সম্প্রতি দিল্লির আরাবল্লী বায়োডাইভারসিটি পার্কে এক প্রজাপতি ও কীটপতঙ্গ পদচারণা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে শতাধিক প্রকৃতিপ্রেমী অংশ নেন। ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার্স কালেক্টিভ অফ ইন্ডিয়া (WPCI) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি সেপ্টেম্বর মাসকে প্রজাপতি মাস হিসেবে উদযাপন করে এবং শহুরে পরিবেশে কীটপতঙ্গের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করে।
প্রজাপতি বিশেষজ্ঞ রামভীরের তত্ত্বাবধানে এই পদচারণায় অংশগ্রহণকারীরা প্রায় ৩৫ প্রজাতির প্রজাপতি এবং ১০ প্রজাতির অন্যান্য কীটপতঙ্গ শনাক্ত করতে সক্ষম হন। বিশেষ করে, বিরল ফল-ছিদ্রকারী মথের লার্ভা দেখা যাওয়াটি এই উদ্যানের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের এক উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। এই ঘটনাটি শহুরে সবুজ অঞ্চলে জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বকে আরও একবার তুলে ধরেছে।
WPCI সারা বছর ধরে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী কেন্দ্রিক প্রকৃতি পদচারণার আয়োজন করে চলেছে, যার উদ্দেশ্য হলো জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংরক্ষণে উৎসাহিত করা। আরাবল্লী বায়োডাইভারসিটি পার্ক একটি ৬৯২ একরের অভয়ারণ্য, যেখানে বিভিন্ন ধরণের উদ্ভিদ ও প্রাণী দেখা যায়। এখানে একটি বিশেষ প্রজাপতি ও মথ সংরক্ষণাগারও রয়েছে, যেখানে ১০০-এরও বেশি প্রজাতির প্রজাপতি ও মথ সংরক্ষিত আছে।
ভারতে, সেপ্টেম্বর মাসকে 'বিগ বাটারফ্লাই মান্থ' (BBM) হিসেবে পালন করা হয়, যা প্রজাপতির বৈচিত্র্য উদযাপনের একটি নাগরিক বিজ্ঞান ভিত্তিক উদ্যোগ। ২০১৪ সাল থেকে এই উদ্যোগটি দেশজুড়ে প্রজাপতি সংরক্ষণ এবং তাদের পরিবেশগত গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই সময়ে, দেশজুড়ে বিভিন্ন সংস্থা এবং প্রকৃতিপ্রেমীরা প্রজাপতি গণনার মতো কার্যক্রমে অংশ নেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য প্রজাপতির সংখ্যা এবং তাদের আবাসস্থলের অবস্থা সম্পর্কে মূল্যবান ধারণা দেয়, যা সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
শহুরে পরিবেশে কীটপতঙ্গের গুরুত্ব অপরিসীম। তারা পরাগায়নে সাহায্য করে, যা খাদ্য শৃঙ্খলের একটি অপরিহার্য অংশ। এছাড়াও, কীটপতঙ্গ পরিবেশের স্বাস্থ্য নিরীক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করে। আরাবল্লী বায়োডাইভারসিটি পার্কের মতো স্থানগুলি শহুরে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ধরনের পদচারণা সাধারণ মানুষকে প্রকৃতির কাছাকাছি আনতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন করতে সাহায্য করে।




