পোলার ভর্টেক্সের অস্থিরতা: বলকান ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে কুয়াশা, বৃষ্টি এবং তুষারপাতের পূর্বাভাস

সম্পাদনা করেছেন: Tetiana Martynovska 17

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বিস্তীর্ণ এলাকা, বিশেষ করে বুলগেরিয়া এবং কৃষ্ণসাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চল এক জটিল বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই অঞ্চলের আকাশ বর্তমানে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন, যা দক্ষিণ বলকান উপদ্বীপের বিভিন্ন উপত্যকায় যাতায়াত ও দৃশ্যমানতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, মেরু ঘূর্ণাবর্ত বা 'পোলার ভর্টেক্স'-এর কাঠামোগত ভাঙন এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মূল কারণ, যা বর্তমানে সমগ্র ইউরোপ মহাদেশের আবহাওয়ায় ব্যাপক বৈচিত্র্য ও বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে। এই কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতি কেবল একটি স্থানীয় ঘটনা নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর জলবায়ু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে যা বর্তমানে ইউরোপীয় আবহাওয়া মানচিত্রে দৃশ্যমান।

বর্তমান তাপমাত্রা অনুযায়ী, দিনের বেলা আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে মৃদু থাকবে, যা সাধারণত ৫° সেলসিয়াস থেকে ১০° সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করবে। বুলগেরিয়ার বিভিন্ন অংশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪° থেকে ৬° সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও রাজধানী সোফিয়ায় তা সর্বোচ্চ প্রায় ৭° সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। রাতের বেলা তাপমাত্রা সাধারণত ০° থেকে ৫° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে এবং সোফিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২° সেলসিয়াস হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উত্তর বুলগেরিয়ার ঐতিহাসিক তথ্যের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণত উত্তর দিক থেকে আসা শীতল বায়ুর প্রভাবে হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা থাকে, তবে এবারের পরিস্থিতি তার থেকে অনেকটাই আলাদা এবং অস্বাভাবিক।

পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে বিশেষ করে ১৫০০ থেকে ১৬০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় উল্লেখযোগ্য তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। রিলো-রোডোপ ম্যাসিফ, স্ট্রানজা এবং সাকার অঞ্চলের মতো উঁচু স্থানগুলোতে তুষারের পুরু স্তর জমতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় মাঝারি থেকে তীব্র বাতাসের প্রভাবে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পাবে। ১২০০ মিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা ৪° সেলসিয়াস থাকলেও ২০০০ মিটার বা তার বেশি উচ্চতায় তা হিমাঙ্কের নিচে নেমে প্রায় -১° সেলসিয়াসে পৌঁছাবে। পার্বত্য অঞ্চলের এই তুষারপাত স্থানীয় শীতকালীন পর্যটনের জন্য ইতিবাচক হলেও, প্রবল বাতাসের কারণে সাধারণ যাতায়াত ও অবস্থান বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় এলাকাগুলো বর্তমানে ঘন কুয়াশা এবং বৃষ্টির এক দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। সকালের দিকে দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হলেও সন্ধ্যার মধ্যে তা সমগ্র উপকূলরেখায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শক্তিশালী বাতাসের প্রভাবে উপকূলীয় বায়ুর তাপমাত্রা ৮° থেকে ৯° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে। সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ৫° থেকে ৭° সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করবে এবং সমুদ্র উত্তাল থাকায় ঢেউয়ের উচ্চতা স্কেলে ২ থেকে ৩ পয়েন্ট পর্যন্ত রেকর্ড করা হতে পারে। উপকূলীয় বাসিন্দাদের জন্য এই বৈরী আবহাওয়া দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটাতে পারে, বিশেষ করে যারা সমুদ্রকেন্দ্রিক পেশার সাথে জড়িত তাদের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে যে, সপ্তাহান্ত পর্যন্ত এই অপেক্ষাকৃত উষ্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২° থেকে ১৭° সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। শনিবার কুয়াশা কিছুটা কেটে গিয়ে আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও রবিবার পুনরায় বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। তবে পরবর্তী সপ্তাহের শুরু থেকে আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শক্তিশালী বাতাসের প্রভাবে দেশজুড়ে তাপমাত্রা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পাবে। আগামী মঙ্গলবার নাগাদ সমগ্র দেশ তুষারপাতের চাদরে ঢেকে যেতে পারে এবং তাপমাত্রা মাইনাস ২° থেকে ৩° সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসার মাধ্যমে শীতের তীব্র রূপ আবার ফিরে আসবে। এই আকস্মিক শীতলীকরণ বা 'কোল্ড স্ন্যাপ' জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই নাগরিকদের আগাম প্রস্তুতির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

17 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Стандарт - Новини, които си струва да споделим

  • Meteo Balkans

  • Actualno.com

  • Fakti.bg

  • BalkanNews

  • Нова Варна

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।