২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে এক চাঞ্চল্যকর সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রখ্যাত তদন্তকারী চলচ্চিত্র নির্মাতা জেমস ফক্স ১৯৯৬ সালের জানুয়ারিতে ব্রাজিলের ভার্জিনিয়াতে ঘটে যাওয়া অমীমাংসিত মহাকাশীয় ঘটনা (UAP) সংক্রান্ত নতুন এবং অকাট্য প্রমাণাদি সেখানে উপস্থাপন করেন। ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে ফক্স বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন যে, এই প্রমাণগুলো সরাসরি একটি ভিনগ্রহী যান বিধ্বস্ত হওয়া এবং পরবর্তীকালে মানুষ নয় এমন জৈবিক সত্তার সাথে যোগাযোগের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে। তার মতে, এই পুরো ঘটনাটি মূলত গোপন সরকারি উদ্ধার অভিযানের একটি অংশ ছিল যা দীর্ঘকাল ধরে আড়ালে রাখা হয়েছে।
এই বিশেষ ব্রিফিংটি বর্তমানে ইউএপি বা অজ্ঞাত আকাশযান সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ক্রমবর্ধমান জনদাবির প্রেক্ষাপটে আয়োজিত হয়েছে। জেমস ফক্স ব্যক্তিগতভাবে এবং ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণ ব্যবহার করে মার্কিন প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এই অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক গুরুত্ব যোগ করেছিলেন মিসৌরির কংগ্রেস সদস্য এরিক বার্লিসন, যিনি কংগ্রেসনাল ইউএপি ককাসের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। ফক্স, যিনি ইতিপূর্বে 'দ্য ফেনোমেনন' এবং 'মোমেন্ট অফ কন্টাক্ট'-এর মতো সাড়া জাগানো তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন, ভার্জিনিয়ার এই ঘটনাকে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ইউএফও উদ্ধার অভিযানের উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এখানে কেবল ধ্বংসাবশেষ নয়, বরং জীবিত ভিনগ্রহী প্রাণীর উপস্থিতিও ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী তাদের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আল্ট্রালাইট বিমানের পাইলট এবং ভূগোলের শিক্ষক কার্লোস ডি সুজা, যিনি একটি চুরুট আকৃতির আকাশযান বিধ্বস্ত হতে দেখার দাবি করেছেন। এছাড়াও লিলিয়ান সিলভা, কাটিয়া জেভিয়ার এবং লুইজা এলেনা ডি সিলভা একটি আবাসিক এলাকায় অদ্ভুত এক প্রাণীকে দেখার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ ছিল ভার্জিনিয়া রিজিওনাল হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর ইতালো ভেনচুরেলির সাক্ষ্য। তিনি জানান যে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সেই অদ্ভুত প্রাণীটিকে সরাসরি দেখেছিলেন এবং তার সাথে একটি টেলিপ্যাথিক বা মানসিক যোগাযোগ অনুভব করেছিলেন। ডক্টর ভেনচুরেলির বর্ণনা অনুযায়ী, প্রাণীটি ছিল ধবধবে সাদা বর্ণের, তার মাথার খুলি ছিল অনেকটা চোখের জলের ফোঁটার মতো এবং চোখ ছিল উজ্জ্বল বেগুনি রঙের। তিনি প্রাণীটিকে অত্যন্ত শান্ত এবং 'দেবদূতের' মতো বলে বর্ণনা করেন।
অনুষ্ঠানে ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট ডক্টর আরমান্দো ফরচুনাতো উপস্থিত থেকে তার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি একজন মৃত ব্রাজিলীয় সৈনিকের টিস্যু নমুনা পরীক্ষা করেছেন, যিনি কথিত সেই ভিনগ্রহী প্রাণীর সংস্পর্শে আসার কিছুকাল পরেই মারা গিয়েছিলেন। ফক্স জানান যে, চিকিৎসকরা সেই সৈনিকের শরীরে অত্যন্ত বিরল এবং অস্বাভাবিকভাবে উন্নত এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া খুঁজে পেয়েছেন, যা পৃথিবীতে সাধারণত দেখা যায় না। এই ঘটনার একটি করুণ অধ্যায় হলো অফিসার মার্কো এলি চেরেজের মৃত্যু। লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, তিনি খালি হাতে একটি প্রাণীকে ধরেছিলেন এবং পরবর্তীতে রহস্যময় ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে তার মৃত্যু হয়। যদিও সরকারি নথিতে একে সাধারণ সংক্রমণ বলা হয়েছে, তবে অনেক গবেষকই একে অজানা কোনো জৈবিক এজেন্টের প্রভাব বলে মনে করেন।
যদিও ১৯৯৭ সালে ব্রাজিলীয় সেনাবাহিনীর একটি আনুষ্ঠানিক তদন্তে দাবি করা হয়েছিল যে প্রত্যক্ষদর্শীরা আসলে একজন স্থানীয় গৃহহীন ব্যক্তিকে দেখে ভুল করেছিলেন, তবুও সাক্ষীরা তাদের দাবিতে অনড় রয়েছেন। কার্লোস ডি সুজা জানান, তিনি এমন কিছু ধ্বংসাবশেষ দেখেছিলেন যা দুমড়ে যাওয়া অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের মতো মনে হলেও নিজে থেকেই আবার আগের আকার ধারণ করতে সক্ষম ছিল। নিউজ নেশনের রস কুলথার্ট এবং মেগান উরাদার সঞ্চালনায় এই সম্মেলনটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল। সকালের অধিবেশনে ব্রাজিলীয় সাক্ষীদের বক্তব্য শোনা হয় এবং বিকেলের অধিবেশনে মার্কিন বিশেষজ্ঞরা গোপন উদ্ধার কর্মসূচি এবং তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ফ্রেড ক্লাউসেনের উপস্থিতি এই আলোচনায় সামরিক গুরুত্ব যোগ করেছে। সামগ্রিকভাবে, এই ইভেন্টটি ভার্জিনিয়ার রহস্যকে বৈজ্ঞানিক এবং সামরিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বৈধতা দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


