্রভাব সরাসরি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকবে। বর্তমানের X1.04 শিখাটি মূলত সেই আসন্ন সক্রিয়তার একটি শক্তিশালী এবং ভীতিজনক সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।

পরিশেষে বলা যায়, এই পরিস্থিতির অনন্যতা নিহিত রয়েছে এর দ্রুত পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতি এবং উৎসের জটিল অবস্থানের মধ্যে। সূর্য তার শক্তি প্রদর্শনের জন্য বিজ্ঞানীদের সুবিধাজনক অবস্থানের অপেক্ষা করেনি, বরং এক আকস্মিক বিস্ফোরণের মাধ্যমে মূল্যবান কিন্তু বিশ্লেষণসাপেক্ষ তথ্য প্রদান করেছে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে পৃথিবীর জন্য বড় কোনো ঝুঁকি নেই, তবুও আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময়কাল অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যেই বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হতে পারবেন যে পূর্ববর্তী নির্গমনের প্রভাব ঠিক কতটা এবং সামনের দিনগুলোতে সৌর সক্রিয়তার মাত্রা কোন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

12 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।