ডায়সন স্ফিয়ারগুলো নিজেদের মতো স্থিত হবে: বৈজ্ঞানিক-কল্পনার মেগা-সংরচনাগুলো বাস্তব হতে পারে এবং বহির্জগত জীবনের খোঁজে একটি নতুন দিক।
ডাইসন স্ফিয়ারের মতো মহাজাগতিক মেগাস্ট্রাকচারগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন এক বৈপ্লবিক তত্ত্ব
সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.
অ্যাস্ট্রোফিজিক্স বা জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের একটি অত্যাধুনিক তাত্ত্বিক গবেষণা নক্ষত্রের শক্তি আহরণের জন্য পরিকল্পিত কাল্পনিক মেগাস্ট্রাকচারগুলোর দীর্ঘস্থায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি উন্মোচন করেছে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ স্ট্রাথক্লাইডের বিশিষ্ট গবেষক কলিন ম্যাকইনেস এই গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, ডাইসন স্ফিয়ার বা স্টেলার ইঞ্জিনের মতো বিশাল আকৃতির কাঠামোসমূহ 'প্যাসিভ স্ট্যাবিলাইজেশন' বা নিষ্ক্রিয় স্থিতিশীলতা অর্জন করতে সক্ষম। এর অর্থ হলো, কোনো প্রকার নিয়মিত সক্রিয় রক্ষণাবেক্ষণ বা যান্ত্রিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই এই কাঠামোগুলো মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশে দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে।
1960 সালে Freeman Dyson সমস্ত সৌর শক্তি ধারণ করতে একটি মেগাস্ট্রাকচার প্রস্তাব করেছিলেন — Dyson Sphere.
ম্যাকইনেসের এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাটি 'মান্থলি নোটিস অফ দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি' (Monthly Notices of the Royal Astronomical Society) নামক মর্যাদাপূর্ণ জার্নালে প্রকাশের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, যার অনলাইন সংস্করণটি ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে। লেখক এই মেগাস্ট্রাকচারগুলোকে কেবল সাধারণ বিন্দু-ভর হিসেবে বিবেচনা না করে বিস্তৃত ভৌত বস্তু হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন। এই পদ্ধতিটি মহাকর্ষীয় এবং বিকিরণ বলের প্রভাবগুলোকে আরও নির্ভুলভাবে মডেল করতে সহায়তা করে। মূলত এটি ১৮৫৬ সালে জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েলের শনির বলয়ের অস্থিরতা সংক্রান্ত যে ধ্রুপদী তত্ত্ব ছিল, তাকে আরও প্রসারিত করে কৃত্রিমভাবে তৈরি বিশাল কাঠামোর ভারসাম্যের সম্ভাবনাকে গাণিতিকভাবে প্রমাণ করেছে।
তারকা ইঞ্জিন এবং ডায়সন গোলক বহু বছর ধরে বৈজ্ঞানিক কল্পনার ধারণা হিসেবে ছিল। চরম পদার্থবিজ্ঞান এগুলোকে সম্ভাব্য স্থির কাঠামো হিসেবে বিশ্লেষণ শুরু করেছে।
স্টেলার ইঞ্জিন বা নক্ষত্র চালিত ইঞ্জিনের ধারণার ক্ষেত্রে, যা মূলত বিশালাকার আয়না ব্যবহার করে নক্ষত্রের তাপকে নির্দিষ্ট দিকে পরিচালিত করে থ্রাস্ট বা ধাক্কা তৈরি করে, এর স্থায়িত্ব মূলত ভরের সুষম বিন্যাসের ওপর নির্ভর করে। নতুন এই গাণিতিক মডেলটি ভবিষ্যদ্বাণী করছে যে, যদি মেগাস্ট্রাকচারের অধিকাংশ ভর বাইরের দিকের একটি ঘন বলয়াকার কাঠামোতে সুসংগঠিত থাকে, তবে মহাকর্ষ বল এবং বিকিরণ চাপ একে অপরকে নিখুঁতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রাখতে পারে। এই বিশেষ প্রক্রিয়ার ফলে পুরো নক্ষত্র ব্যবস্থাটি একটি বিশাল এবং নিয়ন্ত্রিত মহাকাশযানের মতো মহাবিশ্বে বিচরণ করতে সক্ষম হবে।
অন্যদিকে ডাইসন স্ফিয়ারের ক্ষেত্রে, যা মূলত অসংখ্য ছোট ছোট আয়না বা সোলার প্যানেলের একটি ঝাঁক হিসেবে কল্পনা করা হয়, স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি হলো এর স্ব-সংগঠিত হওয়ার ক্ষমতা। গবেষক ম্যাকইনেস প্রস্তাব করেছেন যে, যদি এই প্যানেলগুলোর ঘনত্ব নক্ষত্রের আলোকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করার জন্য যথেষ্ট হয় কিন্তু কক্ষপথের অবস্থান পরিবর্তনের জন্য খুব বেশি না হয়, তবে এর উপাদানগুলো প্রাকৃতিকভাবেই একটি স্থিতিশীল বিন্যাসে নিজেদের পুনর্গঠিত করে নেবে। মহাকর্ষীয় আকর্ষণ এবং আলোক বিকিরণের চাপের এই চমৎকার ভারসাম্য কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই সিস্টেমটিকে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে সচল রাখতে পারে।
এই গবেষণার ফলাফল ভিনগ্রহের বুদ্ধিমত্তার সন্ধান বা সেটি (SETI) প্রকল্পের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই ধরনের স্থিতিশীল মেগাস্ট্রাকচারগুলো মহাকাশে পর্যবেক্ষণযোগ্য 'টেকনোসিগনেচার' বা প্রযুক্তিগত সংকেত রেখে যেতে পারে। ইউনিভার্সিটি অফ স্ট্রাথক্লাইডের ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্সের অধ্যাপক হিসেবে কলিন ম্যাকইনেস মহাকাশ প্রকৌশলের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবগুলো বুঝতে অনন্য অবদান রাখছেন। তার এই কাজ মেগাস্ট্রাকচার তৈরির মৌলিক সীমাবদ্ধতাগুলো থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সম্ভাব্য পর্যবেক্ষণযোগ্য প্রভাবগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এটি ভবিষ্যতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য এমন সব অস্বাভাবিক আলোর পরিবর্তন শনাক্ত করতে সহায়ক হবে, যা প্রাকৃতিক কোনো কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।
উৎসসমূহ
TechNews 科技新報 | 市場和業內人士關心的趨勢、內幕與新聞
Monthly Notices of the Royal Astronomical Society
Monthly Notices of the Royal Astronomical Society
Monthly Notices of the Royal Astronomical Society
Monthly Notices of the Royal Astronomical Society
科技新報
