প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির পর ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্ত করার পর নেসেটে ভাষণ দেন

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

২০২৫ সালের ১৩ই অক্টোবর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে চিহ্নিত করে। এই দিন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের নেসেটের (Knesset) সদস্যদের সামনে ভাষণ দেন। এই ভাষণটি সম্ভব হয়েছিল হামাসের হাতে বন্দী থাকা ২০ জন ইসরায়েলি নাগরিকের মুক্তিলাভের ঠিক পরেই। এই বন্দীরা ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর থেকে আটক ছিল, অর্থাৎ তারা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দীদশায় কাটায়। ট্রাম্পের উদ্যোগে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সাজানো একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে এই মুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এই ঘটনাটি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বহু প্রতীক্ষিত ছিল।

বিশ্বব্যাপী সংবাদ সংস্থাগুলির মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত তাঁর বক্তৃতায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন: “এটি নতুন মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহাসিক ভোর।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই মুহূর্তটি “ইসরায়েল এবং এই অঞ্চলের সকল জাতির জন্য মহান চুক্তি এবং সুদৃঢ় সম্প্রীতি”-এর সূচনা। নেসেটে ট্রাম্পের ভাষণ তাঁকে মাত্র চতুর্থ আমেরিকান নেতা হিসেবে এই বিরল সম্মান এনে দেয়। এর আগে কেবল জিমি কার্টার, বিল ক্লিনটন এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ জুনিয়র এই মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, যিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন, দৃঢ়তার সাথে বলেন যে “ইসরায়েলের জন্য যুদ্ধের বছর শেষ।” নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

এই শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে ২০ জন জীবিত জিম্মি এবং নিহতদের মৃতদেহের বিনিময়ে, ইসরায়েল শত শত ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছিল। ট্রাম্প এই সাফল্যকে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শক্তিশালী সমর্থনের ফল হিসেবে উল্লেখ করেন, যা তাঁর মতে এই অঞ্চলে শান্তির পথ প্রশস্ত করেছে। তিনি দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিই এই ধরনের চুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছে।

তবে, বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে যাত্রা এখনও বাধা-বিপত্তি মুক্ত নয়। পরবর্তী নিষ্পত্তির শর্তাবলী নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষত, হামাস ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি কেবল আংশিকভাবে গ্রহণ করেছে। গোষ্ঠীটির নিরস্ত্রীকরণের (disarmament) বিষয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার পথে একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জগুলি সত্ত্বেও, ১৩ই অক্টোবরের ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে একটি নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যার ভবিষ্যৎ গতিপথ পর্যবেক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ববাসী।

12 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • New York Post

  • ABC News

  • Al Jazeera

  • TIME

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।