ফেব্রুয়ারির শুরুতে আর্কটিক বায়ুপ্রবাহে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস: তাপমাত্রার ব্যাপক পতনের আশঙ্কা

সম্পাদনা করেছেন: Tetiana Martynovska 17

আবহাওয়ার সাম্প্রতিক গাণিতিক মডেল এবং পূর্বাভাস অনুযায়ী, একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আসন্ন শৈত্যপ্রবাহ আগামী দিনগুলোতে আবহাওয়ার সামগ্রিক গতিপ্রকৃতিকে আমূল বদলে দিতে প্রস্তুত। নির্দিষ্ট কিছু ভৌগোলিক অঞ্চলে এই তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য এবং নাটকীয় পতন জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই দীর্ঘস্থায়ী প্রতিকূল আবহাওয়ার ধরণটি আগামী ৮ই ফেব্রুয়ারি, রবিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই বিশেষ সময়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য থাকলেও চারপাশ বরফাবৃত থাকা এবং পিচ্ছিল পরিস্থিতির মতো দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা অব্যাহত থাকবে।

এই সপ্তাহান্তে উত্তরপূর্বে আর্কটিক শীত ছড়াবে, এ পর্যন্ত সবচেয়ে ঠাণ্ডা তাপমাত্রা আনবে।

এই বিশাল পরিবর্তনের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে আর্কটিক বায়ুপ্রবাহের একটি শক্তিশালী ও গভীর অনুপ্রবেশ। সাধারণত উত্তর মেরুর সুদূর প্রান্তের অত্যন্ত শীতল বায়ু যখন দক্ষিণ দিকে নিম্ন অক্ষাংশের দিকে প্রবাহিত হয়, তখন একে পোলার ভর্টেক্স বা মেরু ঘূর্ণাবর্তের একটি বিশৃঙ্খল অবস্থা হিসেবে গণ্য করা হয়। আগামী ৪৮ ঘণ্টার প্রাথমিক পূর্বাভাসে তাপমাত্রার ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সময়ে প্রভাবিত অঞ্চলগুলোতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা -৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা মাত্র +২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক কম।

সব ইঙ্গিত বলছে mid-February পর্যন্ত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত ঠাণ্ডা Greenland ব্লক আর্কটিক বায়ুকে দক্ষিণে eastern United States-এ ঠেলে দেবে।

৯ই ফেব্রুয়ারি, সোমবার থেকে এই শীতল হওয়ার প্রবণতা আরও তীব্র, প্রকট এবং ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। সিনপটিক ডেটা বা আবহাওয়া সংক্রান্ত মানচিত্রের গভীর বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, তাপমাত্রার পারদ এক বিশাল নিম্নমুখী পথে ধাবিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে রাতের বেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়ে -১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে। দিনের বেলাও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই; সর্বোচ্চ তাপমাত্রা -৮ ডিগ্রি থেকে -১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এই তীব্র শীতের প্রকোপ সময়ের সাথে সাথে আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ১০ই ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার নাগাদ রাতের তাপমাত্রা -২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি তলানিতে পৌঁছাতে পারে।

এই প্রাকৃতিক ঘটনার পেছনে বায়ুমণ্ডলের অত্যন্ত জটিল এবং সূক্ষ্ম কিছু প্রক্রিয়া সক্রিয় রয়েছে। আর্কটিক অঞ্চলের অনেক উঁচুতে হঠাৎ করে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারিক উষ্ণায়নের ফলে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারিক মেরু ঘূর্ণাবর্তটি দুর্বল হয়ে পড়ে। যখন এই শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্তটি টালমাটাল হয় বা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, তখন এটি দক্ষিণ দিকে প্রচণ্ড শীতল বায়ুর ঝাপটা পাঠায়। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে যে, ১০ হেক্টোপ্যাসকাল (hPa) উচ্চতায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধরণের বায়ুমণ্ডলীয় বিন্যাস একটি 'ব্লকি' বা স্থবির উচ্চ-চাপ বলয় তৈরি করে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণত প্রত্যাশিত নয়।

মেরু ঘূর্ণাবর্তের এই অস্বাভাবিক দক্ষিণমুখী যাত্রার ঐতিহাসিক নজির রয়েছে, যা অতীতে উত্তর আমেরিকা জুড়ে রেকর্ড পরিমাণ সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার সৃষ্টি করেছিল এবং জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। বর্তমান পূর্বাভাসে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কথা থাকলেও কনকনে ঠান্ডায় বরফ জমার কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত ঝুঁকির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চরম শীতল আবহাওয়ার সময় জননিরাপত্তার স্বার্থে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে সকলকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • ТСН.ua

  • Думка

  • РЕДПОСТ

  • 24 Канал

  • Главред

  • UA: ТРИБУНА.Харків

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।