ইয়েরমাকের বাসভবনে তল্লাশি: এনারগোঅ্যাটম ঘুষ কেলেঙ্কারির তদন্ত সম্প্রসারিত
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কির চিফ অফ স্টাফ আন্দ্রেই ইয়েরমাকের বাসভবনে ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো (NABU) এবং বিশেষ দুর্নীতি দমন প্রসিকিউটর অফিস (SAPO) যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছে। এই পদক্ষেপটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা এনারগোঅ্যাটমের সাথে জড়িত কথিত ঘুষ কেলেঙ্কারির চলমান তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণকে চিহ্নিত করে, যা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মেয়াদে শুরু হওয়া বৃহত্তম দুর্নীতি বিরোধী তদন্তগুলোর মধ্যে অন্যতম।
কিয়েভের সরকারি কোয়ার্টারে প্রায় দশজন তদন্তকারী ইয়েরমাকের বাসভবনে প্রবেশ করেন। ইয়েরমাক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তল্লাশির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে তিনি সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করছেন এবং তার আইনজীবীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এই কেলেঙ্কারির মূল অভিযোগ হলো এনারগোঅ্যাটমের বাণিজ্যিক অংশীদারদের কাছ থেকে ১০-১৫ শতাংশ ঘুষ আদায় করা, যার মাধ্যমে আনুমানিক ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই গোপন তদন্ত, যার সাংকেতিক নাম ছিল 'অপারেশন মিডাস', ১৫ মাস ধরে পরিচালিত হয়েছে এবং এর ভিত্তিতে ইতোমধ্যে আটজন সন্দেহভাজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এই দুর্নীতির অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যবসায়ী তিমুর মিন্দিচ, যিনি জেলেনস্কির পুরোনো বন্ধু এবং কোয়ার্টাল ৯৫ টিভি প্রোডাকশন কোম্পানির সহ-মালিক। মিন্দিচকে এই ষড়যন্ত্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তিনি তদন্ত শুরুর আগেই দেশ ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায়, জ্বালানি মন্ত্রী সভেতলানা গ্রিনচুক এবং প্রাক্তন জ্বালানি মন্ত্রী বর্তমানে বিচার মন্ত্রী হারমান হালুশচেঙ্কো এই মাসের প্রথম দিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
তদন্তের গভীরতা প্রকাশ পায় যখন জানা যায় যে, এই অর্থ আত্মসাতের প্রক্রিয়াটি প্রতিরক্ষা অবকাঠামো রক্ষার জন্য নির্মাণকারী ঠিকাদারদের কাছ থেকে আদায় করা ঘুষের সাথে সম্পর্কিত ছিল, ঠিক সেই সময়ে যখন ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ রাশিয়ার বোমাবর্ষণের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হচ্ছিল। তদন্তে ন্যাটো নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব রুস্তেম উমেরভকেও সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
ইয়েরমাকের বাসভবনে এই তল্লাশির সময়টি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ এটি সম্প্রতি জেনেভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইউক্রেনের উচ্চ-পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার পরপরই ঘটেছে, যেখানে ইয়েরমাক ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ইউরোপীয় কমিশন এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে, যা ইউক্রেনের দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাগুলোর সক্রিয়তা প্রমাণ করে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নে দেশটির সদস্যপদ লাভের জন্য একটি মূল শর্ত।
তদন্তে 'আলি বাবা' নামে পরিচিত এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার প্রসঙ্গ উঠে আসে, যিনি এনএবিইউ রেকর্ডিংয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এনএবিইউ গোয়েন্দাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী আইনপ্রণেতারা দাবি করেছেন যে এই 'আলি বাবা' স্বয়ং আন্দ্রেই ইয়েরমাক। যদিও ইয়েরমাক আনুষ্ঠানিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত হননি, তবুও তার পদত্যাগের জন্য অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে। রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কি প্রকাশ্যে এই কেলেঙ্কারির নিন্দা জানিয়েছেন এবং দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে ষড়যন্ত্রে জড়িত প্রত্যেকেই আইনি প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হবে।
উৎসসমূহ
The Guardian
The Guardian
Radio Free Europe
Atlantic Council
Kyiv Post
Ukrinform
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
