নিউজিল্যান্ড সরকার দেশটিতে দক্ষ অভিবাসী এবং বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে তাদের কর ব্যবস্থার সংস্কারের প্রস্তাব করেছে। এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশী বিনিয়োগ তহবিল (Foreign Investment Fund - FIF) সংক্রান্ত নিয়মাবলী সহজ করা এবং নতুন অভিবাসী ও বিদেশে বসবাসকারী নিউজিল্যান্ডবাসীদের উপর থেকে করের বোঝা কমানো। রাজস্ব মন্ত্রী সাইমন ওয়াটস এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং আশা করা হচ্ছে যে এই প্রস্তাবগুলি আগস্ট ২০২৫-এর মধ্যে একটি কর বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বর্তমানে, নিউজিল্যান্ডের FIF নিয়মাবলী এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে এটি বিদেশী বিনিয়োগের উপর অর্জিত (realized) না হওয়া লাভকেও করের আওতায় আনে। এটি অনেক অভিবাসী এবং বিদেশে বসবাসকারী নিউজিল্যান্ডবাসীর জন্য একটি বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ তাদের বিনিয়োগ থেকে কোনো প্রকৃত আয় না হলেও কর দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি তাদের দেশে আসতে বা এখানে বিনিয়োগ করতে নিরুৎসাহিত করছে।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য, সরকার একটি নতুন 'রাজস্ব অ্যাকাউন্ট পদ্ধতি' (revenue account method) চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা শুধুমাত্র তাদের অর্জিত লাভের উপর কর দেবেন, যা তাদের বিনিয়োগের উপর একটি বাস্তবসম্মত করের বোঝাপড়া তৈরি করবে। এই পদ্ধতিতে, অর্জিত লাভের উপর করের পরিমাণ ৭০% পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হতে পারে। এই সংস্কারের ফলে, যারা ১ এপ্রিল ২০২৪ বা তার পরে নিউজিল্যান্ডের কর বাসিন্দা হয়েছেন, তারা এই নতুন নিয়মের আওতায় আসবেন।
মন্ত্রী সাইমন ওয়াটস জানিয়েছেন যে এই পরিবর্তনগুলি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং প্রতিভাবান ব্যক্তিদের এখানে বিনিয়োগ ও বসবাস করতে উৎসাহিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে এই সংস্কারের ফলে বছরে প্রায় ২.৫ মিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার রাজস্ব হারাতে পারে সরকার, তবে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে এটি একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
এই সংস্কারের পাশাপাশি, সরকার ডিজিটাল যাযাবর (digital nomads) এবং দূরবর্তী কর্মীদের জন্য নিয়ম সহজ করারও পরিকল্পনা করছে, যাতে তারা দীর্ঘ সময় ধরে নিউজিল্যান্ডে থাকতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। এছাড়াও, কর্মচারী শেয়ার স্কিম (employee share schemes) সংক্রান্ত করের সময়সীমা এবং অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় কর সম্মতি খরচ কমানোর বিষয়গুলিও এই বিলের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর সংস্কার নিউজিল্যান্ডকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে এবং দক্ষ কর্মী ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সহায়ক হবে।