শীতের আগে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি স্থিতিস্থাপকতা জোরদার: লন্ডন শীর্ষ সম্মেলন

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর লন্ডনে ‘ইচ্ছাকৃত জোট’ (coalition of the willing) নামে পরিচিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অংশগ্রহণ করেন। এই উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনায় তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার এবং ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে সহ ইউরোপের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সাথে মিলিত হন। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে সর্বাত্মকভাবে শক্তিশালী করা এবং আসন্ন শীত মৌসুমের প্রাক্কালে দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রাশিয়ার পক্ষ থেকে পরিচালিত অবিরাম ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (পিভিও) দ্রুত প্রাপ্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং একই সাথে দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এর জবাবে, যুক্তরাজ্য তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ ঘোষণা করে। তারা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন দ্রুত করার পাশাপাশি পূর্বে সম্পাদিত ১.৬ বিলিয়ন পাউন্ড স্টার্লিংয়ের চুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনকে ১০০টিরও বেশি অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের ঘোষণা দেয়। এই সামরিক সহায়তা ইউক্রেনের আকাশসীমার সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক ও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি যোগাবে।

বৈঠকে জ্বালানি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। গ্যাস শিল্পকে শক্তিশালী করতে এবং শীতকালীন মাসগুলো নির্বিঘ্নে পার করার জন্য গ্যাস আমদানিতে অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। এই পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আরও প্রকট হয়েছে কারণ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার একটি বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলস্বরূপ ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ইউরোপীয় অংশীদাররা, যার মধ্যে জার্মানির ফেডারেল চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জও ছিলেন (যার সাথে জেলেনস্কি পূর্বে আলোচনা করেছিলেন), ইউক্রেনকে সমর্থন করার তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

জোটের নেতারা, যাদের সহ-সভাপতি হিসেবে স্টারমার এবং মের্জও দায়িত্ব পালন করছেন, মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদার করতে চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা স্পষ্টভাবে বলেন। ধারণা করা হয়েছিল যে, এই বৈঠকে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার কাজে জব্দকৃত রাশিয়ান সম্পদ ব্যবহারের প্রক্রিয়া সক্রিয় করার বিষয়টি উত্থাপিত হবে। ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বাড়ানোর পর গত কয়েক মাসের ঘটনাগুলো সময়মতো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষার সমালোচনামূলক গুরুত্বকে আরও বেশি করে তুলে ধরে।

লন্ডনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে, তা হলো একটি সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা, যার মধ্যে সামরিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং রাশিয়ার রপ্তানি শিল্পগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা অন্তর্ভুক্ত। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সাফল্যই নির্ধারণ করবে যে ইউক্রেন আসন্ন চ্যালেঞ্জগুলো কতটা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে এবং কীভাবে তারা বহিরাগত সমর্থনকে অভ্যন্তরীণ স্থিতিস্থাপকতার ভিত্তি হিসেবে রূপান্তর করতে পারে। এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ইউক্রেনকে প্রতিকূলতার মুখে টিকে থাকার সাহস ও শক্তি যোগাবে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।

উৎসসমূহ

  • News 4 Jax

  • Associated Press

  • Atlantic Council

  • Military.com

  • Radio Free Europe/Radio Liberty

  • KRPS

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।