দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের জন্য ছয়টি দৈনিক অভ্যাস
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু লাভের ভিত্তি হলো ক্ষণস্থায়ী সংকল্পের পরিবর্তে সহজ, ধারাবাহিক দৈনিক অনুশীলন, যা দীর্ঘায়ু বিশেষজ্ঞরা সমর্থন করেন। এই ব্যয়-মুক্ত কৌশলগুলি শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে শক্তি ও জীবনীশক্তি বৃদ্ধি করে।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই ৫ থেকে ২০ মিনিট সূর্যের আলো গ্রহণ করা অপরিহার্য, যা সার্কাডিয়ান ঘড়িকে সঠিকভাবে ক্যালিব্রেট করে, যা ঘুম এবং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ডাঃ পি. ভেঙ্কটা কৃষ্ণন, আর্টেমিস হসপিটালের সিনিয়র কনসালটেন্ট, ইন্টারনাল মেডিসিন, উল্লেখ করেছেন যে সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সূর্যের আলোতে হাঁটা বা বসা ভিটামিন ডি উৎপাদনের জন্য কার্যকর। এই আলো কর্টিসল হরমোন কমিয়ে স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে সাহায্য করে, যা উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। খাবারের পরে ৫ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য সংক্ষিপ্ত হাঁটা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে খাওয়ার পরে মাত্র পাঁচ মিনিটের হাঁটাও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে পরিমাপযোগ্য প্রভাব ফেলে, বিশেষত খাবার পরবর্তী ৬০ থেকে ৯০ মিনিটের মধ্যে। ডাঃ অ্যান্ড্রু হাবারম্যান এবং ডাঃ কেসি মিনসের আলোচনা অনুসারে, খাবারের পরে ১০ মিনিটের হাঁটা গ্লুকোজের প্রতিক্রিয়া ৩০-৩৫% কমাতে পারে, যা ইনসুলিনের প্রতি শরীরের সংবেদনশীলতা বাড়ায়।
নাক দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করা অক্সিজেনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে 'বিশ্রাম ও হজম' অবস্থায় নিয়ে আসে। নাক দিয়ে শ্বাস নিলে নাইট্রিক অক্সাইড নিঃসৃত হয়, যা রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) বাড়াতে সাহায্য করে, ফলস্বরূপ কোষে অক্সিজেন (O2) সরবরাহ বৃদ্ধি পায়, যা ক্লান্তি ও চাপ কমাতে পারে। জেমস নেস্টরের 'ব্রেথ: দ্য নিউ সায়েন্স অফ আ লস্ট আর্ট' বই অনুসারে, নাসিকাগত শ্বাস-প্রশ্বাস প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে, যা ব্যায়ামের সময় হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। প্রাকৃতিক পৃষ্ঠে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে 'গ্রাউন্ডিং' অনুশীলন করা স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক তথ্য সীমিত, তবে এটি মানসিক প্রশান্তির একটি প্রাচীন ধারণা, যা সামগ্রিক সুস্থতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এর পাশাপাশি, মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য ধ্যান এবং গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘস্থায়ী চাপ কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করে। খাবারের সময় স্ক্রিন-মুক্ত থাকা হজম প্রক্রিয়া, পুষ্টি শোষণ এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে উন্নতি ঘটায়। স্ক্রিন থেকে দূরে থাকার এই অভ্যাসটি মনোযোগ বাড়ায় এবং খাবারের প্রতি সচেতনতা তৈরি করে। ডাঃ লক্ষ্মী হালাস্যমানি উল্লেখ করেছেন যে ছোট, পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণগুলি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে, এবং স্ক্রিন-মুক্ত খাবার গ্রহণ এই ধারাবাহিকতার একটি অংশ।
একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘুমের রুটিন প্রতিষ্ঠা করা, যার মধ্যে আলো কমিয়ে আনা অন্তর্ভুক্ত, মেলাটোনিন নিঃসরণকে অনুকূল করে এবং ঘুমের গুণমান নিশ্চিত করে। ডাঃ ভেঙ্কটা কৃষ্ণন এবং জেমি জেৎজার উভয়েই জোর দিয়েছেন যে সকালের আলো মেলাটোনিন নিঃসরণকে দমন করে সতর্কতা বাড়ায় এবং রাতে মেলাটোনিন নিঃসরণ দ্রুত শুরু হতে সাহায্য করে, যা উন্নত ঘুমের দিকে পরিচালিত করে। ডাঃ ব্রায়ান সি. মোরেস-এর মতে, ধারাবাহিক, উচ্চ-মানের ঘুম মানসিক স্বাস্থ্য, শারীরিক কর্মক্ষমতা এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য, এবং ঘুমের নিয়মিততা (একই সময়ে ঘুমানো ও ওঠা) মৃত্যুর ঝুঁকি নির্ধারণে একটি শক্তিশালী পূর্বাভাস।
এই সমস্ত অভ্যাসগুলি, যা মূলত শূন্য-ব্যয় পদ্ধতি, সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্য পরিচালনা এবং মানসিক চাপ কমানোর জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে। দীর্ঘায়ু শুধুমাত্র আয়ুষ্কালের উপর নির্ভর করে না, বরং যতটা সম্ভব সক্রিয় এবং প্রাণবন্ত জীবন যাপনের উপরও নির্ভর করে, যেমনটি ডাঃ মোরেস উল্লেখ করেছেন। ধারাবাহিকতা তীব্রতার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এবং এই সহজ দৈনিক অভ্যাসগুলি দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত।
14 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Internewscast Journal
Female Founder Collective
YouTube
BodyBio
News-Medical.Net
Oura Ring
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
