মীরা অ্যাসেট মিউচুয়াল ফান্ড নারী অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত তাদের ব্যাপক বিনিয়োগ-কেন্দ্রিক আর্থিক সাক্ষরতা প্রচারাভিযানের জন্য ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস থেকে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এই ১৫ দিনের প্রচারাভিযানটি ২০২৬ সালের ১২ই জানুয়ারি থেকে ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর ছিল, যা বৃহত্তর বিনিয়োগকারী সচেতনতা ও শিক্ষা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছিল।
এই বিশাল কার্যক্রমটি দেশব্যাপী ৫৭২টি সুসংগঠিত আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচির মাধ্যমে ৪৫টি শহর এবং ৩২০টি কলেজে মোট ৩৯,৮৩৩ জন ছাত্রীর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল মিউচুয়াল ফান্ড সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং স্বাধীন আর্থিক সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তুত তরুণ মহিলাদের মধ্যে প্রাথমিক বিনিয়োগের অভ্যাস গড়ে তোলা। এই প্রচারাভিযানটি এমন এক সময়ে পরিচালিত হয়েছিল যখন ভারতে মহিলাদের মধ্যে আর্থিক সাক্ষরতার হার তুলনামূলকভাবে কম, যেখানে একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে মাত্র ২১% মহিলা আর্থিকভাবে সাক্ষর।
শিক্ষাদান মূলত সুসংগঠিত, সরাসরি উপস্থিতির মাধ্যমে করা হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল ছাত্রীদের সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং দায়িত্বশীল আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মৌলিক বিষয়গুলি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া। এই ধরনের সরাসরি মিথস্ক্রিয়া তরুণীদের জন্য জটিল আর্থিক ধারণাগুলি সহজে বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত যখন অনেক মহিলা ঐতিহাসিকভাবে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে দূরে ছিলেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মিউচুয়াল ফান্ড এবং ইক্যুইটিতে মহিলাদের বিনিয়োগের হার পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম, যেখানে মাত্র ৮.৬% মহিলা বিনিয়োগ করেন, বিপরীতে পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ২২.৩%।
২০২৬ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের মীরা অ্যাসেট মিউচুয়াল ফান্ডের প্রধান কার্যালয়ে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে ইন্ডিয়া অ্যান্ড এশিয়া বুক অফ রেকর্ডসের পক্ষ থেকে শ্রীমতী সীমা মানিককোথ এবং মীরা অ্যাসেট ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজারস (ইন্ডিয়া) প্রাইভেট লিমিটেড (এমএআইএমআই)-এর সিইও এবং ভাইস-চেয়ারম্যান শ্রী স্বরূপ আনন্দ মোহন্তি উপস্থিত ছিলেন। শ্রী মোহন্তি জোর দিয়েছিলেন যে প্রাথমিক আর্থিক জ্ঞান আত্মবিশ্বাস তৈরি করে, যা বৃহত্তর অর্থনৈতিক ভূমিকা পালনকারী নারীদের জন্য অপরিহার্য।
এমএআইএমআই-এর হেড - ডিজিটাল বিজনেস, মার্কেটিং অ্যান্ড কর্পোরেট কমিউনিকেশন শ্রী শ্রীনিবাস খানোলকার জানান যে, তরুণীদের বিনিয়োগ ইকোসিস্টেমে প্রবেশের আগে তাদের স্পষ্ট ধারণা দেওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল। এই স্বীকৃতি মীরা অ্যাসেট মিউচুয়াল ফান্ডের চলমান প্রচেষ্টার উপর আলোকপাত করে, যা তরুণ মহিলাদের মধ্যে বিনিয়োগ সচেতনতা জোরদার করতে নিবেদিত। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সর্বশেষ আর্থিক সাক্ষরতা সূচক অনুসারে, মাত্র ৩৩% ভারতীয় মহিলা আর্থিক সচেতনতার ন্যূনতম সীমা অতিক্রম করতে পেরেছেন, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৫৫%-এর বেশি।
ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস, যা এশিয়া বুক অফ রেকর্ডসের সাথে সংযুক্ত, এশিয়ান প্রোটোকল অফ রেকর্ডস (এপিআর) অনুসরণ করে এবং এটি ভারতের সরকারের সাথে নথিভুক্ত একটি সংস্থা। মীরা অ্যাসেটের এই ব্যাপক আউটরিচ কার্যক্রম, যা সরাসরি কলেজ স্তরে পৌঁছেছে, তা ভারতের সেই বৃহত্তর সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, যেখানে মহিলাদের মধ্যে আর্থিক জ্ঞান কম থাকার কারণে তারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ছেন। এই প্রচেষ্টাগুলি তরুণীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপন করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।



