আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা সম্পন্ন
লেখক: Tatyana Hurynovich
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দুই দিনব্যাপী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনের একটি কার্যকর এবং গ্রহণযোগ্য পথ খুঁজে বের করা। যদিও বৈঠকের কোনো আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনো পর্যন্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনার গঠনমূলক প্রকৃতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। কিছু অভ্যন্তরীণ কূটনৈতিক সূত্র থেকে জানা গেছে যে, এই আলোচনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে ইতিবাচক ফলাফল অর্জিত হয়েছে যা ভবিষ্যতে বড় কোনো চুক্তির ভিত্তি হতে পারে।
২০২৬ সালের ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়। ইউক্রেনের পক্ষে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় নেতৃত্ব দেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের (SNBO) প্রধান রুস্তেম উমেরোভ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে, রাশিয়ার পক্ষে জিআরইউ-এর (GRU) ইগর কোস্তিউকভের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সামরিক প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। এই দুই দিনের কর্মসূচিতে সাধারণ অধিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট কারিগরি ও কৌশলগত বিষয়ে পৃথক আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা আলোচনার গভীরতাকে নির্দেশ করে।
আলোচনার প্রথম দিন শেষে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান রুস্তেম উমেরোভ তার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, এই বৈঠকটি মূলত যুদ্ধের সমাপ্তির সুনির্দিষ্ট প্যারামিটার বা রূপরেখা নির্ধারণের ওপর নিবদ্ধ ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একটি সম্মানজনক এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনার পরবর্তী ধাপগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত যৌক্তিক আলোচনা হয়েছে। তার মতে, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটি শান্তি অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে এবং এটি যুদ্ধের পরবর্তী লজিক বা যুক্তি নির্ধারণে সহায়ক হবে।
বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ডনবাস অঞ্চলসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক বিরোধ, বাফার জোন তৈরি এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইতিপূর্বে স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, দখলকৃত অঞ্চলগুলোর ইস্যুটি তাদের কাছে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব বহন করে এবং এর কোনো আপস হতে পারে না। অন্যদিকে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র পেসকভ ডনবাস থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহারকে শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান এবং অপরিহার্য শর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে জেনেভা এবং অ্যাঙ্কোরেজে আলোচিত শান্তি পরিকল্পনাগুলোকেও এই বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে সংশোধন ও পুনঃপর্যালোচনা করা হয়, যাতে একটি বাস্তবসম্মত সমাধানে পৌঁছানো যায়।
অ্যাক্সিওস (Axios) সাংবাদিক বারাক রাভিদ এক ইউক্রেনীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছেন যে, সামগ্রিক আলোচনা অত্যন্ত "ইতিবাচক" এবং "গঠনমূলক" পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এই ইতিবাচক আবহ পরবর্তী আলোচনার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে আবুধাবিতেই আলোচনার পরবর্তী দফা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে। বর্তমানে প্রতিনিধিদলগুলো তাদের নিজ নিজ রাজধানীতে ফিরে গিয়ে শীর্ষ নেতাদের কাছে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করবেন। বৈঠকের চূড়ান্ত ফলাফল এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে একটি নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আবুধাবির এই বৈঠকটি প্রমাণ করে যে, অত্যন্ত জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ উন্মুক্ত রাখা সম্ভব। বিশ্বনেতারা এখন পরবর্তী সপ্তাহের বৈঠকের দিকে গভীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন, যা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই আলোচনার সাফল্য কেবল তিনটি দেশের জন্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় বার্তা বহন করছে।
10 দৃশ্য
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
