কেন কুকুররা ঘরে নিজেদের বিড়ালের সাথে শান্তিতে থাকে কিন্তু বাইরে অপরিচিত বিড়াল দেখলে আক্রমণ করে: বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা

সম্পাদনা করেছেন: Katerina S.

কেন কুকুররা ঘরে নিজেদের বিড়ালের সাথে শান্তিতে থাকে কিন্তু বাইরে অপরিচিত বিড়াল দেখলে আক্রমণ করে: বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা-1

বাড়িতে কুকুর এবং বিড়াল প্রায়ই বেশ শান্তিতে বসবাস করে: তারা পাশাপাশি ঘুমায়, জায়গা ভাগ করে নেয় এবং কখনও কখনও তাদের সুন্দর সম্পর্কের কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকা হয়ে ওঠে। কিন্তু ঘরের চৌকাঠ পেরোলেই চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। যে কুকুরটি অ্যাপার্টমেন্টে বিড়ালের সাথে শান্তভাবে সহাবস্থান করে, সে-ই রাস্তায় কোনো অপরিচিত বিড়ালকে দেখলে তাড়া করতে পারে। প্রাণি প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ এবং জু-প্র্যাকটিশনার অ্যালান পেরো (Alan Peyraud) এই পার্থক্যের একটি সহজ ব্যাখ্যা দিয়েছেন: ঘর এবং বাইরের জন্য আলাদা নিয়ম কাজ করে এবং সেই সাথে সক্রিয় হয় ভিন্ন ভিন্ন প্রবৃত্তি।

কেন কুকুররা ঘরে নিজেদের বিড়ালের সাথে শান্তিতে থাকে কিন্তু বাইরে অপরিচিত বিড়াল দেখলে আক্রমণ করে: বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা-1

ঘরের ভেতরের পরিবেশ অনেক বেশি সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ। সেখানে নির্দিষ্ট সীমানা, পরিচিত নিয়ম এবং একটি অনুমেয় পরিবেশ থাকে। কুকুর একটি সামাজিক প্রাণী হওয়ায়, এই পরিস্থিতিতে বিড়াল প্রায়ই তার কাছে 'আপনজন' বা দলের সদস্য হিসেবে গণ্য হয়। অন্যদিকে, বিড়াল তার এলাকা এবং সম্পদের নিয়ন্ত্রণের ওপর বেশি নির্ভরশীল। যদি পরিবেশটি তার পরিচিত হয় এবং সে সেখানে নিরাপদ বোধ করে, তবে সে সাধারণত শান্ত এবং সহনশীল আচরণ করে। বিশেষ করে যদি শৈশব থেকেই তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, অর্থাৎ কুকুরছানা এবং বিড়ালছানা যদি ছোটবেলা থেকেই একে অপরের উপস্থিতিতে অভ্যস্ত হয়, তবে ভবিষ্যতে ভয় বা আগ্রাসনের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

ঘরের শান্তি মূলত কিছু সাধারণ বিষয়ের ওপর টিকে থাকে: প্রত্যেকের জন্য আলাদা সম্পদ থাকে, বিড়ালের জন্য পর্যাপ্ত উঁচুতে ওঠার জায়গা এবং নির্জন স্থান থাকে, আর কুকুরের জন্য থাকে স্পষ্ট নিয়ম ও স্থিতিশীলতা। কিন্তু রাস্তায় বেরোলে এই নিয়ন্ত্রণ আর থাকে না। তখন প্রাণীরা তাদের দীর্ঘদিনের অভ্যাস বা একসাথে থাকার অভিজ্ঞতার চেয়ে মৌলিক প্রতিক্রিয়ার ওপর বেশি নির্ভর করে। রাস্তায় একটি বিড়াল কুকুরের কাছে শিকার বা সীমানা লঙ্ঘনকারী হিসেবে গণ্য হতে পারে, আবার বিড়ালের কাছে কুকুর হয়ে উঠতে পারে জীবননাশের হুমকি।

বিড়ালের জন্য রাস্তা কোনো আরামদায়ক জায়গা নয়, বরং এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল যেখানে গাড়ি এবং অন্যান্য আক্রমণাত্মক কুকুরের ভয় থাকে। এমন পরিবেশে বিড়াল একই সাথে শিকারি এবং সম্ভাব্য শিকার। তাই বাইরের কুকুর তার কাছে কোনো প্রতিবেশী নয়, বরং একটি বড় হুমকি। এখান থেকেই বিড়ালের আত্মরক্ষামূলক আচরণ শুরু হয়: যেমন হিসহিস শব্দ করা, পিঠ বাঁকানো এবং নিজেকে আসলে যতটা তার চেয়ে বড় ও বিপজ্জনক দেখানোর চেষ্টা করা।

কুকুরের ক্ষেত্রে রাস্তায় অন্য এক প্রবৃত্তি কাজ করে। প্রায়ই তাদের মধ্যে তাড়া করার সহজাত প্রবৃত্তি জেগে ওঠে, যা বিশেষ করে শিকারি বা পাহারাদার জাতের কুকুরদের মধ্যে প্রবল থাকে। এই কারণেই একটি পোষা কুকুর ঘরে নিজের বিড়ালের সাথে শান্ত থাকলেও বাড়ির বাইরে অপরিচিত বিড়ালের প্রতি মারমুখী হতে পারে। এর সাথে যোগ হয় যোগাযোগের ভাষার পার্থক্য: কুকুরদের ক্ষেত্রে ৭২টি এবং বিড়ালদের ক্ষেত্রে ৫১টি যোগাযোগের সংকেত চিহ্নিত করা হয়েছে। শান্ত পরিবেশে এই পার্থক্য খুব একটা সমস্যা তৈরি না করলেও, মানসিক চাপ বা উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এই ভিন্নতা সহজেই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে। একটি প্রাণী যা সতর্কবার্তা বা দূরত্ব বজায় রাখার সংকেত হিসেবে দেয়, অন্যটি তাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরে নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞ অ্যালান পেরোর মতে, এই দুই প্রাণীর মধ্যে পরিচয় করানোর প্রক্রিয়াটি হতে হবে অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং ধাপে ধাপে। প্রথমে তাদের আলাদা নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে এবং পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে একে অপরের সাথে দেখা করানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে তাদের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

5 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Todo Noticias

  • TN

  • Adiestralo.com

  • YouTube

  • PHS/SPCA

  • Tu Mascota Guía

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।