Dubai-এ অনুষ্ঠিত World Government Summit-এ একটি ভিডিও প্রতিবেদন যেখানে ইরানি প্রতিনিধিদলের পর্যটন বিষয়ে আলোচনাটি হয়েছে।
পর্যটন বিনিয়োগ ও সম্ভাবনা প্রদর্শনে দুবাই সফরে ইরানের মন্ত্রী
সম্পাদনা করেছেন: Irina Davgaleva
ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাম্প্রতিক দুবাই সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ভ্রমণ ছিল না। বরং এটি ছিল মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান পর্যটন মানচিত্রে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার এবং সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের টেকসই প্রকল্পে 'স্মার্ট' বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার একটি জোরালো প্রচেষ্টা। এই সফরের মাধ্যমে ইরান বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছে যে তারা আধুনিক পর্যটন শিল্পের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে কতটা প্রস্তুত।
ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পর্যটন এবং হস্তশিল্প মন্ত্রী সৈয়দ রেজা সালেহি আমিরি তার দুই দিনের দুবাই সফর শেষ করেছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির মাধ্যমে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর্যটন প্রকল্পে ইরানি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং যৌথভাবে এই অঞ্চলকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা। এখানে কেবল অবকাঠামো নয়, বরং হস্তশিল্প, সাংস্কৃতিক রুট এবং বিশেষ ইভেন্টের মতো পর্যটনের 'সফট পাওয়ার' বা নমনীয় শক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর্যটন খাতে যৌথ উদ্যোগের জন্য ১.৫ বিলিয়ন ইরানি তোমান (প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ মূলত দুবাইয়ের আবাসন ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং হস্তশিল্প ক্লাস্টারগুলোতে ব্যয় করা হবে। ইরান এই প্যাকেজটিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বাজারগুলোর সাথে বৃহত্তর সংযোগ স্থাপনের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
আমিরাতি অংশীদার এবং পর্যটন শিল্পের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপকদের সাথে বৈঠকে সালেহি আমিরি ইরানের বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক রূপরেখা অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরেন। তিনি লুত মরুভূমির রুক্ষ সৌন্দর্য থেকে শুরু করে কাস্পিয়ান অঞ্চলের সবুজ প্রদেশ এবং পারস্য উপসাগরের দ্বীপ রিসোর্টগুলোকে একটি একক ভ্রমণ প্যাকেজের আওতায় আনার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এটি পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দেয়।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানে ১০ লক্ষাধিক ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন এবং হাজার হাজার নিবন্ধিত ঐতিহ্যবাহী স্থান রয়েছে। এছাড়াও দেশটিতে ২২,০০০-এরও বেশি পর্যটন এলাকা এবং প্রাকৃতিক আকর্ষণ বিদ্যমান। ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহ্যের সংখ্যার দিক থেকে ইরান এই অঞ্চলে শীর্ষস্থানীয় এবং বৈশ্বিক তালিকায় প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে অবস্থান করছে, যা দেশটিকে পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।
মন্ত্রী ইরানি পর্যটনের 'নতুন জোয়ার' সম্পর্কে আলোকপাত করেন। শাহদাদের মরুভূমি ক্যাম্প থেকে শুরু করে মাকরান উপকূল এবং আবু মুসার মতো দ্বীপগুলোর উন্নয়ন এখন বিনিয়োগকারীদের মূল আকর্ষণ। এই প্রকল্পগুলো কেবল পর্যটনই বাড়াচ্ছে না, বরং শাহদাদের মতো এলাকায় স্থানীয় বেকারত্ব দূর করতেও সক্ষম হয়েছে। এই অঞ্চলগুলো এখন অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য উন্নত মানের পরিষেবা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব সমন্বয় নিশ্চিত করছে।
দুবাই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে যৌথভাবে ২,৭০০টি সক্রিয় পর্যটন প্রকল্পে ইরানের অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক হোটেল, ইকো-ক্যাম্প, ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ এবং সৃজনশীল স্থান, যা বর্তমানে বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে ইরানের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।
মন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই প্রকল্পগুলো ১,০০,০০০-এর বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং দেশের পর্যটন অবকাঠামোতে লক্ষ লক্ষ বর্গফুট জায়গা যুক্ত করবে। তেহরান বর্তমানে জাতিসংঘ পর্যটন সংস্থার (UNWTO) সাথে মিলে একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ নির্দেশিকা তৈরি করছে। পাশাপাশি কর ছাড় এবং শুল্ক হ্রাসের মতো বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করা হচ্ছে যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে এবং স্বচ্ছ নিয়মে এই বাজারে প্রবেশ করতে পারেন।
দুবাইকে ইরান তাদের হস্তশিল্প এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রদর্শনের একটি আদর্শ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করেছে। পারস্যের টেক্সটাইল, সিরামিক, গহনা এবং বিশ্ববিখ্যাত কার্পেট বুনন শিল্পকে লাক্সারি ট্যুর অপারেটর ও ডেভেলপারদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। শিরাজ থেকে শুরু করে ছোট ছোট কারুশিল্প গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই ঐতিহ্যগুলো আগামী দিনের পর্যটন রুটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই সামগ্রিক পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এশীয় পর্যটকদের, বিশেষ করে চীনকে লক্ষ্য করা। ইরান চীনকে তাদের পর্যটন খাতের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। এর ফলে দুবাই ভ্রমণে আসা পর্যটকরা এখন ইরানকেও তাদের ভ্রমণ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করছেন। সব মিলিয়ে, দুবাই সফরটি ইরানের জন্য বিনিয়োগের পরিসংখ্যান, সংস্কার এবং ইউনেস্কোর সহায়তায় নিজেদের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্ববাজারে নতুনভাবে উপস্থাপনের একটি সফল মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
উৎসসমূহ
قدس آنلاین | پایگاه خبری - تحلیلی
خبرگزاری مهر | اخبار ایران و جهان | Mehr News Agency
قطره
ویکیپدیا، دانشنامهٔ آزاد
ایرنا
خبرگزاری میراث آریا