২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর সাও পাওলোর গভর্নর আনুষ্ঠানিকভাবে মোরু গ্র্যান্ডি স্টেট পার্ক প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এই নতুন এবং কঠোরভাবে সংরক্ষিত প্রাকৃতিক অঞ্চলটি কোতিয়া এবং ইবিউনা পৌরসভাগুলির মধ্যে অবস্থিত। এই পদক্ষেপটি এই অঞ্চলের অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশকে দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের জন্য রাজ্যের কৌশলগত পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই নবগঠিত অভয়ারণ্যের মোট আয়তন ১০,৮৭০ হেক্টর, যা এটিকে সাও পাওলো রাজ্যের আটলান্টিক বনের অন্যতম বৃহত্তম সংরক্ষিত এলাকায় পরিণত করেছে। আকারের দিক থেকে এটি রাজ্যের বিখ্যাত কান্তারেইরা স্টেট পার্ককেও ছাড়িয়ে গেছে। এই বিশাল ভূখণ্ডটির পরিবেশগত গুরুত্ব অপরিসীম, বিশেষত জল সুরক্ষার ক্ষেত্রে।
এই পার্কটি কোতিয়া নদীর উৎসস্থলকে আবৃত করে, যা মেট্রোপলিটন অঞ্চলের প্রায় ৪,০০,০০০ (চার লক্ষ) বাসিন্দাকে পানীয় জল সরবরাহ করে বলে জানা যায়। এই গুরুত্বপূর্ণ জলসম্পদের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা মেগাসিটির জীবনযাত্রার মান বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য এবং এর সুরক্ষা সরাসরি পার্কের সংরক্ষণের উপর নির্ভর করে।
মোরু গ্র্যান্ডি ইকোসিস্টেম তার ব্যতিক্রমী জীববৈচিত্র্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। নিবিড় গবেষণায় দেখা গেছে যে এই অঞ্চলে ২৬০ প্রজাতির বৃক্ষ এবং প্রায় ২০০ প্রজাতির পাখির উপস্থিতি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও, বহু স্তন্যপায়ী প্রাণী এখানে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নিয়েছে, যার মধ্যে বেশ কিছু প্রজাতি রয়েছে যারা বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এই প্রাকৃতিক ভান্ডারটি উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে, যাদের টিকে থাকা পরিবেশের অখণ্ডতার উপর সরাসরি নির্ভরশীল।
এই এলাকাটিকে পার্কের মর্যাদা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বহু বছরের প্রচেষ্টার চূড়ান্ত ফল। ১৯৭০-এর দশকে শুরু হওয়া জনসক্রিয়তার মাধ্যমেই এই স্থানের সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছিল, যখন স্থানীয়দের সম্মিলিত উদ্যোগে এখানে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে কীভাবে সম্মিলিত দূরদর্শিতা একটি অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণে সহায়ক হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ আশা করছেন যে মোরু গ্র্যান্ডি স্টেট পার্ক ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হবে। এটি পরিবেশবান্ধব পর্যটনকে উৎসাহিত করবে এবং পরিবেশগত শিক্ষার কর্মসূচির প্রসার ঘটাবে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়গুলিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। রাজ্যের কর্তৃপক্ষ আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে পার্কটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বাস্তুশাস্ত্র (Tropical Ecology) সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে শক্তিশালী করবে। এই পদক্ষেপটি একটি বৃহত্তর উপলব্ধিকে প্রতিফলিত করে যে প্রাকৃতিক ব্যবস্থার সংরক্ষণ মানব সম্ভাবনার বিকাশের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।



