মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী রাশিয়ার তথাকথিত 'ছায়া নৌবহরের' অন্তর্গত দুটি সন্দেহভাজন ট্যাংকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বুধবার, ৭ জানুয়ারি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড ক্যারিবিয়ান সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় 'M/T সোফিয়া' নামক একটি জাহাজ আটক করার ঘোষণা দেয়। তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে এই ট্যাংকারটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের পতাকা ছাড়াই 'অবৈধ কর্মকাণ্ডে' লিপ্ত ছিল।
একই দিনে, উত্তর আটলান্টিকের আইসল্যান্ড এবং ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী এলাকায় 'মেরিনের' (পূর্বের নাম 'বেলা ১') নামের আরেকটি ট্যাংকার আটক করা হয়। ইউরোপীয় কমান্ড (EUCOM) জানিয়েছে যে জাহাজটি রাশিয়ার পতাকাবাহী ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে এই আটক অভিযান চালানো হয়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় যে জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শর্তাবলী লঙ্ঘন করেছে। জানা গেছে, এই ট্যাংকারটি ভেনিজুয়েলা এবং ইরান থেকে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেল পরিবহন করছিল এবং মার্কিন কোস্ট গার্ডের তল্লাশি এড়ানোর চেষ্টাও করেছিল।
এই ট্যাংকার দুটি দখলের অভিযানটি একটি নতুন নীতির তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন প্রদর্শন করেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট নিশ্চিত করেছেন যে জাহাজটি 'মিথ্যা পতাকা' ব্যবহারের কারণে 'রাষ্ট্রবিহীন' হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। এই আটক অভিযান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতের আদেশক্রমে সম্পন্ন হয়, যেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর 'নেভি সিলস' সদস্যরা অংশ নিয়েছিল। এছাড়াও, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই অভিযানে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে 'সাউদার্ন স্পিয়ার' (Southern Spear) নামক এই অভিযানের মাধ্যমে তারা 'পশ্চিম গোলার্ধে অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ করার' মিশনে অবিচল রয়েছে। তারা আরও জোর দিয়ে বলেছে যে তারা তাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করবে এবং সমগ্র আমেরিকার ভূখণ্ডে নিরাপত্তা ও শক্তি পুনরুদ্ধার করবে। এই পদক্ষেপ স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবৈধ কার্যকলাপ দমনের ক্ষেত্রে আমেরিকার দৃঢ় অবস্থানকে তুলে ধরে।
তবে, 'মেরিনের' ট্যাংকার আটকের ঘটনায় মস্কো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রাশিয়া এটিকে সমুদ্র আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। তারা ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশনের উল্লেখ করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও অনুমোদন করেনি। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে তারা ২৪ ডিসেম্বর থেকে জাহাজটিকে রুশ পতাকার অধীনে অস্থায়ীভাবে চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচল এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে এনেছে।



