বিড়াল কেন লিটার বক্স এড়িয়ে চলে: শারীরিক, স্বাস্থ্যবিধি এবং মানসিক চাপের কারণসমূহ

সম্পাদনা করেছেন: Katerina S.

যখন একটি গৃহপালিত বিড়াল হঠাৎ করে তার লিটার বক্স বা মলত্যাগের নির্দিষ্ট স্থানটি এড়িয়ে চলতে শুরু করে, তখন মালিকদের জন্য এটি বেশ দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এটি বোঝা অত্যন্ত জরুরি যে, বিড়াল স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন প্রাণী। তাই এই ধরনের আচরণ কোনো জেদ বা প্রতিশোধ নেওয়ার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি বিড়ালের কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার সংকেত। এই সমস্যা সমাধানের জন্য একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, যা মূলত বিড়ালের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে শুরু হয়।

বিড়ালের এই অস্বাভাবিক আচরণের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হতে পারে বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা। সিস্টাইটিস (Cystitis), মূত্রপাথর বা ইউরোলিথিয়াসিস (MKБ), অথবা পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া বিড়ালের জন্য যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। এই ব্যথার কারণে বিড়াল লিটার বক্সকে কষ্টের জায়গা হিসেবে মনে করতে শুরু করে এবং সেখানে যেতে ভয় পায়। এছাড়া বয়স্ক বিড়ালদের ক্ষেত্রে আর্থ্রাইটিস বা অস্টিওআর্থ্রাইটিস থাকলে উঁচু কিনারাযুক্ত বক্সে প্রবেশ করা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই এমন সমস্যা দেখা দিলে অবিলম্বে একজন পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা অপরিহার্য।

যদি চিকিৎসকের পরীক্ষায় কোনো শারীরিক সমস্যা ধরা না পড়ে, তবে লিটার বক্সের পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। বিড়ালরা তাদের মলত্যাগের স্থানের ব্যাপারে অত্যন্ত খুঁতখুঁতে হয়। যদি নিয়মিত বক্স পরিষ্কার না করা হয়, তবে তারা প্রাকৃতিকভাবেই অন্য কোনো পরিষ্কার জায়গা খুঁজতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে অন্তত দুইবার লিটার বক্স থেকে বর্জ্য পরিষ্কার করা উচিত যাতে পরিচ্ছন্নতার একটি গ্রহণযোগ্য মান বজায় থাকে। পাশাপাশি লিটারের ধরনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক সময় তীব্র গন্ধযুক্ত বা শক্ত দানার লিটার বিড়ালের পছন্দ হয় না, তাই সুগন্ধহীন এবং জমাট বাঁধে এমন মিশ্রণ ব্যবহার করা বেশি কার্যকর হতে পারে।

পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি লিটার বক্সের অবস্থান এবং এর গঠনও বিড়ালের আচরণের ওপর প্রভাব ফেলে। বিড়াল মলত্যাগের সময় নিরাপদ এবং নিরিবিলি পরিবেশ পছন্দ করে। তাই ব্যস্ত করিডোর বা ওয়াশিং মেশিনের মতো শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্রের পাশে বক্স রাখা বিড়ালের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের একটি প্রধান পরামর্শ হলো 'N+1' নীতি অনুসরণ করা, অর্থাৎ বাড়িতে যতগুলো বিড়াল আছে, লিটার বক্সের সংখ্যা তার চেয়ে অন্তত একটি বেশি হতে হবে। এছাড়া প্লাস্টিকের বক্সে সময়ের সাথে সাথে আঁচড়ের দাগ পড়ে এবং সেখানে জীবাণু ও দুর্গন্ধ জমে থাকে, তাই নিয়মিত বিরতিতে বক্স পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

বিড়ালের মানসিক অবস্থা তাদের টয়লেট অভ্যাসের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। নতুন বাড়িতে স্থানান্তর, পরিবারের নতুন সদস্য বা অন্য কোনো পোষা প্রাণীর আগমন, অথবা বাড়িতে দীর্ঘমেয়াদী মেরামতের কাজ বিড়ালের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আচরণ বিশেষজ্ঞরা বিড়ালের শারীরিক ও মানসিক চাহিদার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন। বিড়ালের সাথে নিয়মিত খেলাধুলা করা এবং ফেরোমন ডিফিউজার ব্যবহার করার মাধ্যমে তাদের উদ্বেগ কমানো সম্ভব, যা বাড়িতে একটি শান্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

পরিশেষে বলা যায়, বিড়ালের এই আচরণগত এবং পরিবেশগত সমস্যাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিলে সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। মালিকদের ধৈর্য এবং বিড়ালের প্রতি সংবেদনশীলতা এই সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

11 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Рамблер/женский

  • All cats soiling outside of the litter box should undergo a medical (thorough physical examination and diagnostic testing) and behavioral evaluation.

  • Mobile Pet Vet

  • Vet In Lebanon

  • ASPCA

  • Forbes

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।