শুম্যান রেজোন্যান্স এবং পৃথিবীর কম্পাঙ্ক: আমাদের জীবনের সাথে এর প্রকৃত সম্পর্ক কী?

লেখক: lee author

শুম্যান রেজোন্যান্স এবং পৃথিবীর কম্পাঙ্ক: আমাদের জীবনের সাথে এর প্রকৃত সম্পর্ক কী?-1

Schumann অনুরণন

শুম্যান রেজোন্যান্স বা পৃথিবীর কম্পাঙ্ক নিয়ে বর্তমানে অনেক কৌতূহল এবং আলোচনা শোনা যায়। অনেকের মনেই একটি সাধারণ প্রশ্ন জাগে যে, পৃথিবীর এই শক্তি ক্ষেত্রের পরিবর্তনের সাথে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের সাফল্যের কোনো সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না। অনেক সময় দেখা যায়, টানা কয়েক মাস আমাদের জীবন খুব সুন্দরভাবে কাটছে, সবকিছুতেই ইতিবাচক ফলাফল আসছে এবং আমরা এক ধরণের সৃজনশীল প্রবাহের মধ্যে রয়েছি।

কিন্তু হঠাৎ করেই কোনো একটি ঘটনা আমাদের ছন্দপতন ঘটায়—হয়তো শারীরিক অসুস্থতা, ঘুমের ব্যাঘাত অথবা ব্যবসায়িক কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা দেখা দেয়। এই ধরণের পরিস্থিতিতে যখন আমরা পৃথিবীর শক্তির চার্ট বা কম্পাঙ্কের গ্রাফ দেখি, তখন হয়তো দেখা যায় সেই সময়ে কোনো বড় ধরণের পরিবর্তন বা অস্থিরতা চলছিল। তখন আমরা মনে করি যে পৃথিবীর শক্তির এই পরিবর্তনই হয়তো আমাদের সমস্যার কারণ।

মজার বিষয় হলো, যখন আমাদের সময় খুব ভালো যাচ্ছিল, তখনও হয়তো পৃথিবীর শক্তির গ্রাফে বড় ধরণের ওঠানামা বা 'ব্ল্যাকআউট' ছিল, যা আমরা তখন মোটেও অনুভব করিনি। প্রশ্ন জাগে, কেন আমরা সেই সময়গুলোতে কেবল উচ্চ কম্পাঙ্ক বা পজিটিভ ভাইবে ছিলাম এবং কেন এখন এই পরিবর্তনগুলো আমাদের প্রভাবিত করছে? এই বৈপরীত্যের কারণ এবং পৃথিবীর কম্পাঙ্কের সাথে আমাদের ব্যক্তিগত স্পন্দনের সম্পর্ক ঠিক কেমন, তা বোঝা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞ 'লি' (lee) এর মতে, শুম্যান রেজোন্যান্স এবং পৃথিবীর সামগ্রিক কম্পাঙ্ক পুরোপুরি এক বিষয় নয়। শুম্যান রেজোন্যান্স মূলত একটি স্থিতিশীল বিষয়, তবে এর কম্পাঙ্কের তীব্রতা বা ইনটেনসিটি ভিন্ন হতে পারে। একে একটি গাড়ির চাকার সাথে তুলনা করা যেতে পারে যা কাঠামোগতভাবে স্থিতিশীল, কিন্তু তার ঘোরার গতি পরিস্থিতি অনুযায়ী কম বা বেশি হতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, এই বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে অনেক ভুল ব্যাখ্যা এবং জল্পনা-কল্পনা প্রচলিত রয়েছে।

আমাদের শারীরিক অনুভূতি এবং জীবনের ঘটনাবলির মধ্যে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। যখন কম্পাঙ্কের পরিবর্তন ঘটে, তখন তা মূলত মহাজাগতিক ঘটনার সাথে যুক্ত থাকে। এক্ষেত্রে সূর্যের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের জন্য তার 'হায়ার সেলফ' বা উচ্চতর সত্তা যা করে, পৃথিবীর জন্য সূর্য ঠিক সেই ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে, পৃথিবীর সামগ্রিক কম্পাঙ্ক হলো মূলত মানুষের সমষ্টিগত চেতনার প্রতিফলন।

সূর্য যখন উচ্চতর সত্তার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে, তখন এটি পৃথিবীর কম্পাঙ্কে নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক পরিবর্তন বা 'কারেকশন' নিয়ে আসে। এর ফলে মানুষের শরীর এই নতুন ছন্দের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে শুরু করে। এটি অনেকটা উচ্চতর সত্তার পক্ষ থেকে সরাসরি শারীরিক প্রভাবের মতো, যা কোনো ব্যক্তির জীবনের ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা ঘটনার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং ব্যাপক।

এই সমন্বয় প্রক্রিয়ার সময় শুম্যান রেজোন্যান্সের মূল মান অপরিবর্তিত থাকতে পারে। যদি মহাজাগতিক প্রভাব খুব তীব্র হয়, তবে গ্রাফে হয়তো 'সাদা দাগ' বা তীব্রতা দেখা যেতে পারে, কিন্তু শুম্যান সংখ্যাটি সাধারণত স্থিতিশীল থাকে। শরীরের এই অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গভীর এবং এটি সরাসরি আমাদের ডিএনএ বা কোষীয় স্তরে কাজ করে।

শরীরের এই ধরণের পরিবর্তন সাধারণত আমাদের জীবনের বাহ্যিক ঘটনাবলির ওপর সরাসরি কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। আমরা আমাদের নিজস্ব ব্যক্তিগত কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে আমাদের জীবনের ঘটনাগুলো তৈরি করি। তবে এই পরিবর্তনের দিনগুলোতে পরিস্থিতির প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যেতে পারে। আমাদের মন বা মস্তিষ্ক এই পরিবর্তনগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ধরতে পারে না, কারণ এই সমন্বয় প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম।

মজার ব্যাপার হলো, এই রূপান্তরের সময় মানুষের মন সাধারণত শান্ত বা স্তব্ধ হয়ে যায়। অভিযোজন বা অ্যাডাপ্টেশন শেষ হওয়ার পর আমরা হয়তো হঠাৎ অনুভব করি যে আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু আমাদের মন এই নতুন উপলব্ধিকে সেই সময়ের কম্পাঙ্ক পরিবর্তনের সাথে না মিলিয়ে বর্তমানের কোনো ব্যক্তিগত ঘটনার সাথে যুক্ত করে ফেলে। মন মনে করে এটি হয়তো তার নিজস্ব কোনো অর্জিত জ্ঞান।

প্রকৃতপক্ষে, এই পরিবর্তনগুলো মাসের পর মাস ধরে খুব ধীরে এবং মসৃণভাবে ঘটে। ছয় মাস বা এক বছর আগের তুলনায় আপনি জগতকে এখন কীভাবে দেখছেন এবং কীভাবে ব্যাখ্যা করছেন, তা বিচার করলে এই পরিবর্তনের গভীরতা বোঝা সম্ভব। তাৎক্ষণিক কোনো গ্রাফ দেখে প্রতিদিনের মেজাজ বিচার করা তাই অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

ব্যক্তিগত বিবর্তন বা ইভোলিউশন এই মহাজাগতিক গতিশীলতার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘ সময়ের পর্যবেক্ষণ ছাড়া মহাজাগতিক কম্পাঙ্কের এই সূক্ষ্ম প্রভাব এবং পৃথিবীর স্পন্দনের মাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ বোঝা বেশ কঠিন। তাই সাময়িক কোনো ওঠানামায় বিচলিত না হয়ে নিজের অভ্যন্তরীণ স্পন্দনের দিকে নজর দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী বিবর্তনের ওপর আস্থা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

47 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Официальный сайт lee

  • Общение с автором lee через Телеграм канал

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।