সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে ঘুমের সময়সূচীর নিয়মিততা, বিশেষত একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিছানায় যাওয়ার অভ্যাস, মানুষের আয়ুষ্কালের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। ভাইটালিটি এবং লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স (LSE) কর্তৃক পরিচালিত একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে, '৭:১ ঘুমের নিয়ম'—অর্থাৎ প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে পাঁচ রাত ৭ ঘণ্টার বেশি ঘুম এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিছানায় যাওয়া—আয়ুষ্কাল চার বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। এই গবেষণায় আরও প্রমাণিত হয়েছে যে, শুধুমাত্র ঘুমের সময়কালের চেয়ে বিছানায় যাওয়ার ধারাবাহিকতা স্বাস্থ্যের ফলাফলের ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী পূর্বাভাসক হিসেবে কাজ করে, যা সামগ্রিক মৃত্যুহার ঝুঁকি ৩১% পর্যন্ত হ্রাস করে।
এই গবেষণার ফলাফলগুলি ইউকে বায়োব্যাঙ্কের ৬০,৯৭৭ অংশগ্রহণকারীর অ্যাকসিলরোমিটার ডেটা বিশ্লেষণ করে প্রাপ্ত, যেখানে দেখা গেছে যে যাদের ঘুমের নিয়মিততা সবচেয়ে কম, তাদের তুলনায় সবচেয়ে নিয়মিত ঘুমকারীদের মধ্যে সমস্ত কারণে মৃত্যুহার ২০% থেকে ৪৮% কম ছিল। নিয়মিত ঘুমের কারণে কার্ডিওমেটাবলিক মৃত্যুহার ২২% থেকে ৫৭% এবং ক্যান্সারজনিত মৃত্যুহার ১৬% থেকে ৩৯% পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। এই তথ্যগুলি ইঙ্গিত দেয় যে ঘুমের ধারাবাহিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সূচক, যা অনেক ক্ষেত্রে ঘুমের মোট সময়ের চেয়েও বেশি ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ক্ষমতা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমকে সুসংগঠিত করতে ছয়টি 'সার্কাডিয়ান রিদম অ্যাঙ্কর' চিহ্নিত করেছেন, যা ঘুমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক। এই অ্যাঙ্করগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, যা ঘুম-জাগরণ চক্রকে স্থিতিশীল করে। সকালে ১০ থেকে ৩০ মিনিটের জন্য সূর্যের আলো গ্রহণ করা দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অ্যাঙ্কর, যা সার্কাডিয়ান রিদমকে পুনরায় সেট করে। এছাড়াও, নিয়মিত সময়ে খাবার গ্রহণ করা এবং শারীরিক কার্যকলাপ ঘুমের সময় নির্ধারণকে শক্তিশালী করে, তবে বিছানায় যাওয়ার ঠিক আগে তীব্র ব্যায়াম পরিহার করা উচিত।
ঘুমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য একটি নির্দিষ্ট ও আরামদায়ক ঘুমের পূর্ববর্তী রুটিন অপরিহার্য, যা মস্তিষ্ককে ঘুমের আগমন সম্পর্কে সংকেত দেয়। সন্ধ্যায় উজ্জ্বল আলো এবং নীল আলোর সংস্পর্শ হ্রাস করা প্রাকৃতিক মেলাটোনিন উৎপাদনকে সুরক্ষিত রাখে, যা দ্রুত শরীরকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে এবং ৭:১ নিয়ম পালনে সহায়তা করে। প্রফেসর জোয়ান কস্টা-আই-ফন্ট, এলএসই-এর স্বাস্থ্য অর্থনীতির অধ্যাপক, উল্লেখ করেছেন যে উন্নত ঘুমের আচরণ দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য এবং কল্যাণের বিনিয়োগের জন্য মৌলিক। ভাইটালিটির ডেপুটি সিইও ডঃ কেটি ট্রায়ন আরও যোগ করেছেন যে, প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট আগে ঘুমাতে যাওয়া বা একটি অতিরিক্ত পর্ব দেখার পরিবর্তে বই পড়া সময়ের সাথে সাথে ঘুমের গুণমানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য আনতে পারে।
এই গবেষণাগুলি প্রমাণ করে যে ঘুমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা একটি পরিমাপযোগ্য আচরণ, যা ব্যক্তিগত এবং সামাজিক উভয় স্তরেই স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতার উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।



