আজ সকালে Cyprus-এ 5.7 মাত্রার একটি বড় ভূকম্পন হয়েছে.
ভূমধ্যসাগরের বুকে সাইপ্রাস দ্বীপের দক্ষিণে সম্প্রতি একাধিক ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে, যা এই অঞ্চলের ভূ-তাত্ত্বিক সক্রিয়তার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩১ মিনিটে প্রথম কম্পনটি পরিমাপ করা হয়, যার মাত্রা ছিল ৫.২। এই প্রাথমিক আঘাতের কেন্দ্রস্থল ছিল ২১ কিলোমিটার গভীরে।
তবে, তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (AFAD) এই মাত্রাকে নিশ্চিত করলেও গভীরতার ভিন্নতা দেখিয়ে প্রায় ১৫.৫ কিলোমিটার গভীরতার কথা উল্লেখ করেছে। এই কম্পনের প্রভাব উত্তর সাইপ্রাস ছাড়িয়ে তুরস্কের উপকূলীয় শহর যেমন আন্টালিয়া এবং আদানা পর্যন্ত তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। এর পরপরই, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে একই এলাকায় ৩.৫ মাত্রার একটি মৃদু কম্পন এবং তার মাত্র পাঁচ মিনিট পরে ১২টা ৪১ মিনিটে ৪.৮ মাত্রার আরেকটি ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করার কথা জানিয়েছেন, যা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি, তবে এই ধারাবাহিক কম্পনগুলো একটি বৃহত্তর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞরা পর্যবেক্ষণ করছেন যে তুরস্কের দক্ষিণ উপকূল এবং সাইপ্রাস দ্বীপের মধ্যবর্তী পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবেই একটি সক্রিয় সিসমিক এলাকা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ধারাবাহিকতা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং AFAD ও স্থানীয় সরকারের পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে পরামর্শ দিয়েছে।
তুর্কি গণমাধ্যমগুলো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে সমুদ্রের মধ্যে ঘটা এই ধরনের ভূমিকম্পগুলো সাধারণত ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটায় না, তবে এগুলো ওই এলাকায় চলমান উচ্চ সিসমিক কার্যকলাপের একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে। সাইপ্রাস ভৌগোলিকভাবে ভূমধ্যসাগরের পূর্ব অববাহিকায় অবস্থিত এবং এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। অতীতে, এই অঞ্চলে বড় ধরনের কম্পন অনুভূত হয়েছে; যেমন ১৯৯৬ সালে পশ্চিম উপকূলে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে দুজন নিহত হন এবং ১৯৫৩ সালে পাফোস অঞ্চলে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে ৪০ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। এই ঐতিহাসিক তথ্যগুলো বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যে স্থাপন করে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই অঞ্চলের ভূ-কাঠামোতে শক্তির সঞ্চালন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই ধরনের ঘটনাগুলো সম্মিলিত সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাকেও প্রতিফলিত করে।