স্ট্যাটিস্টিকস নিউজিল্যান্ড ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে নিউজিল্যান্ডের কর্মসংস্থান খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। এই মাসে দেশটিতে কর্মসংস্থানের সংখ্যা গত চার মাসের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৫-এর তুলনায় নভেম্বর মাসে মৌসুমি সমন্বয়কৃত ভিত্তিতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ৬,৫৬৯টি বা ০.৩ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধি ২০২৪ সালের শুরুর দিকে শুরু হওয়া দীর্ঘস্থায়ী মন্দা কাটিয়ে ওঠার একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে মোট কর্মসংস্থানের সংখ্যা ২.৩৫ মিলিয়নে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের মার্চের পর থেকে সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
যদিও মাসিক হিসেবে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, তবে বার্ষিক পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে মোট কর্মসংস্থানের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ০.৪ শতাংশ কম ছিল, যার অর্থ হলো এক বছরের ব্যবধানে নিউজিল্যান্ডের শ্রমবাজার থেকে ৯,১১৩টি কর্মসংস্থান হারিয়ে গেছে। বিভিন্ন খাতের বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, প্রবৃদ্ধি সব জায়গায় সমান নয়। প্রাথমিক শিল্প খাতে ০.৮ শতাংশ (৮৯০টি) এবং উৎপাদন খাতে ০.১ শতাংশ (৪৯০টি) মাসিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সেবা খাতেও ০.২ শতাংশ বা ৪,১২৪টি নতুন কর্মসংস্থান যুক্ত হয়েছে। তবে নির্মাণ খাতে বার্ষিক ভিত্তিতে ৩.৬ শতাংশ (৭,১৭২টি) এবং পেশাদার, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সেবা খাতে ২.২ শতাংশ (৪,১৯৮টি) কর্মসংস্থান হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আঞ্চলিক পর্যায়ে কর্মসংস্থানের এই পরিবর্তনের ধারা বেশ বৈচিত্র্যময় এবং অসম। ক্যান্টারবারি এবং ওটাগো অঞ্চলে বার্ষিক ভিত্তিতে কর্মসংস্থান ০.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেছে। এর বিপরীতে, নিউজিল্যান্ডের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র অকল্যান্ড এবং রাজধানী ওয়েলিংটনে কর্মসংস্থানের হার যথাক্রমে ০.৭ শতাংশ এবং ১.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে আশার কথা হলো, সরকারি প্রশাসন ও জননিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতগুলোতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ২.১ শতাংশ এবং ১.৮ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে কিছুটা ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে।
শ্রমবাজারের এই বর্তমান চিত্রটি নিউজিল্যান্ডের বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ২০২৫ সালের শেষভাগে রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউজিল্যান্ড (RBNZ) তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল যে, সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্তটি ভোক্তাদের ব্যয় বাড়াতে এবং শ্রমবাজারকে স্থিতিশীল করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। অর্থনৈতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বেকারত্বের হার ৫.৩ শতাংশে স্থির থাকতে পারে। এছাড়া ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এটি গত পাঁচটি প্রান্তিকের মধ্যে প্রথম বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, যা নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতিকে পূর্ববর্তী বছরের মন্দা থেকে পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
তবে এই ইতিবাচক পরিসংখ্যান সত্ত্বেও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, মাসিক কর্মসংস্থান সূচক বা মান্থলি এমপ্লয়মেন্ট ইন্ডিকেটর (MEI)-এর প্রাথমিক হিসাবগুলো প্রায়ই পরবর্তীতে সংশোধন করে কমানো হয়, যা নভেম্বরের এই প্রবৃদ্ধির স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় তৈরি করতে পারে। এই সতর্কতার পাশাপাশি কিছু দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত সমস্যাও বিদ্যমান। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালের জুন মাস নাগাদ নিউজিল্যান্ড থেকে মানুষের দেশত্যাগের হার গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার (Participation Rate) ৭০.৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের প্রান্তিকের ৭০.৫ শতাংশের তুলনায় কিছুটা কম।




