আন্টার্কটিকায় মার্চের রেকর্ড ভাঙা শীত: ভোস্তক স্টেশনে তাপমাত্রা নেমেছে -৭৬.৩° সেলসিয়াসে

সম্পাদনা করেছেন: Uliana Soloveva

আন্টার্কটিকার সুউচ্চ বরফাবৃত মালভূমিতে অবস্থিত রাশিয়ার বিখ্যাত গবেষণা কেন্দ্র 'ভোস্তক' স্টেশন এক অভাবনীয় প্রাকৃতিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ এই স্টেশনে বায়ুর তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাইনাস ৭৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস (-৭৬.৩°C)। এই তাপমাত্রা সমগ্র আন্টার্কটিকা মহাদেশের ইতিহাসে মার্চ মাসের জন্য একটি নতুন চরম শীতলতার রেকর্ড স্থাপন করেছে। এর আগে ২০১৩ সালে জাপানের 'ডোম ফুজি' (Dome Fuji) স্টেশনে মার্চ মাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল মাইনাস ৭৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (-৭৫.৭°C), যা এখন এই নতুন রেকর্ডের কাছে ম্লান হয়ে গেছে এবং আবহাওয়া বিজ্ঞানের পাতায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মার্চ মাসে ভোস্তক স্টেশনের গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সাধারণত মাইনাস ৬১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (-৬১.৮°C) এর আশেপাশে থাকে। তবে এবারের এই তীব্র পতন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পরিষ্কার আকাশ, মালভূমি অঞ্চলে তীব্র বিকিরণজনিত শীতলীকরণ এবং একটি স্থিতিশীল বায়ুস্তরের সমন্বিত প্রভাবের কারণে তাপমাত্রা এতটা নিচে নেমে গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সাধারণত মার্চ মাস আন্টার্কটিকায় শরৎকাল হিসেবে পরিচিত হলেও, এই তীব্র ঠান্ডা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই অঞ্চলে শীতকাল অত্যন্ত দ্রুত এবং প্রবলভাবে শুরু হয়ে গেছে, যা এই অঞ্চলের আবহাওয়া মণ্ডলে একটি বিশেষ সংকেত প্রদান করে।

এই নতুন রেকর্ডটি পূর্ববর্তী বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য শীতলতম তাপমাত্রাকে অনায়াসেই ছাড়িয়ে গেছে। চার বছর আগে রেকর্ড করা মাইনাস ৭৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ১৯৮২ ও ২০২০ সালে খোদ ভোস্তক স্টেশনে রেকর্ড করা মাইনাস ৭৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাও এখন এই নতুন রেকর্ডের নিচে অবস্থান করছে। এমনকি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে 'কনকর্ডিয়া' (Concordia) স্টেশনে রেকর্ড করা মাইনাস ৭৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকেও এটি সফলভাবে অতিক্রম করেছে। মেঘমুক্ত আকাশ এবং বৃষ্টিপাতহীন আবহাওয়ার কারণে বায়ুমণ্ডল থেকে তাপ দ্রুত মহাশূন্যে বিলীন হয়ে যাওয়ার ফলে এই তীব্র বিকিরণজনিত শীতলীকরণ সম্ভব হয়েছে, যা ২৪ মার্চের এই ঐতিহাসিক রেকর্ড সৃষ্টিতে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৪৮৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ভোস্তক স্টেশনটি ১৯৫৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই স্টেশনের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা মাইনাস ৫৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যার কারণে এটি দীর্ঘকাল ধরে পৃথিবীর 'শীতলতম মেরু' (Pole of Cold) হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে। উল্লেখ্য যে, ১৯৮৩ সালের ২১ জুলাই এই একই স্টেশনে পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাইনাস ৮৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল, যা আবহাওয়া বিজ্ঞানের ইতিহাসে আজও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড হিসেবে অটুট আছে। ১৯২০ সাল থেকে আর্কটিক এবং আন্টার্কটিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (AARI) এই মেরু অঞ্চলগুলোতে জলবায়ু সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল গবেষণা কার্যক্রম নিরবিচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা করে আসছে।

ভূপৃষ্ঠের এই সরাসরি পর্যবেক্ষণ থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপগ্রহের মাধ্যমে নেওয়া পরিমাপের সাথে কিছুটা ভিন্নতা প্রদর্শন করে, যা অতীতে মহাদেশের নির্দিষ্ট কিছু দুর্গম ও জনহীন এলাকায় আরও নিম্ন তাপমাত্রার সম্ভাবনার কথা বলেছিল। তবে ২০২৬ সালের মার্চের এই চরম শীতলতা আন্টার্কটিকার জলবায়ুর চরম পরিবর্তনশীলতা এবং পৃথিবীর সবচেয়ে শীতলতম এই মহাদেশের রুক্ষ ও কঠোর প্রকৃতিরই এক বাস্তব ও অকাট্য প্রমাণ দেয়। এই ধরনের চরম আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যগুলো বিজ্ঞানীদের মেরু অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের জটিল গতিপ্রকৃতি এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া মণ্ডলের ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব বুঝতে আরও গভীরভাবে সাহায্য করবে, যা বর্তমান সময়ের পরিবেশগত গবেষণায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

5 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • SOTT.net

  • Oneman.gr

  • The Weather Network

  • Wikipedia

  • Wikipedia

  • Britannica

  • Poseidon Expeditions

  • Sott.net

  • The Weather Network

  • Arctic and Antarctic Research Institute

  • SETI Institute

  • Wikipedia

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।