
হান রাজবংশের সময়কালের বাঁশের পাতায় লেখা একটি স্ক্রোল। সূত্র: Tbatb / Wikimedia Commons / CC BY-SA 4.0
শেয়ার করুন
সম্পাদনা করেছেন: Iryna Balihorodska

হান রাজবংশের সময়কালের বাঁশের পাতায় লেখা একটি স্ক্রোল। সূত্র: Tbatb / Wikimedia Commons / CC BY-SA 4.0
চীনের প্রত্নতাত্ত্বিকরা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের খবর জানিয়েছেন—তা হলো চীনা সাহিত্যের প্রাচীনতম ও সর্বাধিক সম্মানিত কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘বুক অফ সংস’ (শিজিং)-এর একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি উদ্ধার। হান রাজবংশের সম্রাট উ-এর নাতি, হাইহুন-এর মার্কুইস লিউ হে-এর সমাধিস্থলে এই অনন্য পাঠ্যটি পাওয়া গেছে। জিয়াংজি প্রদেশের নানচাং শহরে অবস্থিত এই সমাধিক্ষেত্রটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিবিড় প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
Archaeologists have confirmed the discovery of China's first ever-known complete version of the "Book of Songs" on bamboo slips from the Qin (221-207 BC) and Han (202 BC-220 AD) period, dating back some 2,000 years. #CulturalJourney bit.ly/3WOnISH
পূর্ণ 'গীতবিতান' বাঁশের পাতায়। ছবি: China Daily / X
এই পাণ্ডুলিপিটি শত শত সরু বাঁশের স্লিপ বা ফালির সমন্বয়ে গঠিত, যেখানে প্রাচীন লিপিকাররা কালি দিয়ে চিত্রলিপি খোদাই করেছিলেন। প্রতিটি ফালির দৈর্ঘ্য প্রায় তেইশ সেন্টিমিটার ছিল এবং প্রতিটি দিকে বিশ থেকে পঁচিশটি অক্ষর স্থান পেত। ভঙ্গুর উপাদানটিকে অক্ষত রেখে এর বিষয়বস্তু পুনরুদ্ধার করতে বিশেষজ্ঞরা ইনফ্রারেড স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে পাণ্ডুলিপিটিতে ৩০৫টি কবিতা এবং ৭২৭৪টি পঙক্তি রয়েছে—যা ‘বুক অফ সংস’-এর ধ্রুপদী সংস্করণের ঠিক সমপরিমাণ। এই কারণে, আবিষ্কৃত এই অনুলিপিটি সাহিত্যের এই গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভের প্রথম সম্পূর্ণ সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে যা আমাদের সময় পর্যন্ত টিকে আছে।
খননকার্যের প্রধান ইয়াং জুন-এর মতে, এই আবিষ্কার পশ্চিম হান আমলের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাব্যবস্থা বোঝার জন্য বিশাল তাৎপর্য বহন করে। পণ্ডিতরা অনুমান করছেন যে পাঠ্যটির এই সংস্করণটি কনফুসীয় শিক্ষার জন্য একটি পাঠ্যপুস্তক হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারত। কারণ ‘বুক অফ সংস’ চীনা অভিজাতদের প্রশিক্ষণের একটি বাধ্যতামূলক অংশ হিসেবে বিবেচিত হতো।
সমাধিক্ষেত্রের মালিক, মার্কুইস লিউ হে, হান রাজবংশের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। তিনি ছিলেন সম্রাট উ-এর নাতি, যিনি তাঁর সময়ের অন্যতম শক্তিশালী শাসক ছিলেন। দাদার মৃত্যুর পর লিউ হে অল্প সময়ের জন্য সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন, কিন্তু মাত্র সাতাশ দিন পরেই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং পরবর্তীতে হাইহুন-এর মার্কুইস উপাধি দেওয়া হয়। যদিও তাঁর শাসনকাল সংক্ষিপ্ত ছিল, তবুও তাঁর সমাধিস্থল সেই সময়ের অভিজাতদের মধ্যে প্রচলিত উচ্চ স্তরের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে।
২০১১ সালে শুরু হওয়া এই সমাধিক্ষেত্রের খননকাজ ইতিমধ্যেই অসংখ্য অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এনে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সোনার অলঙ্কার, ব্রোঞ্জের পাত্র, বাদ্যযন্ত্র, আয়না এবং শত শত খোদাই করা বাঁশের ফালি। তবে এই সম্পূর্ণ ‘বুক অফ সংস’ আবিষ্কারটিই হলো মূল কেন্দ্রবিন্দু, যা চীনা লিখন পদ্ধতি এবং কাব্যিক ক্যাননের ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে বদলে দিতে পারে।
চীনা সংস্কৃতিতে ‘বুক অফ সংস’-এর একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। ধারণা করা হয়, এটি খ্রিস্টপূর্ব একাদশ থেকে সপ্তম শতাব্দীর মধ্যে সংকলিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে কনফুসিয়াস এটি সম্পাদনা করেন, যিনি এটিকে ‘পাঁচটি ধ্রুপদী বই’-এর অন্তর্ভুক্ত করেন। এই সংকলনের কবিতাগুলি প্রাচীন সমাজের দৈনন্দিন জীবন, আচার-অনুষ্ঠান এবং বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির বর্ণনা দেয়, যা প্রকৃতি, রাষ্ট্র এবং মানুষের মধ্যেকার ঐক্যের প্রতিফলন ঘটায়। বহু শতাব্দী ধরে এই পাঠ্যটি কনফুসীয় লালন-পালনের ভিত্তি এবং নৈতিক মূল্যবোধের একটি অপরিহার্য উৎস হিসেবে কাজ করেছে।
প্রাচীন এই পাঠ্যটি সংরক্ষণ ও পাঠোদ্ধারে আধুনিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গবেষকরা ইনফ্রারেড এবং থ্রিডি স্ক্যানার ব্যবহার করে প্রায় অস্পষ্ট চিত্রলিপিগুলি পড়তে এবং ফালিগুলির সঠিক ক্রম পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। আগামী বছরগুলোতে পুনরুদ্ধার করা পাঠ্যটির ডিজিটাল প্রকাশনার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে বিশ্বজুড়ে পণ্ডিতরা এটিকে পরবর্তী সংস্করণগুলির সাথে তুলনা করতে পারেন এবং প্রাচীন চীনে ভাষা ও কাব্যিক রূপের বিকাশ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন।
লিউ হে-এর সমাধিক্ষেত্রে ‘বুক অফ সংস’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণ আবিষ্কার কেবল একটি প্রত্নতাত্ত্বিক ঘটনা নয়, এটি চীনা সভ্যতার ধারাবাহিকতার এক প্রতীক। এটি নিশ্চিত করে যে দুই হাজার বছরেরও বেশি আগে প্রতিষ্ঠিত বৌদ্ধিক এবং সাহিত্যিক ঐতিহ্য আজও জীবন্ত রয়েছে, যা অতীত ও বর্তমানের মধ্যেকার সংযোগকে অক্ষুণ্ণ রেখেছে।
thetimes.gr
Full version of ‘Book of Songs’ found at Haihun tomb - Global Times
2,000-Year-Old “Book of Songs” Discovered in China, First Complete Copy Ever Found - GreekReporter.com