মাত্র ১৫ বছরে কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন লরেন সিমন্স

সম্পাদনা করেছেন: an_lymons

বেলজিয়ামের বিস্ময় বালক লরেন সিমন্স মাত্র পনেরো বছর বয়সে এক অবিশ্বাস্য কীর্তি স্থাপন করেছেন। তিনি আন্টওয়ার্প বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যায় ডক্টরেট বা পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন, যা ২০২৫ সালের শেষ দিকে সম্পন্ন হয়। আধুনিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে এটি একটি অত্যন্ত দ্রুততম অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ সাধারণত এই স্তরের গবেষণায় এক দশকেরও বেশি সময় লেগে যায়। এই সপ্তাহে তাঁর সফল ডিফেন্স সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে তাঁর এই বিদ্যুৎ-গতিময় শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি ঘটল, যার সূচনা হয়েছিল স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর অনেক আগে।

অসাধারণ শিক্ষাগত অগ্রগতি

সিমন্সের শিক্ষাজীবনের গতি ছিল সত্যিই বিস্ময়কর। তিনি মাত্র আট বছর বয়সে মাধ্যমিক বিদ্যালয় শেষ করেন এবং দশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তাঁর শিক্ষাজীবনের প্রধান মাইলফলকগুলো নিম্নরূপ:

  • পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি মাত্র আঠারো মাসের মধ্যে সম্পন্ন করেন।
  • আন্টওয়ার্প বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করতে তাঁর দুই বছরেরও কম সময় লেগেছিল।
  • মাত্র বারো বছর বয়সেই তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

তাঁর পিএইচডি গবেষণাপত্রটি বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেটের সঙ্গে সম্পর্কিত অতি-প্রবাহী এবং অতি-কঠিন বস্তুর মধ্যে বোস-পোলারনদের উপর নিবদ্ধ ছিল। এই প্রতিভাবান তরুণ বিজ্ঞানী জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর কোয়ান্টাম অপটিক্সে কাজ করেছেন, যা আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতায় তাঁর গভীর আগ্রহের প্রমাণ দেয়। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রটি কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গলমেন্ট এবং মাল্টি-কিউবিট সিস্টেমের মতো আধুনিক পদার্থবিদ্যার অত্যন্ত জটিল দিকগুলো নিয়ে আবর্তিত হয়েছে।

উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও নৈতিক বিতর্ক

সিমন্সের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মানব জীবনকাল বৃদ্ধি করা এবং জৈবিক বার্ধক্যকে পরাজিত করে 'সুপারহিউম্যান' তৈরি করা। লরেনের বুদ্ধিমত্তা গুণাঙ্ক (IQ) ১৪৫, যা তাঁকে বুদ্ধিবৃত্তিক অভিজাত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করে। তবে, এই ধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্ভাব্য নৈতিক ঝুঁকিগুলোর কারণে বৈজ্ঞানিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করেন, বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে নৈতিকতার সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়।

লরেনের পিতামাতা, আলেকজান্ডার এবং লিডিয়া সিমন্স, প্রযুক্তি জগতের দৈত্যাকার সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আসা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁরা তাঁদের পুত্রের বৈজ্ঞানিক বিকাশকে ঔষধশাস্ত্রের ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা তাঁদের দূরদর্শিতার পরিচায়ক।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নতুন দিগন্ত

লরেন সিমন্সের এই দ্রুত সাফল্যের আগে, ১৮১৪ সালে কার্ল উইট্টি নামে এক ব্যক্তি মাত্র তেরো বছর বয়সে ডিগ্রি অর্জন করে রেকর্ড ধরে রেখেছিলেন। সিমন্স এখন হেলমহোল্টজ সেন্টার মিউনিখে তাঁর তৃতীয় বৈজ্ঞানিক ডিগ্রি অর্জনের কাজ শুরু করেছেন। তাঁর নতুন গবেষণার ক্ষেত্র হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর ঔষধশাস্ত্র, যা তাঁর গবেষণার আন্তঃবিষয়ক প্রকৃতির ওপর জোর দেয়।

এই তীব্র একাডেমিক চাপের মধ্যেও, তাঁর পিতামাতা তাঁর স্বাভাবিক কৈশোর জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার দিকে বিশেষ মনোযোগ দেন। লরেন তাঁর বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর জন্য যথেষ্ট সুযোগ পান; তিনি জনপ্রিয় গেম ফোর্টনাইট খেলতে এবং মার্ভেল সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন।

লরেন সিমন্স ২০০৯ সালের ২৬শে ডিসেম্বর বেলজিয়ামের ওস্টেন্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর এই অসাধারণ পথচলা বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করলেও, এটি বিজ্ঞানের নৈতিক সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে। কোয়ান্টাম সাফল্যের এই যুগে, সিমন্স দ্রুত শিক্ষা গ্রহণ এবং অসাধারণ বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

46 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Newpost.gr

  • The Times of India

  • ThePrint

  • Science Alert

  • The Brussels Times

  • The Brighter Side of News

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।