থাইল্যান্ডের অর্থ মন্ত্রক বিশ্বব্যাপী ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ কু কয়েনের (KuCoin) সাথে অংশীদারিত্ব করেছে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে তারা 'জি-টোকেন' (G-Token) নামে পরিচিত বিশ্বের প্রথম পাবলিকলি অফারড টোকেনাইজড সরকারি সিকিউরিটিজ প্রোগ্রাম চালু করছে। এই উদ্যোগটি ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বভৌম ঋণ বাজারে খুচরা বিনিয়োগকারীদের প্রবেশাধিকার সহজ করার লক্ষ্যে কাজ করবে।
জি-টোকেন হলো একটি 'সরকারি ডিজিটাল বন্ড', যা থাইল্যান্ডের অর্থ মন্ত্রকের অধীনে পাবলিক ডেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট অনুসারে জারি করা একটি টোকেনাইজড বাস্তব-বিশ্বের সম্পদ (RWA)। এটি কোনো ক্রিপ্টোকারেন্সি নয়, বরং এটি একটি সরকারি-সমর্থিত আর্থিক উপকরণ, যার মূলধন এবং সুদ পরিশোধের নিশ্চয়তা সরাসরি অর্থ মন্ত্রক প্রদান করে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে, থাইল্যান্ডের সরকার খুচরা বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের ন্যূনতম সীমা কমিয়ে এনেছে। যেখানে ঐতিহ্যগতভাবে উচ্চ বিনিয়োগের প্রয়োজন হতো, সেখানে জি-টোকেন মাত্র ১,০০০ থাই বাত (প্রায় ৩০ মার্কিন ডলার) থেকে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছে। ব্যাংক আমানতের তুলনায় এটি বেশি ইল্ড বা সুদের হার (প্রায় ৩.৫% বনাম ২.১%) প্রদানের সম্ভাবনা রাখে।
এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কু কয়েন ছাড়াও XSpring Digital, SIX Network এবং Krungthai XSpring-এর মতো সংস্থাগুলি কনসোর্টিয়ামের অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে। কু কয়েন থাইল্যান্ড, যা স্থানীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি ডিজিটাল অ্যাসেট এক্সচেঞ্জ অপারেটর, সাবস্ক্রিপশন, রিডেম্পশন এবং টোকেন তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াগুলি পরিচালনা করবে। নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের পর, জি-টোকেন কু কয়েনের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মেও তালিকাভুক্ত হতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের কাছে থাইল্যান্ডের আর্থিক উদ্ভাবন পৌঁছে দেবে।
এই উদ্যোগটি থাইল্যান্ডের ফিসকাল ইয়ার ২০২৫-এর ঋণ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি বড় পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে বিশ্বব্যাপী টোকেনাইজড অ্যাসেট বাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। কু কয়েনের সিইও বিসি Wong (BC Wong) বলেছেন যে, তাদের সংস্থা ঐতিহ্যবাহী অর্থ ব্যবস্থাকে ক্রিপ্টো বিশ্বের সাথে সংযুক্ত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই জি-টোকেন প্রোগ্রাম সেই লক্ষ্যেরই প্রতিফলন।
থাইল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী Pichai Chunhavajira (পিচাই চুনহাভাজিরা) জোর দিয়ে বলেছেন যে, জি-টোকেন সরকারি ঋণের একটি নতুন রূপ নয়, বরং এটি বিদ্যমান সরকারি বন্ড সম্পদের একটি ডিজিটাল রূপান্তর। এটি ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বচ্ছতা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং লেনদেনের খরচ কমানোর একটি প্রচেষ্টা, যা বিশ্বব্যাপী অন্যান্য দেশগুলিকেও এই পথে হাঁটতে উৎসাহিত করতে পারে। ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টস (BIS)-এর গবেষণা অনুসারে, টোকেনাইজড সরকারি বন্ডগুলি ঐতিহ্যবাহী বন্ডের তুলনায় উন্নত তারল্য এবং কম বিড-আস্ক স্প্রেড প্রদর্শন করে, যা এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
থাইল্যান্ডের এই জি-টোকেন উদ্যোগ শুধু দেশের আর্থিক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণই নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী খুচরা বিনিয়োগকারীদের জন্য সার্বভৌম ঋণের বাজারে প্রবেশাধিকারের একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। এই উদ্ভাবনী পদক্ষেপটি প্রমাণ করে যে, কীভাবে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ঐতিহ্যবাহী আর্থিক বাজারগুলিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দক্ষ করে তুলতে পারে, যা আগামী দিনে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি নতুন পথ খুলে দেবে।