ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং উজবেকিস্তানের মধ্যে বর্ধিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (EPCA) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এক নতুন কৌশলগত স্তরে উন্নীত করেছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি ২০২৫ সালের ২৪শে অক্টোবর স্বাক্ষরিত হয়, যা কেবল বাণিজ্য ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেই নয়, বরং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও গভীর সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছে। এই পদক্ষেপটি এই অঞ্চলের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন, যা সামারকান্দে অনুষ্ঠিত ইইউ-মধ্য এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনের (৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫) ধারাবাহিকতায় এসেছে।
এই নতুন চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সাইবার নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, সীমান্ত সুরক্ষা এবং হাইব্রিড হুমকির প্রতিরোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টা বৃদ্ধি করা। চুক্তিটি আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির প্রতি উভয় পক্ষের অঙ্গীকারকে পুনরায় নিশ্চিত করে এবং কার্যকর বহুপাক্ষিকতার মাধ্যমে শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার করার পথ প্রশস্ত করে। এটি ২০০৫ সালে স্বাক্ষরিত পূর্ববর্তী অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তিকে (PCA) প্রতিস্থাপন করছে, যা সম্পর্কের ত্রিশ বছরের যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন এই চুক্তি স্বাক্ষরের সময় জোর দিয়ে বলেছেন যে উজবেকিস্তান ইউরোপের জন্য একটি পছন্দের অংশীদার এবং বর্তমান বিশ্বে একে অপরের উপর নির্ভর করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে সামারকান্দে মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সাথে সম্পর্ক গভীর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং এই চুক্তি সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এই চুক্তিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বিশাল অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আঞ্চলিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।
এই নতুন আইনি কাঠামোটি কেবল রাজনৈতিক সংলাপকেই শক্তিশালী করে না, বরং এটি বেশ কিছু লাভজনক ক্ষেত্রে সহযোগিতা গভীর করার সুযোগ তৈরি করে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, গবেষণা ও উদ্ভাবন, জলবায়ু পরিবর্তন, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার। বিশেষত, এই চুক্তিটি সবুজ ও ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য অপরিহার্য কাঁচামাল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন পথ খুলে দিয়েছে, যা ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই চুক্তির মাধ্যমে ইইউ-এর 'গ্লোবাল গেটওয়ে' উদ্যোগ এবং ট্রান্স-কাস্পিয়ান পরিবহন করিডোরের মতো আঞ্চলিক সংযোগের উন্নতিতেও জোর দেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে, ইইউ-এর পক্ষ থেকে মধ্য এশিয়ার জন্য ঘোষিত ১২ বিলিয়ন ইউরোর বিনিয়োগ প্যাকেজ, যার মধ্যে কাঁচামাল উন্নয়নে ২.৫ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ রয়েছে, এই অংশীদারিত্বের ভিত্তি মজবুত করছে। ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্ট করেছে যে তাদের লক্ষ্য কেবল কাঁচামাল উত্তোলন নয়, বরং স্থানীয় শিল্প বিকাশে অংশীদার হওয়া, যাতে মূল্যবান সংযোজন স্থানীয় পর্যায়েই থাকে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। উজবেকিস্তান বর্তমানে ইইউ-এর দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং দেশটি ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-তে যোগদানের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে এই চুক্তি একটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।



