সিঙ্গাপুরে বিপন্ন ফিলিপিনো ককাটু শাবকের ঐতিহাসিক জন্ম: সংরক্ষণে নতুন আশা
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
সিঙ্গাপুরের বার্ড প্যারাডাইস সংরক্ষণ কেন্দ্রে বিরল প্রজাতির পাখি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এই প্রথম সেখানে সফলভাবে একটি ফিলিপিনো ককাটু শাবকের জন্ম হয়েছে। এই প্রজাতিটিকে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (IUCN) দ্বারা 'সংকটাপন্নভাবে বিপন্ন' (Critically Vulnerable) হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে, যা এর অস্তিত্বের চরম ঝুঁকি নির্দেশ করে। এই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যটি এই বিপন্ন পালকযুক্ত প্রাণীটির টিকে থাকার লড়াইয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং এটি বিশেষজ্ঞদের বহু বছরের সুচিন্তিত, নিবেদিত প্রচেষ্টার ফল। এই ধরনের প্রজনন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
বর্তমানে চার মাস বয়সী এই ককাটু শাবকটি তার জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলি সক্রিয়ভাবে অর্জন করছে। প্রাণী পরিচর্যার কর্মীদের কঠোর তত্ত্বাবধানে সে এখন উড়তে শিখছে এবং পরিবেশের সাথে পরিচিত হচ্ছে। শাবকটির বাবা-মা দশ বছর আগে, অর্থাৎ ২০১৫ সালে, ফিলিপাইনের পালাওয়ান দ্বীপের বন্য পরিবেশ থেকে উদ্ধার হয়েছিল। ফিলিপাইনের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের (DENR) সাথে একটি অস্থায়ী হেফাজত চুক্তির অংশ হিসেবে তাদের সিঙ্গাপুরে আনা হয়। ফিলিপিনো ককাটু, যা রেড-ভেন্টেড ককাটু বা কালাগাই নামেও পরিচিত, বিশ্বের পঞ্চাশটি বিরলতম তোতাপাখির মধ্যে অন্যতম। সংরক্ষণবাদীদের তথ্য অনুযায়ী, বন্য পরিবেশে এর প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের সংখ্যা ৭৫০-এরও কম, যাদের বেশিরভাগই পালাওয়ান দ্বীপপুঞ্জে কেন্দ্রীভূত। এই সংখ্যাটি প্রজাতির ভঙ্গুর অবস্থাকে স্পষ্ট করে তোলে।
বন্য পরিবেশে এই প্রজাতির জনসংখ্যার জন্য প্রধান হুমকি হলো দুটি মারাত্মক কারণ: প্রথমত, বিদেশী প্রাণী বাণিজ্যের জন্য অবৈধভাবে শিকার করা বা পাচার, এবং দ্বিতীয়ত, আবাসস্থলের ভয়াবহ ক্ষতি। বিশেষত বন ধ্বংসের কারণে তাদের প্রাকৃতিক বাসস্থান প্রায় ৮০% হ্রাস পেয়েছে, যা তাদের অস্তিত্বকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এই ব্যাপক বন উজাড়ের ফলে তাদের খাদ্য এবং নিরাপদ বাসা তৈরির স্থান সীমিত হয়ে আসছে। এই সফল প্রজনন নিয়ন্ত্রিত প্রজনন কর্মসূচির অপরিহার্য ভূমিকাকে জোরালোভাবে তুলে ধরে, বিশেষত যখন এই পাখিগুলি বন্দিদশায় বংশবৃদ্ধি করতে অত্যন্ত কঠিন বলে পরিচিত। এই জটিল প্রজনন প্রক্রিয়াটি DENR-এর সহায়তায় কাতালা ফাউন্ডেশন ইনকর্পোরেটেড (Katala Foundation Inc. (KFI))-এর সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
শাবকটির বাবা-মা আচরণগত এবং স্বাস্থ্যগত কারণে বন্য পরিবেশে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছিল। এই কারণে তারা এখন বার্ড প্যারাডাইসে একটি গুরুত্বপূর্ণ 'বীমা উপনিবেশ' (insurance colony) হিসেবে কাজ করছে, যা তাদের জিনগত বৈচিত্র্য রক্ষা করে এই প্রজাতির সম্পূর্ণ বিলুপ্তি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। বিশেষজ্ঞরা বাসা বাঁধার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের হস্তক্ষেপ কমিয়ে দিয়েছিলেন যাতে পিতামাতার সহজাত প্রবৃত্তিগুলি উদ্দীপিত হয় এবং তারা স্বাভাবিকভাবে প্রজনন সম্পন্ন করতে পারে। যদিও একবার জরুরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়েছিল যখন শাবকটি অপ্রত্যাশিতভাবে বাসার বাইরে পড়ে গিয়েছিল—যা সম্ভবত এই দম্পতির প্রথমবার বাবা-মা হওয়ার অনভিজ্ঞতার ফল। এই দম্পতি সিঙ্গাপুরে আসার এক দশকেরও বেশি সময় পরে এই সফল প্রজনন ঘটল, যা প্রজাতির জিনগত সংরক্ষণ প্রচেষ্টার জন্য একটি শক্তিশালী অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতের প্রজনন কর্মসূচির জন্য মূল্যবান জ্ঞান সরবরাহ করছে।
উৎসসমূহ
The Cool Down
The Straits Times
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
