মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে GENIUS Act পাশ হওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) তাদের ডিজিটাল ইউরো (e-euro) প্রকল্পের কাজ দ্রুততর করেছে। এই নতুন আইনটি মূলত মার্কিন ডলার-ভিত্তিক স্টেবলকয়েনগুলির জন্য একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করেছে। এর ফলে, ইউরোপীয় কর্মকর্তারা এখন ডিজিটাল ইউরোকে ইথেরিয়াম বা সোলানার মতো পাবলিক ব্লকচেইনগুলিতে চালু করার কথা বিবেচনা করছেন, যা পূর্বে একটি ব্যক্তিগত, কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকেছিল। এই পরিবর্তনটি ডিজিটাল মুদ্রার জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ECB) এবং EU কর্মকর্তারা মনে করছেন যে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা বিশ্ব অর্থনীতিতে ইউরোর প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে পারবে এবং একই সাথে মার্কিন ডলারের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে। ECB-এর এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সদস্য পিয়েরো চিপোলোন উল্লেখ করেছেন যে, “ইউরোপ বিদেশী পেমেন্ট সমাধানের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হতে পারে না।” তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, ডলার-ভিত্তিক স্টেবলকয়েনের ব্যাপক ব্যবহার ইউরোপীয় ব্যাংকগুলির আমানত এবং আয়কে প্রভাবিত করতে পারে, যা ইউরোপের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের জন্য উদ্বেগজনক।
পাবলিক ব্লকচেইন, যেমন ইথেরিয়াম এবং সোলানা, ব্যবহারের প্রস্তাবটি কিছু সুবিধা নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে বৃহত্তর গ্রহণ যোগ্যতা, বিদ্যমান ক্রিপ্টো ইকোসিস্টেমের সাথে আন্তঃসংযোগ এবং সীমান্ত-পেমেন্টের ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি। তবে, এই পদ্ধতির কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। পাবলিক ব্লকচেইনের স্বচ্ছতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (GDPR) এবং নগদ অর্থের মতো গোপনীয়তা বজায় রাখার লক্ষ্যের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এছাড়াও, ইথেরিয়ামের স্কেলেবিলিটি এবং সোলানার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নীতিনির্ধারকরা এই বিষয়গুলি নিয়ে কাজ করছেন যাতে ইউরোর ব্যবহার বৃদ্ধি পায় এবং একই সাথে ইউরোপীয় মানগুলি বজায় থাকে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে GENIUS Act পাশ হওয়ার পর, যা স্টেবলকয়েন বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের ডিজিটাল ইউরো প্রকল্পের উপর আরও বেশি মনোযোগ দিয়েছে। এই আইনটি মার্কিন ডলার-ভিত্তিক স্টেবলকয়েনগুলির জন্য একটি স্পষ্ট নিয়ন্ত্রক পথ তৈরি করেছে, যা বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল মুদ্রার বাজারে মার্কিন ডলারের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায়, EU কর্মকর্তারা ডিজিটাল ইউরোকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার জন্য পাবলিক ব্লকচেইনগুলির মতো নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের কথা ভাবছেন। এই পদক্ষেপটি কেবল প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনই নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক কৌশলকেও প্রতিফলিত করে, যেখানে ইউরোপ তার আর্থিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে এবং ডিজিটাল যুগে পিছিয়ে না পড়ার চেষ্টা করছে।