কারাকাস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি: ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তাদের সাথে মার্কিন সিনেট প্রতিনিধি দলের বৈঠক

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

ভেনেজুয়েলার সরকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কারাকাসে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ২০১৯ সালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর বর্তমানে এই সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেছেন। কারাকাসের মিরাফ্লোরেস প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শুরু হওয়া কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ভেনেজুয়েলার পক্ষে ডেলসি রদ্রিগেজ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক প্রতিনিধি ফেলিক্স প্লাসেনসিয়া। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লরা ডগু। উল্লেখ্য যে, এই সংলাপ এখন আর কেবল নির্বাহী বিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। এর আগে মার্কিন সিনেট প্রতিনিধি দলটি ফেডারেল লেজিসলেটিভ প্যালেসে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির চেয়ারম্যান হোর্হে রদ্রিগেজের সাথেও সাক্ষাৎ করেছেন। এই বহুমুখী যোগাযোগ উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার দৃঢ় সংকল্পকে প্রকাশ করে।

এই কূটনৈতিক সংলাপটি পূর্বনির্ধারিত একটি রোডম্যাপ অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে ডেলসি রদ্রিগেজ এবং লরা ডগুর মধ্যকার বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই প্রক্রিয়ার জন্য তিনটি ধাপের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন: স্থিতিশীলতা আনয়ন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং জাতীয় পুনর্মিলন, যা শেষ পর্যন্ত একটি গণতান্ত্রিক শাসনের দিকে ধাবিত হবে। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি মার্কিন সামরিক অভিযান এবং নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারের পর এই প্রক্রিয়াটি শুরু হয়, যার মূল লক্ষ্য হলো একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে জ্বালানি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইটের সাথে বিদ্যুৎ, খনি, গ্যাস এবং তেল খাতের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রীর মতে, ভেনেজুয়েলার তেল সরাসরি মার্কিন শোধনাগারগুলোতে সরবরাহ করা হলে পরিবহনের সময় ৪০ দিন থেকে কমে মাত্র ৫ দিনে নেমে আসবে, যা উভয় দেশের অর্থনীতির জন্যই লাভজনক। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে যাতে তারা ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং খনিজ সম্পদের সুবিধা নিতে পারে।

মার্কিন সিনেট প্রতিনিধি দলের এই সফরটি ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্টে ফেব্রুয়ারি মাসে পাস হওয়া 'অ্যামনেস্টি ল' বা সাধারণ ক্ষমা আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিরোধী দলগুলো মনে করছে যে, এই আইনটি ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উল্লেখ করেছেন যে, এই অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব কমানো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য। ২০১৯ সাল থেকে বন্ধ থাকা কারাকাসের মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালু করাও এই স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার একটি অংশ। আইনসভার এই সক্রিয় অংশগ্রহণ ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সামগ্রিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কেবল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই নয়, বরং ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কারাকাস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই সংলাপের গভীরতা নির্দেশ করে যে উভয় পক্ষই অতীতের তিক্ততা ভুলে একটি নতুন সহযোগিতামূলক অধ্যায় শুরু করতে আগ্রহী। এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, কারণ এটি দক্ষিণ আমেরিকার সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

2 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • El Universal: El UNIVERSAL

  • Contrapunto.com

  • Asamblea Nacional

  • Spanish.xinhuanet.com

  • El Tiempo

  • EL NACIONAL

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।