২০২৫ সালের ৩১ জুলাই ইথিওপিয়া পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের দীর্ঘমেয়াদী 'সবুজ ঐতিহ্য' (Green Legacy) উদ্যোগের অংশ হিসেবে, দেশটি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৭০০ মিলিয়ন গাছের চারা রোপণ করেছে। এই বিশাল বনায়ন প্রচেষ্টা শুধুমাত্র দৈনিক লক্ষ্যমাত্রাকেই ছাড়িয়ে যায়নি, বরং প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার জন্য দেশটির গভীর অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
এই বিশেষ আয়োজনটি ছিল কর্মসূচির সপ্তম বর্ষের চূড়ান্ত পর্যায়, যা ইথিওপিয়াকে ২০২৫ সালের বর্ষাকালে মোট ৭.৫ বিলিয়ন চারা রোপণের সামগ্রিক লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ কর্তৃক সূচিত এই উদ্যোগটি এখন কেবল সরকারি প্রকল্প নয়, এটি একটি জাতীয় সংস্কৃতিতে রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে লক্ষ লক্ষ নাগরিক একত্রিত হয়েছেন। অনুমান করা হয় যে, সেই দিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ইথিওপিয়ান—শিশু থেকে শুরু করে সরকারি কর্মচারী পর্যন্ত—সকলেই এই কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। 'রোপণের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবন' স্লোগান নিয়ে তারা ভোরবেলা পার্ক, আবাসিক এলাকা এবং জনসমাগমের স্থানগুলোতে কাজ করেছেন।
'সবুজ ঐতিহ্য' কর্মসূচির বিশালতা টেকসই উন্নয়ন এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতার একটি মডেল হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ২০১৯ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট রোপণ করা গাছের সংখ্যা ৪৮ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে, যা এই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে। পরিবেশগত রূপান্তরের জন্য দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইথিওপিয়ার সংসদ এই কর্মসূচিটিকে আইনগতভাবে সুরক্ষিত করেছে। এর অধীনে, অবনমিত ভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় বাজেটের ০.৫–১ শতাংশ অর্থায়ন দ্বারা পরিচালিত হবে।
এই কাজের পরিবেশগত সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। ইথিওপিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের ফলে মাটির ক্ষয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে: উর্বর স্তরের বার্ষিক ক্ষতি পূর্বের ১.৯ বিলিয়ন টন থেকে কমে ২০৮ মিলিয়ন টনে দাঁড়িয়েছে। এটি কেবল আবাদি জমি সংরক্ষণ করে না, বরং ফলদ বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তাকেও শক্তিশালী করে, যা পরিবারগুলোর আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক। ২০২৫ সালের বার্ষিক পরিকল্পনায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে: ২.৭ বিলিয়ন চারা স্থানীয়, এন্ডেমিক প্রজাতির, যা দেশটির অনন্য উদ্ভিদকুল পুনরুদ্ধারে সচেতন পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করে।



