মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন টিকটকের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি কাঠামো চুক্তিতে পৌঁছেছে, যা এই জনপ্রিয় ভিডিও-শেয়ারিং অ্যাপটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেবে। এই চুক্তিটি উভয় দেশের মধ্যেকার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নীতির বৃহত্তর আলোচনার অংশ হিসেবে মাদ্রিদে সম্পন্ন হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই চুক্তির ফলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক নিষিদ্ধ হওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত এড়ানো গেছে। টিকটকের মূল সংস্থা বাইটডান্সকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কার্যক্রমের মালিকানা পরিবর্তন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এই রূপান্তরের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকলেও, চুক্তির বিস্তারিত বিষয়াবলী এখনও প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন যে, টিকটকের চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য ১৭ই সেপ্টেম্বরের সময়সীমা সামান্য বাড়ানো হতে পারে। তিনি আরও বলেন যে, এই কাঠামো চুক্তি ছাড়া সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব হতো না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শুক্রবার এই বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য কথা বলবেন বলে জানা গেছে। এই আলোচনা চলাকালীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়েছিল যে, যদি চীন বিভাজন চুক্তির অংশ হিসেবে শুল্ক এবং প্রযুক্তিগত বিধিনিষেধ সংক্রান্ত ছাড়ের দাবি থেকে সরে না আসে, তবে তারা টিকটক নিষিদ্ধ করবে। এই আলোচনাগুলিতে অর্থ পাচার এবং অবৈধ ফেন্টানাইল বাণিজ্য রোধের প্রচেষ্টাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই চুক্তিটি মার্কিন-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এটি একটি বহুল ব্যবহৃত সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে এবং একটি সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞাকে প্রতিহত করবে। যদিও চুক্তির সুনির্দিষ্ট বিবরণ এখনও অস্পষ্ট, তবে এটি উভয় দেশের মধ্যেকার উত্তেজনা প্রশমনে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে, ২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাইটডান্সকে টিকটক বিক্রি করার বা নিষিদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর মাইক্রোসফটের মতো সংস্থাগুলি এটি অধিগ্রহণের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ওরাকল এবং ওয়ালমার্টও টিকটকের মার্কিন শাখা কেনার কাছাকাছি এসেছিল, কিন্তু তা স্থগিত হয়ে যায়। ওরাকল ২০২২ সাল থেকে টিকটকের মার্কিন ক্লাউড পরিষেবা প্রদানকারী হিসেবে কাজ করছে।
এই চুক্তিটি কেবল টিকটকের ভবিষ্যৎকেই অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দেয়নি, বরং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যেকার বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককেও প্রভাবিত করবে। উভয় দেশই তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।



