ইরান-উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউক্রেন উপসাগরীয় দেশগুলিতে ড্রোন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে
সম্পাদনা করেছেন: Aleksandr Lytviak
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেন সরকার কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং সৌদি আরবে সামরিক বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মঙ্গলবার, ২০২৬ সালের ১০ মার্চ এই ঘোষণা নিশ্চিত করেন, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ইউক্রেনের অপারেশনাল জ্ঞান উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া, যা তারা রাশিয়ার প্রেরিত শাহেদ ড্রোনগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করে অর্জন করেছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা মনে করেন, ইরান-নকশার ড্রোনগুলি এই অঞ্চলে বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করায় তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা বিশ্বজুড়ে অনেক দেশের কাছেই মূল্যবান। এই প্রযুক্তিগত সহায়তার বিনিময়ে ইউক্রেন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম প্রাপ্তির আশা করছে, যা তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করবে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন যে, এই সহযোগিতা একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া হওয়া উচিত; ইউক্রেন তার উন্নত ড্রোন ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তির বিনিময়ে মিত্র দেশগুলির কাছ থেকে পিএসি-২ এবং পিএসি-৩ শ্রেণীর আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি পূরণ করতে চায়। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ইউক্রেন এই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রগুলির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই বিনিময়ের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।
এই বিশেষজ্ঞ দল প্রেরণের ঘটনাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের ভিত্তিতে ঘটছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে ওয়াশিংটন ইউক্রেনের প্রমাণিত কম খরচের প্রতিরক্ষা কৌশলের ওপর আস্থা রাখছে। ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের এই মিশনের কেন্দ্রে রয়েছে ড্রোন যুদ্ধের ক্ষেত্রে তাদের উদ্ভাবনী এবং অত্যন্ত সাশ্রয়ী সমাধান। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একটি একক ইরানি শাহেদ ড্রোনের আনুমানিক মূল্য ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে, যেখানে ইউক্রেনের নিজস্ব ইন্টারসেপ্টর ড্রোনগুলি মাত্র ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ ডলারের মধ্যে তৈরি করা সম্ভব। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে কিয়েভের আশেপাশে ভূপাতিত হওয়া শাহেদ ড্রোনগুলির ৭০ শতাংশেরও বেশি ইউক্রেনের এই সাশ্রয়ী ইন্টারসেপ্টরগুলির মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছিল, যা এই পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
এই সামরিক সহযোগিতা কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগার এবং কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছিল, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞ দলগুলির উপস্থিতি উপসাগরীয় দেশগুলির আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করে এই ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় রোধে সহায়ক হতে পারে।
এই মিশনের আগে ইউক্রেন ইতোমধ্যেই মার্কিন সামরিক স্থাপনা সুরক্ষার জন্য জর্ডানে বিশেষজ্ঞ দল প্রেরণ করেছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অনুরোধে ঘটেছিল। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই সহায়তার বিষয়ে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডান এবং কুয়েতের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এই কৌশলগত পদক্ষেপ ইউক্রেনকে যুদ্ধের ময়দানে কেবল একজন সাহায্যপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং একটি সক্রিয় এবং উদ্ভাবনী নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে বিশ্ব মঞ্চে প্রতিষ্ঠা করছে। এই অভিজ্ঞতা বিনিময় বৈশ্বিক ড্রোন যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যেখানে কম খরচের প্রযুক্তি ব্যয়বহুল ব্যবস্থার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করছে।
7 দৃশ্য
উৎসসমূহ
WPTV
Kurdistan24
Ukrinform
EurAsian Times
Kyiv Post
The Guardian
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



