Эрик Берлисон দাবি করেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে একটি স্থান সম্পর্কে জানেন, যেখানে কথিতভাবে একটি বিশাল UFO কবর দেওয়া হয়েছে, যার চারপাশে এটিকে ধরে রাখার জন্য একটি কাঠামো নির্মিত হয়েছে।
মিসৌরির প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য কংগ্রেস সদস্য এরিক বার্লিসন সম্প্রতি রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা মহলে এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, একটি বিশাল আকৃতির অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু বা ইউএফও (UFO) বর্তমানে একটি অত্যন্ত গোপন সামরিক স্থাপনায় সংরক্ষিত রয়েছে, যা সম্ভবত দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থিত। বার্লিসনের মতে, এই রহস্যময় বস্তুটি এতটাই বিশাল যে এটি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই তথ্যটি অত্যন্ত গোপনীয় বা ক্লাসিফাইড এবং তিনি এই বিষয়ে স্টিভেন গ্রিয়ার বা অন্য কোনো ব্যক্তির পূর্ববর্তী বক্তব্যের সূত্র ধরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
ডা স্টিভেন গ্রিয়ার দাবি করেন যে দক্ষিণ কোরিয়া শক্তি অস্ত্র ব্যবহার করে একটি বিশাল UFO-কে নামিয়ে দিয়েছে, এবং সেটি এত বড় ছিল যে এটিকে স্থান দিতে তাদের একটি পাহাড় কেটে ফেলতে হয়েছে।
হাউস ওভারসাইট কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে বার্লিসন এই ধরনের গোপন স্থাপনাগুলো ব্যক্তিগতভাবে পরিদর্শন করার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার এই আগ্রহ মূলত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে রেডিট (Reddit)-এর মতো বিভিন্ন ফোরাম এবং সোশ্যাল মিডিয়া কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। এই বিশাল আকৃতির বস্তুটি নিয়ে ইন্টারনেটে যে ব্যাপক গুঞ্জন এবং আলোচনা চলছে, সে সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি অবগত। তিনি মনে করেন যে, জনগণের পক্ষ থেকে ওঠা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা এবং সত্যতা যাচাই করা একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।
আইনি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে, ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট কংগ্রেস সদস্য বার্লিসন প্রতিনিধি পরিষদে 'ইউএপি ডিসক্লোজার অ্যাক্ট ২০২৫' (UAP Disclosure Act of 2025) পেশ করেন। এই আইনটি ২০২৬ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনের (NDAA) একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রস্তাবিত আইনের মূল লক্ষ্য হলো অজ্ঞাত আকাশযান বা ইউএপি সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র বা রেকর্ড ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকা। এছাড়া, যদি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো সরাসরি হুমকি না থাকে, তবে এই রেকর্ডগুলো তৈরির ২৫ বছরের মধ্যে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগটি মূলত আইনপ্রণেতাদের স্বচ্ছতার আকাঙ্ক্ষা এবং পেন্টাগনের অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজোলিউশন অফিস (AARO)-এর মতো সরকারি সংস্থাগুলোর সতর্ক অবস্থানের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালের জুলাই মাসে তথ্য সংগ্রহের মানদণ্ড নির্ধারণ এবং বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের জন্য এএআরও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বার্লিসন ইউএপি সংক্রান্ত বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফুটেজও জনসমক্ষে উপস্থাপন করেছেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবরের একটি উল্লেখযোগ্য ফুটেজ রয়েছে, যেখানে দেখা যায় একটি এমকিউ-৯ (MQ-9) ড্রোন ইয়েমেন উপকূলের কাছে একটি রহস্যময় গোলক আকৃতির বস্তুর দিকে একটি হেলফায়ার (Hellfire) মিসাইল নিক্ষেপ করছে। বার্লিসন বিশেষভাবে এই ফুটেজটির দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন কারণ ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতের পরেও বস্তুটি তার স্বাভাবিক উড্ডয়ন অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছিল। তার মতে, এই ঘটনাটি বস্তুটির অস্বাভাবিক এবং উন্নত প্রযুক্তির পরিচয় দেয় যা প্রচলিত কোনো মানবসৃষ্ট ড্রোনের পক্ষে সম্ভব নয়। যদিও এএআরও (AARO) এর আগে এই ফুটেজটিকে 'সাধারণ' বা 'অবিশেষ' বলে অভিহিত করেছিল এবং জানিয়েছিল যে এর পেছনে কোনো অলৌকিক বা ভিনগ্রহের প্রযুক্তির প্রমাণ নেই।
পেন্টাগনের প্রাক্তন কর্মকর্তাদের গোপন কর্মসূচি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে বার্লিসন তার অনড় এবং আপসহীন অবস্থানের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বিভিন্ন রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিং পাওয়ার পরেও তার মৌলিক বিশ্ববীক্ষা বা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়নি। বরং তিনি বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী এবং হুইসেলব্লোয়ারদের দেওয়া জবানবন্দির সত্যতায় গভীরভাবে বিশ্বাস করেন। আন্না লুনা এবং টিম বার্চেটের মতো সমমনা আইনপ্রণেতাদের সাথে মিলে তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে তথ্য গোপনের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে চান। তারা মনে করেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এই গোপনীয়তা ভাঙার জন্য সিস্টেমেটিক বা কাঠামোগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।
অন্যদিকে, এএআরও তাদের তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক এবং ডিজিটাল করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ২০২৫ সালের মে মাসের মধ্যে জেউইআইসিএস (JWICS) নামক সুরক্ষিত নেটওয়ার্কে একটি বিশেষায়িত কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা করেছে যাতে ভবিষ্যতে ইউএপি সংক্রান্ত তথ্য আরও দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা বিশাল আকৃতির বস্তু সম্পর্কে বার্লিসনের দাবিগুলো এখনো পর্যন্ত কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত নয় এবং এটি মূলত ইন্টারনেটে প্রচলিত আলোচনার ওপর ভিত্তি করেই রয়ে গেছে। পেন্টাগনের সমালোচকরা এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করলে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সাথে, বৈজ্ঞানিক সমাজ জোর দিচ্ছে যে কোনো ধরনের উন্মুক্ত তদন্ত বা গবেষণা অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ এবং যাচাইযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হওয়া উচিত।