জলজ ও স্থলজ প্রাণীর জলবায়ু রক্ষায় অপরিহার্য ভূমিকা: আইইউসিএন-এর নতুন স্বীকৃতি
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বন্যপ্রাণীর গুরুত্বকে নতুন করে স্বীকৃতি দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন)। সম্প্রতি গৃহীত এক প্রস্তাবে তারা জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় বন্যপ্রাণীর অপরিহার্য ভূমিকাকে তুলে ধরেছে, যা কার্বন সঞ্চয় এবং সামগ্রিক পরিবেশগত স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে তাদের গভীর প্রভাবকে নির্দেশ করে। এই সিদ্ধান্তটি পরিবেশ সুরক্ষার চিরাচরিত ধারণাকে এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছে, যেখানে প্রাণীদের কেবল সংরক্ষণের বিষয় হিসেবে না দেখে গ্রহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সক্রিয় অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রাণীদের এই কার্বন-নিয়ন্ত্রণকারী ক্ষমতা স্পষ্ট হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কঙ্গো বেসিনের বনগুলিতে হাতিদের উপস্থিতি সেই বনগুলির তুলনায় প্রায় ৭% বেশি কার্বন সঞ্চয় করে, যেখানে তাদের অনুপস্থিতি রয়েছে। এই বিশাল প্রাণীগুলি তাদের চলাফেরা, খাদ্য গ্রহণ এবং বর্জ্য নিষ্কাশনের মাধ্যমে বনকে শক্তিশালী করে এবং কার্বন-ঘন বৃক্ষের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। একইভাবে, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রেও এদের প্রভাব অনস্বীকার্য; গবেষকরা দেখেছেন যে সি অটার বা সামুদ্রিক ভোঁদড় কেল্প বনগুলিতে কার্বন ধারণের ক্ষমতা প্রায় ১২ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। এই ধরনের প্রাণীদের কার্যকারিতা প্রমাণ করে যে জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে একটি গভীর সংযোগ বিদ্যমান, যা এতদিন আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণে উপেক্ষিত ছিল।
আইইউসিএন-এর এই প্রস্তাবটি আন্তর্জাতিক জলবায়ু কাঠামোতে বন্যপ্রাণীর এই ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জোর দিয়েছে। বিশেষত, তারা ইউনাইটেড নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি)-এর মতো মঞ্চগুলিতে এই স্বীকৃতি আদায়ের জন্য মহাপরিচালককে আহ্বান জানিয়েছে। এর পাশাপাশি, সরকারি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা প্রকৃতি-ভিত্তিক জলবায়ু সমাধানগুলিকে শক্তিশালী করার জন্য প্রাণী জনসংখ্যা সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের দিকে মনোযোগ দেয়। ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার (আইএফএডব্লিউ) এই প্রস্তাবের প্রধান সমর্থক ছিল, যারা মনে করে যে সুস্থ প্রাণী জনসংখ্যা ছাড়া প্রাকৃতিক কার্বন সিঙ্কগুলি সর্বোত্তমভাবে কাজ করতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলা দুটি পৃথক বিষয় নয়, বরং একটি অন্যটির পরিপূরক। গবেষণায় দেখা গেছে যে মাত্র নয়টি ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর সুস্থ জনসংখ্যা বছরে ৬.৪১ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণে সহায়তা করতে পারে, যা প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় বার্ষিক কার্বন অপসারণের প্রায় ৯৫ শতাংশের সমতুল্য। এই প্রক্রিয়াটিকে 'কার্বন চক্রকে জীবন্ত করে তোলা' বা অ্যানিমেটিং দ্য কার্বন সাইকেল (ACC) নামে অভিহিত করা হয়। এই নতুন উপলব্ধি নীতিনির্ধারকদের উৎসাহিত করছে যেন তারা তাদের জাতীয় জলবায়ু কৌশল এবং জীববৈচিত্র্য কর্ম পরিকল্পনায় সুস্থ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়, যা পৃথিবীর স্থিতিশীলতার জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
উৎসসমূহ
Earth.Org - Past | Present | Future
IUCN World Conservation Congress
IUCN NL at IUCN World Conservation Congress 2025: overview of events
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
