রাজ্য জীববৈচিত্র্য কমিশনের (Coesbioh) প্রধান এরিকা ওর্তিগোজ়া ভাজকেজ় নিশ্চিত করেছেন যে মেক্সিকোর হিদালগো রাজ্যে পুমা ও জাগুয়ারের উপস্থিতি বিদ্যমান। এই রাজ্যটি মেক্সিকোর ছয়টি বন্য বিড়াল প্রজাতির আবাসস্থল হওয়ায়, রাজ্য কর্তৃপক্ষ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং নজরদারি কৌশলগুলিকে আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। Coesbioh রাজ্যজুড়ে বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের জন্য তাদের ক্যামেরা ট্র্যাপিং ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে, যা পূর্বে মাত্র পাঁচটি ইউনিট থেকে বেড়ে প্রায় ১৫০ ইউনিটে পৌঁছেছে।
এই বর্ধিত নজরদারির ফলস্বরূপ, ২০২৫ সালে মেটজ়টিটলান এবং ইক্সমিকেলপান সহ বিভিন্ন পৌরসভায় কমপক্ষে তিনটি পুমা রেকর্ডের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। সংরক্ষণ প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছিল ২০২৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর, যখন 'মেসলি' নামক একটি স্ত্রী পুমাকে আঘাতের চিকিৎসার পর একটি টেলিমেট্রি কলার সংযুক্ত করে পুনরায় প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ধরনের প্রযুক্তিগত নজরদারি, যা অন্যান্য বন্যপ্রাণী অধ্যয়নেও ব্যবহৃত হয়, যেমন নেকড়েদের গতিবিধি বোঝার জন্য জিপিএস কলার ব্যবহার করা হয়, তা প্রাণীগুলির আচরণ এবং স্থানান্তরের উপর মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করে।
রাজ্যটি বর্তমানে জৈব-সাংস্কৃতিক করিডোরগুলির অগ্রগতি সাধন করছে, যেখানে স্থানীয় সম্প্রদায়ের জ্ঞান ও অংশগ্রহণকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সাথে একীভূত করা হচ্ছে। এই করিডোরগুলি, যা ২০২৫ সালে বহুভাষিক কর্মশালার মাধ্যমে বৈধতা লাভ করে, জৈবিক, জলবায়ুগত, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা অর্জনের লক্ষ্য রাখে। এই করিডোরগুলির মধ্যে অর্কিড ও জাগুয়ারুন্ডি, মেসকিট ও পুমা, এবং ইউক্কা ও সাপ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষত, লস মারমোলেস জাতীয় উদ্যানের নিকটবর্তী অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত জাগুয়ার অঞ্চলে কমপক্ষে চারটি সক্রিয় জাগুয়ার শনাক্ত করা হয়েছে। যদিও জাগুয়ার 'পাকুস' ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মারা গিয়েছিল, এই ঘটনা সংরক্ষণের দৃশ্যমানতা বাড়িয়েছিল, যার ফলস্বরূপ নতুন তহবিলের ঘোষণা আসে।
এই অঞ্চলের জাগুয়ার সংরক্ষণ কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে সরকার সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাগুয়ার সংরক্ষণের জন্য ৪ মিলিয়ন পেসো ঘোষণা করা হয়েছিল, যা একটি জৈব-সাংস্কৃতিক করিডোর সজ্জিত করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। পরবর্তীতে, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে, চারটি ফেলিন মনিটরিং ব্রিগেডকে প্রশিক্ষণ ও সজ্জিত করার জন্য আরও ৪ মিলিয়ন পেসো বিনিয়োগ করা হয়েছিল। হিদালগোর পরিবেশগত বৈচিত্র্য, যার মধ্যে বন, জঙ্গল, জলাভূমি এবং গুল্মভূমি অন্তর্ভুক্ত, মেক্সিকোর ছয়টি বন্য বিড়াল প্রজাতির আবাসস্থল, যার মধ্যে জাগুয়ার (Panthera onca) মহাদেশের বৃহত্তম এবং মেক্সিকোতে 'বিপন্ন' প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত।
এই ধরনের সংরক্ষণ উদ্যোগগুলি মেক্সিকোর বৃহত্তর জাতীয় প্রচেষ্টার অংশ, যেমনটি গ্রেট মায়ান ফরেস্ট বায়োকালচারাল করিডোর প্রতিষ্ঠায় দেখা যায়, যেখানে সহযোগিতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা হয়। লস মারমোলেস জাতীয় উদ্যান, যা ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, হিদালগোর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকা, এবং এর স্থানীয় বাসিন্দারা সম্প্রদায় নজরদারি কর্মসূচির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাগুলি নিশ্চিত করে যে সংরক্ষণ কেবল প্রাতিষ্ঠানিক কাজ নয়, বরং স্থানীয় সম্প্রদায়, যেমন ইয়েদাতারিয়োস এবং পশু পালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে, একটি ভাগ করা দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। এই কৌশলগুলি জাগুয়ার এবং অন্যান্য বড় শিকারী প্রাণীদের জন্য নিরাপদ করিডোর বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে, যা মেক্সিকোর প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত রাখতে অপরিহার্য।



