২০২৬ সালের ১০ মার্চ পোর্তোর আকাশে রহস্যময় ইউএফও দেখার ঘটনা তদন্ত করছে সিআইএফএ (CIFA)

সম্পাদনা করেছেন: Uliana Soloveva

২০২৬ সালের ১০ মার্চ, মঙ্গলবার ভোরে পর্তুগালের পোর্তো শহরের আকাশে একটি রহস্যময় উড়ন্ত বস্তু বা ইউএফও (UFO) দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রেক্ষিতে সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ অ্যারোস্পেস ফেনোমেনা (CIFA) একটি আনুষ্ঠানিক এবং নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে। ক্যাম্পানিয়া (Campanhã) এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা রাত প্রায় ২:০০ টার দিকে একটি অদ্ভুত সাদা রঙের বস্তু দেখার কথা জানিয়েছেন। তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, বস্তুটির প্রপেলারগুলো ছিল মৌমাছি বা মাছির ডানার মতো ঝিল্লিযুক্ত, যা সাধারণ কোনো ড্রোনের নকশার সাথে মেলে না। ভিলা দো কোন্দে (Vila do Conde) ভিত্তিক সংস্থা সিআইএফএ এই সাক্ষ্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সংগ্রহ করেছে, যা এই ঘটনার অনন্য এবং অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে, বস্তুটির গতিবিধি ছিল অত্যন্ত অসংলগ্ন এবং এটি হঠাৎ করে তীব্র গতিতে দিক পরিবর্তন করছিল, যাকে তারা "বিশৃঙ্খল চলাচল" হিসেবে অভিহিত করেছেন। কিছু প্রতিবেদনে বস্তুটির চারপাশে ছোট ছোট আলোকবিন্দু বা উজ্জ্বল কণার উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা বস্তুটিকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছিল। তবে আবহাওয়ার দ্রুত অবনতি ঘটায় এবং কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এই পর্যবেক্ষণটি আকস্মিকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার ফলে বস্তুটির সাথে চাক্ষুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরবর্তী তথ্য সংগ্রহ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

পর্তুগালে গত কয়েক বছরে অজ্ঞাত আকাশযান দেখার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনমনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। সিআইএফএ-র সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে ৫০টিরও বেশি এই ধরনের রহস্যময় ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়। যদিও সিআইএফএ এই অস্বাভাবিক ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে নথিভুক্ত করেছে, পর্তুগিজ বিমান বাহিনী (FAP) এই বিষয়ে একটি ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছে। জাতীয় আকাশসীমা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত এয়ার কমান্ড (Comando Aéreo) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট সময়ে তারা তাদের রাডারে কোনো অনিয়মিত বা অস্বাভাবিক পর্যবেক্ষণ রেকর্ড করেনি। বেসামরিক গবেষক এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে তথ্যের এই বৈপরীত্য এই ধরনের ঘটনার বিশ্লেষণে প্রাতিষ্ঠানিক ভিন্নতার একটি বড় উদাহরণ।

সিআইএফএ-র সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, পোর্তো জেলা ঐতিহাসিকভাবেই এই ধরনের রিপোর্টের জন্য একটি অত্যন্ত সক্রিয় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালে পোর্তো জেলায় সর্বোচ্চ ১২টি রহস্যময় ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা রাজধানী লিসবনের ১১টি ঘটনার চেয়ে কিছুটা বেশি। সামগ্রিকভাবে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সিআইএফএ মোট ১৩৭টি প্রতিবেদন প্রক্রিয়াকরণ করেছে। সংস্থাটি বারবার জোর দিয়ে বলেছে যে, এই ধরনের রহস্যময় ঘটনার সঠিক এবং বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য।

এই রহস্যময় ঘটনার প্রেক্ষাপটে পর্তুগালের ক্রমবর্ধমান মহাকাশ খাতের গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আবারও আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালে পর্তুগাল তার উচ্চাভিলাষী "স্পেস স্ট্র্যাটেজি ২০৩০" বাস্তবায়ন করছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং জাতীয় মহাকাশ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন। বিমান বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ জেনারেল জোয়াও কার্টাক্সো আলভেস (João Cartaxo Alves) এর আগে এক বিবৃতিতে মহাকাশকে জাতীয় প্রতিরক্ষার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। প্রযুক্তিগত ব্যাপক অগ্রগতি সত্ত্বেও, এফএপি (FAP)-এর মতো সরকারি সংস্থাগুলো কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করে, যা ১০ মার্চ ২০২৬-এর ঘটনাটি নিশ্চিত করতে তাদের অনীহার একটি যৌক্তিক কারণ হতে পারে। তবে সিআইএফএ একটি জাতীয় গবেষণা সংস্থা হিসেবে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এই রহস্যময় ঘটনা সম্পর্কে আরও তথ্য এবং প্রমাণ সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে।

12 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • NOTÍCIAS DE COIMBRA

  • rumores.pt

  • Notícias de Coimbra

  • Reddit

  • CIFA – Centro de Investigação de Fenómenos Aeroespaciais

  • Notícias ao Minuto

এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।